দেশে এখনো শনাক্ত হয়নি করোনার নতুন ধরন

আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:২০ এএম

বিশ্বের বেশ কিছু দেশে ছড়িয়ে পড়া করোনার ওমিক্রন ধরনের একটি উপধরন ‘জিএন১’ এখনো বাংলাদেশে শনাক্ত হয়নি। তবে নতুন এই ধরনের প্রাদুর্ভাবের আশঙ্কা উড়িয়ে দিচ্ছেন না বিশেষজ্ঞরা। তারা ধারণা করছেন, আগামী ফেব্রুয়ারি-মার্চ নাগাদ বাংলাদেশেও ‘জিএন১’ দেখা দিতে পারে।

এ ব্যাপারে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণাপ্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) উপদেষ্টা ও সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. মুশতাক হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, প্রতিদিন যেসব করোনা রোগী পাওয়া যায়, তাদের নমুনার জিনোম সিকোয়েন্স হয়। কিন্তু এখন পর্যন্ত জিএন১ পাওয়া যায়নি। তবে ফেব্রুয়ারি-মার্চ মাসে পাওয়া যেতে পারে। কারণ ওই সময় গরমের কারণে বাংলাদেশে কভিড বেশি হয়।

একইভাবে আইইডিসিআরের ভাইরোলজি বিভাগের মুখ্য বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডা. জাকির হোসেন হাবিব দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘জিএন১ ওমিক্রন ধরনের একটি উপধরন। আমরা করোনার জিনোম সিকোয়েন্স করছি। কিন্তু এই ধরন এখনো ধরা পড়েনি। তবে এ দেশেও দেখা দেওয়ার আশঙ্কা আছে। কারণ পাশের দেশেই হয়েছে।’

আইইডিসিআরের বিজ্ঞানীরা জানান, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জিএন১ উপধরনটি নিয়ে বিশ^কে সতর্ক করে দিয়েছে। ইতিমধ্যেই এটি ভারত, চীন, যুক্তরাজ্য, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিশে^র ৪১টি দেশে ছড়িয়ে পড়েছে। এই ধরন বিশ্বব্যাপী দ্রুত ছড়াচ্ছে  বলে জানিয়েছে সংস্থাটি। দ্রুত ছড়ানোর কারণে এটিকে ‘ভ্যারিয়েন্ট অব ইন্টারেস্ট’ হিসেবে অভিহিত করা হয়েছে। গত নভেম্বরের শুরুতে জিএন১ ধরনে আক্রান্ত ছিল প্রায় ৩ শতাংশ। কিন্তু এক মাসে এর বিশ্বব্যাপী ছড়িয়ে পড়ার হার ২৭ দশমিক ১ শতাংশ। করোনার নতুন ধরনে আক্রান্তের সংখ্যা ফ্রান্স, যুক্তরাষ্ট্র, সিঙ্গাপুর, কানাডা, ব্রিটেন এবং সুইডেনে সবচেয়ে বেশি। এ বছরের সেপ্টেম্বরে যুক্তরাষ্ট্রে এ ধরনটি প্রথম শনাক্ত হয়।

দ্রুত ছড়ালেও সংক্রমণ মারাত্মক নয় : বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা জানিয়েছে, বর্তমানে করোনার এই ধরনের সংক্রমণজনিত স্বাস্থ্যঝুঁকি কম এবং বিদ্যমান টিকাগুলোই এ ধরন থেকে মানুষকে সুরক্ষা দেবে। তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, যেসব দেশে শীত মৌসুম শুরু হচ্ছে, সেখানে ভাইরাস ও ব্যাকটেরিয়াজনিত অন্য সংক্রমণগুলোর পাশাপাশি এ ধরনের কারণে কভিডের প্রকোপ বেড়ে যেতে পারে।

এ ব্যাপারে ডা. মুশতাক হোসেন বলেন, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা বলেছে, ধরনটি ছড়াচ্ছে দ্রুত। কিন্তু সিভিয়ারিটি মৃদু। এর কারণে আইসিইউর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে বা হাসপাতালে রোগীর সংখ্যা বেড়ে যাচ্ছে, এমনটা হয়নি এখনো। এই ধরনের সংক্রমণ অতটা মারাত্মক নয়, মৃদু।

