প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দ্বাদশ সংসদ নির্বাচন কোনো নির্বাচন না বলে মন্তব্য করেছেন সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন) সম্পাদক বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘প্রতিযোগিতা বিবেচনায়ও এটা কোনো নির্বাচন না। নির্বাচন হতে হলে, গণতন্ত্র হতে হলে শক্তিশালী বিরোধী দল থাকবে। গণতন্ত্র মানে বহুদলীয় গণতন্ত্র। এটাকে আমি বলি ভোটাভুটির খেলা।’ গতকাল রবিবার রাজধানীর আগারগাঁওয়ে আইডিবি ভবনে ভোটার সচেতনতা ও নাগরিক সক্রিয়তা কার্যক্রম, ভোটবিডি ওয়েবসাইট সম্পর্কিত অবহিতকরণ সভায় এসব কথা বলেন সুজন সম্পাদক।
তিনি বলেন, ‘নির্বাচনে দুটো প্রধান ব্র্যান্ড। একটা আওয়ামী লীগ ও আরেকটা বিএনপি। বিএনপি তো নেই। যদি না থাকে তাহলে নিশ্চিত করে বলাই যায় আওয়ামী লীগ চাইলে সবার সঙ্গে জিতবে। কিন্তু তারা আসন ভাগাভাগি করছে কেন? অন্যদের কিছু সিট দেওয়ার জন্য। প্রতিযোগিতা হচ্ছে নিজেদের মধ্যে, নিজেদের অনুগত বা নিজেদের সৃষ্ট নামসর্বস্ব দলগুলোর সঙ্গে।’
জাতীয় পার্টির সঙ্গে আসন ভাগাভাগির বিষয়টি উল্লেখ করেন বদিউল আলম মজুমদার। তিনি বলেন, ‘একমাত্র বিরোধী দল জাতীয় পার্টির সঙ্গেও আসন ভাগাভাগি হয়েছে। তাহলে এটাতে প্রতিযোগিতা হচ্ছে না। এটা ভোটের খেলা, নির্বাচন নির্বাচন খেলা, যা নির্বাচনী সংজ্ঞায় পড়ে না।’
সুজন সম্পাদক বলেন, ‘গত যে দুটি বিতর্কিত নির্বাচন হয়েছে, যেটার কারণে সরকারের যে লেজিটিমেসি (বৈধতা/ন্যায্যতা) সমস্যা তা আরও ভয়াবহ হবে। সরকার কিন্তু এ লেজিসলেটিভ সমস্যা দূরীভূত করতে পারবে না। বরং আরও ভয়াবহ রূপ ধারণ করতে পারে। কারণ আমাদের নির্বাচনে কিন্তু আরও অনেকের চোখ আছে। অতীতে কিন্তু এ চোখ ছিল না। এ সমস্যা দূর করার জন্য আমাদের আরও বিদেশি বন্ধুদের ওপর নির্ভরশীল হয়ে পড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। যার ফলে আমাদের সার্বভৌমত্বও ক্ষুন্ন হতে পারে। বিস্তৃত বলব না, ভয়াবহ পরিস্থিতিতে যেতে পারি।’
বর্তমান নির্বাচন কমিশনের কার্যক্রম নিয়েও অনেক প্রশ্ন রয়েছে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘নির্বাচন আসন্ন, কিন্তু তাদের নিয়োগের বৈধতার প্রশ্ন কখনো যাবে না। ভবিষ্যতে ইস্যু হয়ে থাকবে। বর্তমান নির্বাচন কমিশন ইতিমধ্যে অনেক বিতর্কিত কাজ করছে। যেমন শাহজাহান ওমরের ব্যাপার, তিনি মামলার তথ্য গোপন করেছেন। যে মামলায় তিনি গ্রেপ্তার ও জামিন পেয়ে প্রার্থী হয়েছেন। সেটিই তিনি গোপন করেছেন। অথচ রিটার্নিং অফিসার বলছেন ওনার (শাহজাহান ওমর) বিরুদ্ধে তো চার্জশিট হয়নি। কিন্তু হলফনামায় তিনি মামলার তথ্য গোপন করেছেন। রিটার্নিং অফিসার পার করে দিয়েছেন। এটা খুবই বিতর্কিত কাজ। এরকম আরও অনেক বিতর্কিত কাজ তারা করেছেন।’
