শোবিজ ও স্পোর্টস, এরকম গ্ল্যামার জগতে ঢুকলে নাম-যশ-খ্যাতি, অর্থের মোহ ছিন্ন করা যায় না। কিন্তু এই জগতের মোহ কাটিয়ে লরি চালক হয়ে খবরের শিরোনাম হয়েছেন মিস ইংল্যান্ডের চূড়ান্ত পর্বে লড়া মিলি এভর্যাট এবং রাগবি খেলোয়ার শ্যান্টেলি ক্রোল।
মিলি এভব়্যাট (২৩) সৌন্দর্য প্রতিযোগিতায় নাম লিখিয়ে প্রথমে মিস লিঙ্কনশায়ার হন। এরপর মিস ইংল্যান্ড–২০২২ প্রতিযোগিতার ফাইনালে পৌঁছে ফার্স্ট রানার–আপ হয়েছিলেন। সেই মিলি এখন লরি ড্রাইভার।
ব্রিটিশ ট্যাবলয়েড ডেইলি মেইলের খবর অনুযায়ী, মিলির পরিবারের নিজেদের খামার রয়েছে। করোনার সময় সঙ্কটজনক পরিস্থিতিতে ফসল এবং জিনিপত্র সরবরাহ করতে লরির চালক পাওয়া যাচ্ছিল না। ভেবেচিন্তে গত বছর লরি চালক হতে লাইসেন্সের জন্য আবেদন করেন মিলি। এই লাইসেন্স পেতে ৪৪ টন পণ্যবোঝাই লরি চালানোর ক্ষমতা থাকতে হয়। সম্প্রতি সেই লাইসেন্স হাতে পান মিলি। এরপর গ্ল্যামার জগতকে বিদায় জানিয়ে লরির চালক হওয়ার সিদ্ধান্ত নেন।
মিলি বলেন, ‘পুরুষ আধিপত্যের ইন্ডাস্ট্রিতে লরি চালিয়ে নারী হিসেবে আমার কিছু প্রমাণ করার আছে বলে মনে হয় না। কিন্তু আমি লরির স্টিয়ারিংয়ে হাত রাখলে যদি ভারী ও দক্ষতার খাতে নারীদের গ্রহণযোগ্যতা বাড়ে, তাহলে উদাহরণ হতে আপত্তি নেই।’
ইংল্যান্ড ও সুপার লিগে রাগবি খেলতেন শ্যান্টেলি ক্রোল (৩০)। কানাডায় জন্ম নেওয়া শ্যান্টেলি রাগবি খেলেছেন ৮ বছর বয়স থেকে। ইংল্যান্ডে এসে নিয়মিত রাগবি খেলার ফাঁকে ৪৪ টনের লরি চালানোয় হাত পাকিয়েছেন শ্যান্টেলি। তিনি জানান, অনুশীলন এবং খেলার ফাঁকে অবসর সময়টা তিনি কাজে লাগান লরি চালিয়ে। এই পেশায় তিনি স্বস্তি খুঁজে পেয়েছেন কারণ এখানে যথেষ্ট স্বাধীনভাবে, ইচ্ছামত সময়-সুযোগ নিয়ে কাজ করা যায়।
ডেইলি মেইল বলছে, ইংল্যান্ডে লরি চালনা পেশায় মাত্র ১ শতাংশ নারী আছে। করোনাকালে লরি চালক সংকটে বেশ ভুগেছে ইংল্যান্ড। তাই এই তারকাদের মতো নারীরা এই খাতে আরও নারীদের সম্পৃক্ত হওয়ার অনুপ্রেরণা যোগাবে।