ডা. জাকির হোসেন হাবিব বলেন, এই ধরনের সংক্রমণক্ষমতা বেশি, ছড়ায় দ্রুত। কিন্তু সিভিয়ারিটি সম্পর্কে তেমন কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। অন্য ধরনের চেয়ে বেশি প্রাণঘাতী বা জটিল এ রকম কোনো তথ্য আসেনি।

হঠাৎ শনাক্তের হার বেড়ে গেছে : পাঁচ দিন ধরে দেশে পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার কিছুটা বেড়েছে। সর্বশেষ ২০ ডিসেম্বর ৭৬০টি নমুনা পরীক্ষা করে ৫ জন রোগী পাওয়া গেছে। কেউ মারা যায়নি। পরীক্ষা অনুপাতে করোনা শনাক্তের হার ছিল শূন্য দশমিক ৬৬ শতাংশ। পরদিন শনাক্তের হার বেড়ে দাঁড়ায় ১ দশমিক ৩৫ শতাংশ। সর্বশেষ গত ২৪ ঘণ্টায় (গতকাল সোমবার সকাল ৮টা পর্যন্ত) শনাক্তের হার ছিল ২ দশমিক ৫১ এবং আগের দিন গত রবিবার ২ দশমিক ৩৮ শতাংশ।

হঠাৎ করে করোনা কিছুটা বেড়ে যাওয়ার কারণ জানতে আরও দুই সপ্তাহ পর্যবেক্ষণের পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, গত দুদিন হলো শনাক্তের হার কিছুটা বেশি। এটা দুই সপ্তাহ দেখতে হবে।

বর্তমানে বাংলাদেশে করোনা বিক্ষিপ্ত, বিচ্ছিন্নভাবে পাওয়া যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন এই বিশেষজ্ঞ। তিনি বলেন, করোনার ব্যাপারে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার ‘পাবলিক হেলথ ইমার্জেন্সি অব ইন্টারন্যাশনাল কনসার্ন’ নেই। বাংলাদেশে এখন মৌসুমি রোগে রূপ নিয়েছে। কারণ প্রতিদিনই দু-একজন করে হলেও করোনা রোগী পাওয়া যাচ্ছে। তবে বর্ষা বা গরমের সময় বাড়তে পারে। শীতের সময় এখানে করোনা খুব একটা দেখা যায় না।

স্বাস্থ্যঝুঁকি এড়াতে পরামর্শ : করোনা নতুন উপধরন জিএন১ প্রতিরোধে সতর্ক থাকার পরামর্শ দিয়েছেন ডা. মুশতাক হোসেন। তিনি বলেন, করোনার যেকোনো ধরনের মতোই জিএন১ প্রতিরোধে ধরনও একই; বিশেষ করে ঝুঁকিপূর্ণ বয়সী মানুষ ও গর্ভবতী নারী তাদের করোনার টিকা নেওয়া দরকার। সার্ভিলেন্স জোরদার রাখতে হবে। মানুষ অসুস্থ হলে হাসপাতাল ও চিকিৎসকের চেম্বারেই যাবে। সেখানে প্রতিরোধব্যবস্থাটা জোরদার রাখতে হবে। ওখান থেকে যেন না ছড়িয়ে পড়ে।

জিএন১ ধরনের প্রকোপ থেকে রক্ষা পেতে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা কিছু পরামর্শ দিয়েছে। সেগুলো হচ্ছে জনাকীর্ণ ও বদ্ধ জায়গায় মাস্ক পরা, হাঁচি ও কাশির সময় নাক ও মুখ ঢেকে রাখা, করোনা এবং টিকার নতুন নতুন তথ্য সম্পর্কে নিয়মিত খোঁজখবর রাখা, অসুস্থ হলে বাড়িতে থাকতে হবে এবং কোনো লক্ষণ দেখা দিলে শনাক্তের জন্য দ্রুত পরীক্ষা করা।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত