নৌকার কর্মীদের পিটুনিতে স্বতন্ত্র হাসপাতালে

৮ আসনে সহিংসতায় আহত ৩৭

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:১৬ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, প্রচার-প্রচারণা ঘিরে ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে বিভিন্ন নির্বাচনী এলাকা। প্রতিদিনই ঘটছে প্রচার-প্রচারণায় বাধা, হামলা, হুমকি, কর্মীদের মারধর, নির্বাচনী কার্যালয়ে আগুন, ভাঙচুরসহ সহিংস বিভিন্ন ঘটনা। এরই ধারাবাহিকতায় গত মঙ্গলবার রাত থেকে গতকাল বুধবার সন্ধ্যা পর্যন্ত আটটি সংসদীয় এলাকায় সহিংসতার খবর পাওয়া গেছে। এসব ঘটনায় আহত হয়েছে অন্তত ৩৭ জন।

এর মধ্যে জয়পুরহাট-২ আসনে নৌকার প্রার্থীর কর্মীদের পিটুনিতে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন স্বতন্ত্র প্রার্থী। গত মঙ্গলবার সন্ধ্যায় ক্ষেতলালের ইটাখোলা বাজারে এ ঘটনা ঘটে। প্রচারণার সময় নৌকার প্রার্থী কেন্দ্রীয় আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক ও জাতীয় সংসদের হুইপ আবু সাঈদ আল মাহমুদ স্বপনের সমর্থক এবং কাঁচি মার্কার স্বতন্ত্র প্রার্থী ও জেলা আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক গোলাম মাহফুজ চৌধুরী অবসরের সমর্থকদের মধ্যে সেখানে সংঘর্ষ হয়। এতে উভয় পক্ষের পাঁচজন আহত হয়েছেন।

জামালপুর সদর আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থী রেজাউল করিম রেজনুর প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুরের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় আলম হোসেন নামে স্বতন্ত্র প্রার্থীর এক সমর্থকের বাড়িতে হামলা ও অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে।

মঙ্গলবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার বাঁশচড়া ইউনিয়নের কাশারুপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। ভুক্তভোগী আলম হোসেন স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাশারুপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়কেন্দ্র কমিটির যুগ্ম আহ্বায়ক। এ ঘটনায় তিনজন আহত হয়েছেন।

অন্যদিকে একই আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থীর বিরুদ্ধে নৌকার প্রচারকেন্দ্র ভাঙচুর ও অগ্নিসংযোগের অভিযোগ উঠেছে। এ সময় নৌকার প্রার্থীর ছয় সমর্থক আহত হন। গতকাল বুধবার দুপুরে সদর উপজেলার শাহবাজপুর ইউনিয়নের দক্ষিণ কৈডোলা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।

লালমনিরহাট-৩ (সদর) আসনে নৌকা প্রতীকের সমর্থকদের হামলায় জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের ১৪ নেতাকর্মী আহত হয়েছেন বলে অভিযোগ উঠেছে। গতকাল দুপুরে লালমনিরহাট শহরের আলোরুপা মোড়ে জাতীয় পার্টির জেলা কার্যালয়ের সামনে এ ঘটনা ঘটে। তবে লালমনিরহাট পৌর আওয়ামী লীগ সভাপতি মোফাজ্জল হোসেন অভিযোগ অস্বীকার করে বলেন, ‘তারা দোকানদার-দোকানদারে মারামারি করেছে। এটির সঙ্গে আওয়ামী লীগের কোনো সম্পৃক্ততা নেই।’

গাজীপুরের শ্রীপুরে নৌকার নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দিয়েছে দুর্বৃত্তরা। মঙ্গলবার মধ্যরাতে গাজীপুর-৩ আসনের গোসিংগা ইউনিয়নের বেড়াবাড়ি গ্রামে এ ঘটনা ঘটে। টের পেয়ে রাতেই আশপাশের লোকজন আগুন নেভান।

বাগেরহাট-৩ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীর সমর্থকদের হামলায় নৌকা প্রতীকের চার কর্মী আহত হয়েছেন। মঙ্গলবার সন্ধ্যায় মোংলা উপজেলার সুন্দরবন ইউনিয়নের ৪ নম্বর ওয়ার্ডের কাটাখালী এলাকার চায়না মার্কেটের একটি চায়ের দোকানে এই হামলার ঘটনা ঘটে। এই আসনে নৌকার প্রার্থী হাবিবুন নাহার। তার সঙ্গে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন আওয়ামী লীগের বিদ্রোহী স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ ইদ্রিস আলী।

ফরিদপুর-৩ (সদর) আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী শামীম হকের নির্বাচনী ক্যাম্পে আগুন দেওয়া হয়েছে। মঙ্গলবার রাতে আলিয়াবাদ ইউনিয়নের পাটপাশা এলাকায় এ ঘটনা ঘটে। রাতে কে বা কারা নৌকার ক্যাম্পে আগুন ধরিয়ে দেয়। আওয়ামী লীগের অভিযোগ, স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের সমর্থকরা ক্যাম্পটি পুড়িয়ে দেয়। অন্যদিকে গতকাল ভোরে পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের পশ্চিম গঙ্গাবর্দী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সামনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এ কে আজাদের একটি নির্বাচনী ক্যাম্প পুড়িয়ে দিয়েছে দুর্বৃত্তরা।

মুন্সীগঞ্জ জেলা সদরের দুটি স্থানে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী মো. ফয়সাল বিপ্লবের (কাঁচি প্রতীক) ৪ সমর্থককে পিটিয়ে জখম করার অভিযোগ পাওয়া গেছে। গতকাল দুপুরে সদর উপজেলার মোল্লাকান্দি ইউনিয়নের মুন্সীকান্দি গ্রামে ১ সমর্থক এবং মহাকালী ইউনিয়নের তালেশ্বর ৩ সমর্থক পিটিয়ে আহত করার এ অভিযোগ পাওয়া যায়। এর জন্য এ আসনের আওয়ামী লীগ প্রার্থী অ্যাডভোকেট মৃণাল কান্তি দাসের সমর্থকদের দোষারোপ করা হয়েছে।

ঢাকার সাভারে স্বতন্ত্র প্রার্থী তালুকদার মোহাম্মদ তৌহিদ জং মুরাদের সমর্থক আজিজুল মণ্ডলকে (২৬) মারধরের অভিযোগ উঠেছে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মোহাম্মদ সাইফুল ইসলামের সমর্থকদের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় থানায় মামলা হলে মঙ্গলবার রাতে অভিযান চালিয়ে মো. আলমগীর হোসেন ও মো. জাহাঙ্গীর হোসেন নামে দুজনকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।

সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত