ভারতীয় পররাষ্ট্রমন্ত্রীর মন্তব্য

'বিশ্ব রাজনীতিতে একমাত্র স্থায়ী সম্পর্ক, ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব'

আপডেট : ২৭ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৪০ পিএম

শিখ বিচ্ছিন্নতাবাদ প্রশ্নে প্রথমে কানাডা ও পরে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক শীতল হয়েছে ভারতের। উগ্রবাদী শিখ নেতা গুরপতবন্ত সিং পান্নুনকে হত্যা চেষ্টার সঙ্গে দিল্লির সম্পৃক্ততা টেনেছে ওয়াশিংটন। অথচ সাম্প্রতিক সময়ে বিজেপি-মোদি সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বেশ ভালই ঘনিষ্ঠ হচ্ছিল। কিন্তু এবার হয়তো দিল্লি বহু পুরনো-পরীক্ষিত পরম মিত্রকেই ফের স্মরণ করলো। ভারত-যুক্তরাষ্ট্রের কূটনৈতিক শীতলতার মধ্যে রাশিয়া সফরে গিয়ে পুরনো বন্ধুত্বের উষ্ণতার বার্তা দিলেন এস. জয়শঙ্কর। বললেন, ‘বিশ্ব রাজনীতিতে একমাত্র স্থায়ী সম্পর্ক হল ভারত-রাশিয়া বন্ধুত্ব।'

মঙ্গলবার রাশিয়ায় বসবাসরত ভারতীয়দের এক অনুষ্ঠানে এ মন্তব্য করেন ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী। জয়শঙ্কর বলেন, ‘ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক অনেক দিক দিয়েই অভাবনীয়। যদি আমরা গত ৬০, ৭০ বা ৮০ বছরের দিকে তাকাই, বিশ্বের বড় বড় দেশগুলির পারস্পরিক সম্পর্কের সমীকরণে ওঠা-পড়া লেগেই  থেকেছে। রাশিয়া এবং চীন, রাশিয়া এবং আমেরিকা, রাশিয়া এবং ইউরোপ, ভারত ও চীন, ভারত ও আমেরিকা। অনেক সময়ই দুই দেশের সম্পর্ক ভালো থেকেছে তো আবার কখনও খারাপ থেকেছে। সব ক্ষেত্রেই দুই দেশের মধ্যে টানাপোড়েন দেখা গিয়েছে, আবার ভাল অনেক স্মৃতিও আছে। তবে এতবছর ধরেও ভারত ও রাশিয়ার সম্পর্ক স্থায়ী থেকেছে। ৫০-এর দশক থেকেই ভারত ও রাশিয়ায় অনেক পরিবর্তন এসেছে। আগে সোভিয়েত ইউনিয়ন ছিল। তা ভেঙে রাশিয়া হয়েছে। ভারতও অনেক উন্নতি করেছে। তবে দিল্লি আর মস্কোর সম্পর্ক একই রকম থেকেছে।'

দুই দেশের বন্ধুত্বের বন্ধনের সাম্প্রতিক নজির তুলে ধরে তিনি বলেন, ‘প্রতিরক্ষা থেকে মহাকাশ এমনকী পরমাণু ক্ষেত্রে কোনও দেশ এমন দেশকেই সাহায্য করে যাদের ওপর উচ্চ পর্যায়ে ভরসা আছে। আর ভারত ও রাশিয়ার মধ্যে এই সব ক্ষেত্রে পারস্পরিক সহযোগিতা রয়েছে।'

উল্লেখ্য, ভারতের প্রতিরক্ষাখাতে ব্যবহৃত যুদ্ধবিমান থেকে ট্যাঙ্কের একটা বড় অংশ রাশিয়া থেকে প্রাপ্ত। কয়েক বছর আগে রাশিয়া থেকে এস৪০০ মিসাইল সিস্টেমও কেনে ভারত। এই ক্ষেপণাস্ত্র যাতে রাশিয়া থেকে ভারত না কেনে, তার জন্য ওয়াশিংটন অনেক চাপ দিয়েছিল দিল্লির ওপর। এমনকী সরাসরি নিষেধাজ্ঞা জারির হুঁশিয়ারিও দিয়েছিল। তবে ভারত তাতে টলেনি। এমনকি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ছাড়ে রাশিয়া থেকে তেল কিনছে ভারত। ইউরোপ, আমেরিকার চাপের মুখেও নিজেদের অবস্থান থেকে এতটুকু সরেনি দিল্লি।

জয়শঙ্কর জানান, জি২০ সম্মেলনে ভারতের সভাপতিত্বে রাশিয়া অনেক সহযোগিতা করেছে। আগামী বছর ব্রিকস-এ রাশিয়ার সভাপতিত্বকে ভারত সমর্থন করবে।

প্রসঙ্গত, জয়শংকর গত সোমবার মস্কোতে পৌঁছান। আজ বুধবার রুশ পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে তার। চারদিনের সফর শেষে বৃহস্পতিবার দেশে ফিরবেন তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত