১৯৬৭ সালের সীমানাভিত্তিক ফিলিস্তিন রাষ্ট্র চায় রাশিয়া

আপডেট : ২৩ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:০০ এএম

গাজার চলতি সংকট নিয়ে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভøাদিমির পুতিনের সঙ্গে ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাসের ফোনালাপ হয়েছে। গতকাল শুক্রবার হওয়া এই ফোনালাপে চলতি সংঘাত নিরসনে সহযোগিতা এবং মানবিক ত্রাণ সরবরাহ নিশ্চিত করতে মস্কোর পদক্ষেপের কথা তুলে ধরেন পুতিন। এ সময় তিনি ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে সংকটের সমাধানে জোর দেন। পুতিনের সঙ্গে আবাসের ফোনালাপের দিন গতকালই জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের গাজা নিয়ে একটি প্রস্তাব ওঠার কথা, যাতে সমর্থনের বার্তা দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র।

আবার গতকাল গাজার নিয়ন্ত্রক হামাস জানায়, ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ৩৯০ জনের মতো ফিলিস্তিনিকে হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। এতে আহত হয়েছে ৭৩৪ জনের মতো। যুদ্ধবিরতির আলোচনা চলার মধ্যেই ইসরায়েল ধারাবাহিকভাবে বর্বরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

রাশিয়ার প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ক্রেমলিন থেকে বলা হয়েছে, দখলকৃত গাজা উপত্যকায় রাশিয়ার মানবিক ত্রাণ সরবরাহ অব্যাহত রাখার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন পুতিন। অন্যান্য সাহায্যের পাশাপাশি রুশ প্রশাসন ওষুধ এবং চিকিৎসা সরঞ্জামের সহায়তা পৌঁছে দেবে।

রাশিয়া-ফিলিস্তিন বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের কথা ব্যক্ত করে বিবৃতিতে আরও বলা হয়, পুতিন সংঘাত নিরসনে ১৯৬৭ সালের সীমানার ভিত্তিতে স্বাধীন ফিলিস্তিন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার কথা বলেছেন। এই লক্ষ্য সামনে রেখে ফিলিস্তিনি নেতৃত্ব যা পদক্ষেপ নেয়, রাশিয়া তাতে সমর্থন দেয়।

ফোনালাপের সময় মাহমুদ আব্বাসকে রাশিয়া সফরের আমন্ত্রণ আবারও পুনর্ব্যক্ত করেন রুশ প্রেসিডেন্ট। সুবিধাজনক সময়ে হতে পারে এই সফর।

গত ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার জবাব দিতে গাজায় বিমান ও স্থল অভিযান পরিচালনা চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। এতে ২০ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে ৫০ হাজারের বেশি। এ অবস্থায়  গাজা উপত্যকায় সহায়তা জোরদার করা নিয়ে জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে নির্ধারিত ভোটাভুটি আরও এক দিন পিছিয়ে গতকাল শুক্রবার হওয়ার কথা। বিষয়টি নিয়ে গত বৃহস্পতিবার রাতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি সমঝোতা হয়েছে। এর মধ্য দিয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাতের (ইউএই) উদ্যোগে তৈরি করা খসড়া প্রস্তাবটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে।

নিরাপত্তা পরিষদের ভেটো ক্ষমতাসম্পন্ন পাঁচ স্থায়ী সদস্যের একটি যুক্তরাষ্ট্র। ইসরায়েলের মিত্র দেশ যুক্তরাষ্ট্রের চাওয়া অনুযায়ী ওই প্রস্তাবে সংশোধনী আনা হয়েছে। ফলে ওয়াশিংটন জানিয়েছে, তারা প্রস্তাবে সমর্থন দিতে পারে। জাতিসংঘে নিযুক্ত মার্কিন দূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড বলেন, ‘এটি এমন এক প্রস্তাব যেটিতে আমরা সমর্থন দিতে পারি।’ তবে এ নিয়ে ভোটদানের বিরতও থাকতে পারে যুক্তরাষ্ট্র।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত