দক্ষিণের তিন আসন প্রশাসনের টেনশন

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৮:২৬ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিকটেই; আগামী ৭ জানুয়ারি। নির্বাচন ঘিরে সারা দেশের মতো চট্টগ্রামেও বাড়ছে উত্তাপ-উত্তেজনা। বিভিন্ন আসনে প্রচার-প্রচারণা জমে ওঠার সঙ্গে সঙ্গে বাড়ছে শঙ্কাও। সংঘাতময় হয়ে উঠছে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা। চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলার ছয় আসনের মধ্যে বাঁশখালী, সাতকানিয়া ও পটিয়া এ তিনটি আসন নিয়ে টেনশন রয়েছে প্রশাসনে। ইতিমধ্যে এগুলোতে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের মধ্যে একাধিক সংঘর্ষ হয়েছে।

প্রার্থী তালিকা চূড়ান্ত হওয়ার পর দফায় দফায় আলোচনায় এসেছে পটিয়ার চট্টগ্রাম-১২ আসন। এ আসনের তিনবারের এমপি ও জাতীয় সংসদের হুইপ সামশুল হক চৌধুরী এবার আওয়ামী লীগের মনোনয়ন পাননি। স্বতন্ত্র প্রার্থী হয়ে ঈগল প্রতীক নিয়ে তিনি নির্বাচন করছেন। সেখানে নৌকার মনোনয়ন পেয়েছেন পদত্যাগী উপজেলা চেয়ারম্যান ও চট্টগ্রাম দক্ষিণ জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি মোতাহেরুল ইসলাম চৌধুরী।

এ আসনে আওয়ামী লীগ ও সহযোগী সংগঠনের নেতাকর্মীদের বড় একটি অংশ নৌকার পক্ষে থাকলেও ঈগলের শক্ত অবস্থান রয়েছে। প্রচারণা শুরুর পর এ পর্যন্ত কয়েক দফায় বিবাদে জড়িয়েছেন দুই প্রার্থীর কর্মী-সমর্থকরা। স্বতন্ত্র প্রার্থীর নির্বাচনী ক্যাম্প ও গাড়ি ভাঙচুরের ঘটনাও ঘটেছে। উপজেলার কচুয়াই ইউনিয়নের অলির হাট এলাকায় গত রবিবার নৌকার নারী সমর্থকদের ধাওয়া খেয়েছেন ঈগলের কর্মী-সমর্থকরা। ঝাড়ু হাতে তাদের ধাওয়া করেন বেশ কিছু নারী। ঈগলের সমর্থকরা পালিয়ে বাঁচেন। গত শুক্রবারও পটিয়া পৌরসভায় পোস্টার লাগানোকে কেন্দ্র করে মারামারি বাধলে নৌকা ও ঈগলের দুই সমর্থক আহত হন।

এ আসনে প্রধান দুই প্রার্থী ছাড়াও বাংলাদেশ ইসলামী ফ্রন্টের চেয়ারম্যান এমএ মতিন (মোমবাতি), বিএনএমের এম এয়াকুব আলী (নোঙর), ইসলামিক ফ্রন্ট বাংলাদেশের কাজী মো. জসিম উদ্দিন (চেয়ার), বাংলাদেশ কংগ্রেসের সৈয়দ মো. জয়নুল আবেদীন জেহাদী (ডাব), জাতীয় পার্টির মো. নুরুচ্ছফা সরকার (লাঙ্গল) ও তৃণমূল বিএনপির রাজীব চৌধুরী (সোনালি আঁশ) নির্বাচন করছেন।

নির্বাচন নিয়ে অস্থিরতা চলছে চট্টগ্রাম-১৫ (সাতকানিয়া-লোহাগাড়া) আসনেও। সেখানে বর্তমান এমপি আবু রেজা মোহাম্মদ নেজামুদ্দীন নদভী আওয়ামী লীগের মনোনয়নে নৌকা নিয়ে নির্বাচন করছেন। তার প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে রয়েছেন ঈগল প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী সাতকানিয়া উপজেলা পরিষদের সাবেক চেয়ারম্যান আবদুল মোতালেব। আওয়ামী লীগের অধিকাংশ নেতাকর্মী তার পক্ষে।

গত ২১ ডিসেম্বর সাতকানিয়ার চরতী ইউনিয়নে আবু রেজা নদভীর স্ত্রী রিজিয়া রেজা কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে নৌকার পক্ষে প্রচারণার সময় তাদের ওপর হামলা হয়। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন আহত হয়েছে বলে সংবাদ সম্মেলনে দাবি করেন নৌকার প্রার্থী নদভী। স্বতন্ত্র প্রার্থী আবদুল মোতালেবের নির্দেশে এ হামলা হয়েছে বলেও তিনি জানান। স্বতন্ত্র প্রার্থী মোতালেবের প্রধান নির্বাচনী এজেন্ট আ ম ম মিনহাজুর রহমান এ দাবি প্রত্যাখ্যান করে বলেন, এমপির শ্যালকের নানা অপকর্মে ক্ষুব্ধ এলাকাবাসীর রোষানলের শিকার হয়েছে তারা। এ ঘটনার জেরে বিভিন্ন এলাকায় আরও সংঘাতের আশঙ্কা করছেন স্থানীয়রা।

প্রশাসনের দৃষ্টিতে দক্ষিণ চট্টগ্রামের আরেকটি ঝুঁকিপূর্ণ আসন চট্টগ্রাম-১৬ (বাঁশখালী)। উপকূলীয় এ আসনের বর্তমান এমপি মুস্তাফিজুর রহমান চৌধুরী আবারও নৌকা প্রতীকে নির্বাচন করছেন। কিন্তু আওয়ামী লীগেরই দুই নেতা তাকে চ্যালেঞ্জ করে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নেমেছেন। তারা হলেন জেলা আওয়ামী লীগের সহসভাপতি মুজিবুর রহমান সিআইপি (ঈগল) ও আওয়ামী লীগ নেতা আবদুল্লাহ কবির লিটন (ট্রাক)। তাদের প্রচারণায় গরম বাঁশখালী।

নির্বাচন সামনে রেখে এলাকায় আনাগোনা বাড়ছে মাসলম্যান আর অস্ত্রধারীদের। প্রচারণা চালাতে গিয়ে বিভিন্ন স্থানে মুখোমুখি প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীদের সমর্থকরা। সংঘর্ষের ঘটনাও ঘটছে। ইতিমধ্যে নৌকার সমর্থকদের সঙ্গে ঈগলের সমর্থকদের বেশ কয়েকটি সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। ভোটের দিন যতই এগিয়ে আসছে, ততই এ তিন আসনে নির্বাচনী উত্তাপ বাড়ছে। দক্ষিণ চট্টগ্রামের অন্য তিনটি আসন চট্টগ্রাম-৮, চট্টগ্রাম-১৩ ও চট্টগ্রাম-১৪ নিয়ে নিয়ে খুব একটা ঝামেলা না থাকলেও উল্লিখিত তিন আসন নিয়ে টেনশন বাড়ছে প্রশাসনের।

চট্টগ্রামের জেলা প্রশাসক ও রিটার্নিং অফিসার আবুল বাশার মো. ফখরুদ্দিন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘নির্বাচন কাছে এলে নির্বাচনী এলাকায় উত্তাপ স্বাভাবিকভাবেই বাড়বে। যেসব এলাকায় প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর লোকজনের মধ্যে ঝামেলার তথ্য এসেছে, সেসব এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ও নির্বাচনী পরিবেশ ঠিক রাখতে আমাদের বিশেষ পরিকল্পনা রয়েছে। পুলিশ প্রশাসনও এ ব্যাপারে যথেষ্ট সজাগ।’

তিনি আরও বলেন, ‘ভোটের দিন যাতে ভোটাররা নির্ভয়ে ও নির্বিঘ্নে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারে তা নিশ্চিতে আমরা কাজ করে যাচ্ছি। কারও বিরুদ্ধে নির্বাচনী আচরণবিধি ভাঙার অভিযোগ উঠলে তার ব্যাপারে ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত