নৌকার সভায় না এলে ভাতার কার্ড বাতিলের হুমকি: আ.লীগ নেতাকে তলব

আপডেট : ২২ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৬:৪১ পিএম

জামালপুর-৫ আসনে আওয়ামী লীগের সভায় অংশ না নিলে নির্বাচনের পর ভাতার কার্ড বাতিলের হুমকি দেওয়ায় লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নে দলটির সভাপতি হাতেম আলীর কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে নির্বাচনী অনুসন্ধান কমিটি।

শুক্রবার (২২ডিসেম্বর) সকালে জামালপুর-৫ (সদর) আসনে নির্বাচন কমিশনের (ইসি) গঠন করা অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান এবং যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ ফারজানা আহমেদ স্বাক্ষরিত এক চিঠিতে এই ব্যাখ্যা তলব করা হয়।

চিঠিতে উল্লেখ করা হয়, আপনি লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী গত মঙ্গলবার (১৯ডিসেম্বর) রাতে সদর উপজেলার লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নে নৌকা প্রতীকের পক্ষে একটি মিছিলের পর ভোটারদের উদ্দেশ্যে নৌকা প্রার্থী মো. আবুল কালাম আজাদের সভায় অংশ না নিলে নির্বাচনের পর ভাতার কার্ড বাতিলের হুশিয়ারী দিয়ে অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি বা পরিচালনায় বাধাগ্রস্থ ও ব্যহত করেছেন। আপনার ওই কার্য বা হুমকির বিষয়টি গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। তাছাড়াও প্রকাশিত সংবাদের একটি ভিডিও ফুটেজ রয়েছে বলেও উল্লেখ করা হয়। এমতাবস্থায়, আপনার এরূপ কার্যকলাপের পরে, আপনার বিরুদ্ধে কেন নির্বাচন কমিশন কর্তৃক ব্যবস্থা গ্রহণের সুপারিশ করা হবে না, আগামী রবিবার অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যানের কার্যালেয়ে সশরীরে হাজির হয়ে তাকে এ ব্যাপারে ব্যাখ্যা দেওয়ার নির্দেশ প্রদান করা করা হয়।

এ ব্যাপারে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী বলেন, এই সংক্রান্ত একটি চিঠি আমি পেয়েছি। আগামী ২৪তারিখে আমাকে দেখা করতে বলেছেন। আমি দেখা করে ব্যাখা দিব।

প্রসঙ্গত, গত মঙ্গলবার  (১৯ডিসেম্বর) রাতে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়নের বারুয়ামারী এলাকায় নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল কালাম আজাদের সমর্থনে একটি মিছিল বের হয়। মিছিলটি বিভিন্ন সড়ক প্রদক্ষিণ করে বারুয়ামারী বাজার এলাকায় ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের দলীয় কার্যালয়ের সামনে গিয়ে শেষ হয়। সেখানে লক্ষ্মীরচর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী বক্তব্য দেন। দলীয় নেতাকর্মী ও সাধারণ ভোটাররা এ সভায় উপস্থিত ছিলেন। মিছিলের পর ভোটারদের উদ্দেশে ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সভাপতি হাতেম আলী এ বক্তব্য দেন। হাতেম আলীর দেওয়া বক্তব্যের ২মিনিট ১০সেকেন্ডের একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তার এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন অনেকে।

ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে হাতেম আলীকে বলতে শোনা যায়, ‘শান্তিপূর্ণভাবে নির্বাচনে অংশগ্রহণ করুন, আমাদের আপত্তি নেই। কিন্তু শান্তি যদি নষ্ট করতে চান, তাহলে বিএনপি-জামায়াতের মতো আপনাদের অবস্থান হবে। আর আমি বলতে চাই, এই ১৫ বছরে যে ভাইয়েরা, বিভিন্ন ভাতার অধীনে অন্তর্ভুক্ত হয়ে চেয়ারম্যান ও মেম্বারের মাধ্যমে ভাতা ভোগ করছেন। অতি শিগগির আমাদের চেয়ারম্যান সাহেব, আপনাদের আহ্বান করবে প্রাইমারি স্কুলের মাঠে, আপনারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে সেদিন উপস্থিত হবেন। আর যদি উপস্থিত না হন, ভিডিও ফুটেজের মাধ্যমে আমরা নির্বাচনের পরে, যারা আমাদের বিরুদ্ধে থাকবেন, সব ভাতাই চেয়ারম্যান সাহেবের উপস্থিতিতে বলছি, সকল ভাতাই কিন্তু কাটা পড়ে যাবে।’

হাতেম আলী আরও বলেন, ‘আমি আপনাদের কাছে অনুরোধ রাখছি, আওয়ামী লীগ করেন, আওয়ামী লীগেরটা খাবেন, নৌকা মার্কার অর্থ ভোগ করবেন, সুবিধা ভোগ করবেন, আর এই ১০ দিনের জন্য লেমন চুস খাবেন অন্য দলের, এটা আমরা পাঁচ বছরের জন্য অন্য দলের লেমন চুস খেতে দেব না। ১০-২০ দিন যারা লেমন চুস খাবেন, তারা পাঁচ বছর লেমন চুস থেকে বঞ্চিত হবেন, কথাটা মনে রাখবেন। তাই যারা স্বতঃস্ফূর্তভাবে অংশগ্রহণ করেছেন, ধন্যবাদ জানাই। প্রতিদিন আপনারা এই অফিসের সামনে আসবেন, মিছিল নিয়ে আসবেন। যারা মিছিল নিয়ে আসবেন, নৌকার মিছিল নিয়ে এলে আপনাদের সম্মান করা হবে, আপনাদের খরচ দেওয়া হবে। আপনাদের আপ্যায়ন করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত