কুমিল্লার নাঙ্গলকোটে আট মাস ধরে বন্ধ থাকা ‘নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতাল’ নামের একটি প্রাইভেট হাসপাতাল থেকে বিভিন্ন ধরনের যন্ত্রাংশ রহস্যজনকভাবে উধাও হয়েছে। মালিকানা নিয়ে দ্বন্দ্বে তালাবদ্ধ হাসপাতালটির এসব যন্ত্রাংশ উধাও হওয়ার ঘটনাটিকে একপক্ষ ‘চুরি’ বলে অভিহিত করছেন। গত বৃহস্পতিবার বিকেলে এ রহস্যজনক চুরির ঘটনাটি জানাজানি হলে ওইদিন রাতেই থানায় দুটি লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ইয়াছিন আরাফাত ও দয়াল খোকন পক্ষ।
পুলিশ, মালিকপক্ষ ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, ২০২২ সালে বিভিন্নজনের কাছ থেকে শেয়ার নিয়ে পৌর সদরের হরিপুর গ্রামে ‘রোকেয়া স্পেশালাইজড হাসপাতাল’ নামের ওই হাসপাতালটি স্থাপন করেন ইয়াছিন আরাফাত নামের এক তরুণ। এতে প্রায় দুই কোটি টাকা ব্যয় হয় বলে দাবি আরাফাতের।
পরে গত ২৫ ফেব্রুয়ারি লেনদেন নিয়ে রোকেয়া স্পেশালাইজড হাসপাতালের অংশীজনদের মধ্যে দ্বন্দ্ব শুরু হয়। ২৮ ফেব্রুয়ারি এ নিয়ে বসে শালিস। এতে উভয়পক্ষ স্থানীয় ওয়ার্ড কাউন্সিলর নুরুল আফসার নয়নের কাছে ননজুডিশিয়াল অলিখিত স্ট্যাম্প দেন। পাশাপাশি হাসপাতালের চাবিও হস্তান্তর করেন ওই কাউন্সিলরের কাছে। পরে দয়াল খোকন নামের এক শেয়ার হোল্ডার স্ট্যাম্পগুলো তার কাছ থেকে নিয়ে রাতের আঁধারে হাসপাতালের নাম পরিবর্তন করে রাখেন ‘নাঙ্গলকোট টাওয়ার হাসপাতাল।’
এ ঘটনায় স্ট্যাম্প উদ্ধারের জন্য ইয়াছিন আরাফাত বাদী হয়ে কুমিল্লার আদালতে একটি মামলা করলে আদালত পিবিআইকে তদন্তের নির্দেশ দেয় এবং মামলার রায় আসে ইয়াছিন আরাফাতের পক্ষে। কিন্তু এসবের ফাঁকে গত ২০ ডিসেম্বর রাতে বা তার আগে হাসপাতালের মূল গেটের তালা ভেঙে সব মালামাল চুরি হয়ে যায়। আল্ট্রাসনোগ্রাম মেশিন, ইসিজি মেশিন, কম্পিউটার, বেশ কিছু প্রিন্টার, প্যাথলজির ফুল সেটআপ ও সিসিটিভি ক্যামরার মনিটর ডিভিআরসহ প্রায় সবকিছুই চুরি যায়।
এ বিষয়ে ইয়াছিন আরাফাত দাবি করেন, ‘দয়াল খোকন ভবনের মালিককে হাত করে এক রাতে হাসপাতালের নাম পরিবর্তন এবং আরেক বা কয়েক রাতে সেই হাসপাতালের সব যন্ত্রাংশ চুরি করে নিয়ে যান। এর আগে দয়াল খোকন স্থানীয় সন্ত্রাসী বাহিনী দিয়ে আমাকে হাসপাতাল থেকে বের করে দেন।’
তবে দয়াল খোকন বলেন, ‘বৃহস্পতিবার সকালে ভবন মালিক ফোন করে বলেন, হাসপাতালে চুরি হয়েছে। ধারণা করছি ইয়াছিন আরাফাত তার লোক দিয়ে ঘটনাটি ঘটিয়েছেন।’
এসব বিষয়ে নাঙ্গলকোট থানার ওসি দেবাশীষ চৌধুরী বলেন, এটা চুরির ঘটনা মনে হচ্ছে না। হাসপাতালটি নিয়ে দুপক্ষের দ্বন্দ্ব থাকায় এ ঘটনাটি হয়েছে। উভয়পক্ষই অভিযোগ দিয়েছেন। তদন্ত করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
