সিরিজ নির্ধারণী ম্যাচ, বলা যায় ফাইনালও। এমন লড়াইয়ে জয়ের ভিতটা গড়ে দিলেন দুই বাঁহাতি স্পিনার গুড়াকেশ মোতি ও আকিল হোসেন। তাদের দারুণ বোলিংয়ে ইংল্যান্ডকে ১৩২ রানে গুড়িয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। ছোট লক্ষ্যে পথ হারাতে বসেছিল স্বাগতিকরাও। তবে শেই হোপের সৌজন্যে ৪ উইকেটের জয় নিয়ে মাঠ ছাড়ে ক্যারিবিয়ানরা।
প্রথম দুই টি-টোয়েন্টি জিতে সিরিজ জয়ের দুয়ারে চলে যায় ওয়েস্ট ইন্ডিজ। কিন্তু পরের দুটি জিতে সিরিজ জমিয়ে তোলে ইংলিশরা। শেষ পর্যন্ত সফরকারীদের ৩-২ ব্যবধানে হারিয়ে দিল ওয়েস্ট ইন্ডিজ। এ বছর দক্ষিণ আফ্রিকা, ভারতের পর ইংল্যান্ডকে হারাল তারা, নিজেদের ইতিহাসেই প্রথমবারের মতো কমপক্ষে দুটি ম্যাচের তিনটি সিরিজ টানা জিতল ক্যারিবীয়রা।
ত্রিনিদাদে ব্রায়ান লারা স্টেডিয়ামে স্বাগতিকদেরই জয়ে বড় ভূমিকা রাখা মোতি ও আকিল মিলে ৮ ওভারে দেন মাত্র ৪৩ রান, নেন ৫ উইকেট। মোতি নেন ৩ উইকেট, আকিলের শিকার দুটি। রান তাড়ায় ৪৩ বলে ৪৩ রানে অপরাজিত থেকে দলকে জেতান হোপ।
টসে হেরে ব্যাটিংয়ে নামা ইংল্যান্ড প্রথম ধাক্কা খায় চতুর্থ ওভারে, জেসন হোল্ডারকে স্কুপ করতে গিয়ে ফাইন লেগে জস বাটলার ধরা পড়ায়। সিরিজজুড়েই রান খুঁজে ফেরা উইল জ্যাকস সফল হননি এদিনও। এরপরও পাওয়ারপ্লেতে ২ উইকেট হারিয়ে তারা ৫০ রান তোলে দুর্দান্ত ফর্মে থাকা ফিল সল্টের সৌজন্যে। তবে পাওয়ারপ্লের পরের ওভারে মোতিকে ছক্কা মারার ঠিক পরের বলে দুর্দান্ত এক ডেলিভারিতে বোল্ড হন আগের দুই ম্যাচেই শতক পাওয়া এই ওপেনার। ২২ বলে ৩৮ রান করেন তিনি।
হ্যারি ব্রুকও ফেরার পর লিয়াম লিভিংস্টোন ও মঈন আলীর জুটি মাঝে একটা ভিত এনে দেওয়ার চেষ্টা করেছিল ইংল্যান্ডকে, কিন্তু অসময়েই থামেন তারা। দুই বাঁহাতি স্পিনারের বিপক্ষে ম্যাচআপ পক্ষে আনতে ব্যাটিং অর্ডারে ভালোই এদিক-ওদিক করে ইংল্যান্ড, কিন্তু সফল হয়নি সে সব।
অল্প পুজি নিয়েও ইংলিশ বোলাররা লড়াই করেছেন ঠিকই। তাতে নেতৃত্ব দেন রিস টপলি ও আদিল রশিদ। বাঁহাতি পেসার টপলি ও টি-টোয়েন্টি র্যাঙ্কিংয়ের এক নম্বর বোলার রশিদ মিলে ৮ ওভারে মাত্র ৩৮ রান দিয়ে নেন ৪ উইকেট। পাওয়ারপ্লেতে ব্র্যান্ডন কিং ও নিকোলাস পুরানের পর মাঝের ওভারে জনসন চার্লস ও শেরফ্যান রাদারফোর্ডকে হারায় স্বাগতিকরা। কিন্তু হোপকে টলাতে পারেনি ইংল্যান্ড।
১৯তম ওভারের পঞ্চম বলে রাসেলকে থামিয়ে ইংল্যান্ডকে আরেকবার আশা দিয়েছিলেন বটে স্যাম কারেন। কিন্তু পরের ওভারের দ্বিতীয় বলে ক্রিস ওকসকে ছক্কা মেরে হোপ নিশ্চিত করেন, ৫০ ওভারের পর ২০ ওভারের সিরিজও হচ্ছে তাদেরই।
যে ম্যাচে কোনো ব্যাটসম্যানই ১৩০ স্ট্রাইক রেটে কমপক্ষে ৩০ রানও করতে পারেননি, সে ম্যাচে হোপের ১০০ স্ট্রাইক রেটের ৪৩ রানের ইনিংসই তো গড়ে দেবে পার্থক্য। ম্যাচ সেরার পুরস্কার অবশ্য ওঠে মোতির হাতে।
