খরচ কমাতে গণবিবাহ বাড়ছে আফগানিস্তানে

  • দেশটিতে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের খরচ কমাতে গণবিবাহের চল এখন ঊর্ধ্বমুখী
  • ২০২১ সালে তালেবান শাসন শুরুর পর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠানে নিষিদ্ধ করা হয়েছে নাচ ও গান
আপডেট : ২৬ ডিসেম্বর ২০২৩, ০১:২৪ পিএম

দারিদ্রের কসাঘাতে জর্জরিত দেশ আফগানিস্তানে বাড়ছে গণবিবাহের অনুষ্ঠান। দেশটিতে ঐতিহ্যবাহী বিয়ের খরচ কমাতে এই পদ্ধতিতে বিয়ের চল এখন ঊর্ধ্বমুখী।

স্থানীয় সময় সোমবারও আফগানিস্তানের রাজধানীতে এক গণবিবাহ অনুষ্ঠানে ৫০টি যুগলের বিয়ে সম্পন্ন হয়েছে। তবে অনুষ্ঠানে তেমন জাঁকজমক ছিল না।

মঙ্গলবার এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানায় ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি।

২০২১ সালে আফগানিস্তানে তালেবান শাসন শুরুর পর থেকে বিয়ের অনুষ্ঠান আড়ম্বর হারিয়েছে। নিষিদ্ধ করা হয়েছে নাচ ও গান। কারণ তালেবান শাসকরা এই ধরনের ক্রিয়াকলাপকে অ-ইসলামিক বলে মনে করে থাকে।

কাবুল বিমানবন্দরের কাছে সিটি স্টার বিবাহবাড়ির সামনে প্রায় একশো পুরুষ ঐতিহ্যবাহী শালওয়াড় কামিজ ও পাগড়ি পরে দলে দলে দাঁড়িয়েছিল। সেখানে কোনও নারী উপস্থিত ছিল না।

অনুষ্ঠানটি একটি দাতব্য সংস্থা দ্বারা আয়োজিত হয়েছিল। সংস্থাটি নবদম্পতিদের তাদের বিবাহিত জীবন শুরু করার জন্য কার্পেট এবং গৃহস্থালীর যন্ত্রপাতিসহ প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সরবরাহ করেছিল।

১৮ বছর বয়সী রুহুল্লা রেয়াজি এএফপিকে বলেন, একক বিবাহ অনুষ্ঠান আয়োজন করার মতো সামর্থ্য তার নেই।

তিনি জানান, “ঐতিহ্য মেনে আলাদাভাবে একক বিয়েতে খরচ হত দুই লাখ থেকে আড়াই লাখ আফগানি (২৮০০-৩৬০০ ডলার), তবে এখন এই খরচ দাঁড়িয়েছে ১০ থেকে ১৫ হাজার আফগানি।”

এই তরুণ হাজারা শিয়া সংখ্যালঘু শ্রেণিভুক্ত। ঘোর প্রদেশের বাসিন্দা তিনি। খুচরো কাজ করে দৈনিক তার আয় মোটামুটি ৩৫০ আফগানি।

সেলাব ফাউন্ডেশন এই অনুষ্ঠানের আয়োজক। তারা প্রতিটি দম্পতিকে যে অর্থ দিয়েছে তা ১৬০০ ডলারের সমতুল্য যা বিশ্বের অন্যতম দরিদ্র দেশে একটা বড় অঙ্ক।

গণবিবাহের অনুষ্ঠানে পুণ্যপ্রচার ও পাপ-প্রতিরোধ মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা ভাষণ দেন এবং কুরআন পাঠ করা হয়।

তবে হবু বধূদের পৃথক জায়গায় দৃষ্টির আড়ালে রাখা হয়েছিল। সাংবাদিকদের তাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে দেওয়া হয়নি।

সোমবারের এই গণবিবাহের জন্য ৬০০ যুগল আবেদন করেছিল।

 

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত