ফিলিস্তিনের যুদ্ধ বিধ্বস্ত গাজায় ‘মানবিক সহায়তা’ প্রবেশ বিষয়ক একটি প্রস্তাব জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে পাস হয়েছে। তবে এই প্রস্তাবের যুদ্ধবিরতির কথা না বলায় ইসরায়েলি হামলা চলতে থাকবে বলেই আশঙ্কা করা হচ্ছে। তাই এ প্রস্তাব নিয়ে নিজেদের অসুন্তষ্টি প্রকাশ করেছে ফিলিস্তিনি স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস।
সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ফিলিস্তিনের গাজায় পর্যাপ্ত ত্রাণ সরবরাহের সুযোগ করে দিতে সংঘাতে লিপ্ত সবপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের স্থানীয় সময় শুক্রবার (২২ ডিসেম্বর) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে একটি প্রস্তাব পাস হয়।
এ নিয়ে এক তাৎক্ষণিক প্রতিক্রিয়ায় টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে হামাস বলেছে, ‘গাজায় মানবিক সহায়তা বৃদ্ধির যে কথা বলা হচ্ছে, সেটি সাধারণ মানুষের প্রয়োজনীয়তা মেটাতে পর্যাপ্ত নয়। গত পাঁচদিন ধরে, যুক্তরাষ্ট্রের প্রশাসন এই প্রস্তাবটি থেকে যুদ্ধবিরতি বাদ দিয়ে ফাঁকা ও দুর্বল আকারে প্রকাশ করতে কঠোর পরিশ্রম করেছে। এটি আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের ইচ্ছার বিরুদ্ধে গেছে এবং জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ আমাদের অসহায় সাধারণ মানুষকে ইসরায়েলের আগ্রাসন থেকে বাঁচাতে যে চেষ্টা চালাচ্ছে, সেটির বিরুদ্ধে গেছে।’
বিবিসির প্রতিবেদনে মানবিক সহায়তা পৌঁছানো নিয়ে শঙ্কার কথা জানিয়েছেন জাতিসংঘের মহাসচিব অ্যান্তোনিও গুতেরেস। তিনি বলেন, গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান সহায়তা বিতরণে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করবে।
এদিকে রাশিয়া প্রস্তাবটির ভাষাগত দিক নিয়ে আপত্তি জানিয়েছে। একই আপত্তি আরব আমিরাতও জানিয়েছে। এই দুই সদস্য রাষ্ট্রের মতে অবিলম্বে যুদ্ধবিরতির কথা প্রস্তাবে বলা হলেও, পরবর্তীতে যুক্তরাষ্ট্রের চাপে ভাষায় কাটছাট হয়।
অথচ জাতিসংঘে মার্কিন রাষ্ট্রদূত লিন্ডা টমাস গ্রিনফিল্ড জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদে মধ্যপ্রাচ্যের পরিস্থিতি নিয়ে রুদ্ধদ্বার বৈঠকের পর বলেছিলেন, ‘আপনাদের এ বিষয়ে অবগত করতে চাই যে, গত সপ্তাহে সংযুক্ত আরব আমিরাত, মিসর ও ও অন্যান্যদের সঙ্গে, আমরা সমর্থনযোগ্য একটি প্রস্তাব নিয়ে কঠোর পরিশ্রম করেছি। আমরা এর পক্ষে ভোট দিতে প্রস্তুত।’
নিরাপত্তা পরিষদে গত সপ্তাহে (১৫ ডিসেম্বর) একটি খসড়া প্রস্তাব উত্থাপন করে সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রস্তাবে গাজা উপত্যকায় সংঘাত বন্ধ ও মানবিক ত্রাণ সহায়তার অব্যাহত সরবরাহ নিশ্চিত করার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে অবিলম্বে ইসরায়েলের সব জিম্মিকে মুক্তি দেওয়ার আহ্বানও জানানো হয়।
খসড়া ওই প্রস্তাবে বলা হয়, ‘গাজায় অবিলম্বে সব হামলা বন্ধ করতে হবে, বন্দিদের বিনা শর্তে মুক্তি দিতে হবে এবং গাজার সাধারণ মানুষের কাছে বিপুল ত্রাণ পৌঁছানোর ব্যবস্থা করতে হবে।’
আন্তর্জাতিক আইনের অধীনে সংঘাতের সব পক্ষকে অবশ্যই তাদের বাধ্যবাধকতা মেনে চলতে হবে তা নিশ্চিত করার কথাও খসড়ায় বলা হয়।
যুদ্ধবিরতির পক্ষে-বিপক্ষে যখন জাতিসংঘে কথা চলছে তখন ঘণ্টায় ঘণ্টায় প্রাণ ঝরছে গাজায়। গত ৪৮ ঘণ্টায় গাজায় ৪০০ জনের বেশি নিহত হয়েছে।
