দুটো গুলি ফুটলি তো তুই পলাবি

আপডেট : ২৮ ডিসেম্বর ২০২৩, ০২:৩৪ এএম

খুলনা-৫ (ফুলতলা-ডুমুরিয়া) আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী, জেলা আওয়ামী লীগ নেতা ও সদ্য পদত্যাগকারী ফুলতলা উপজেলা চেয়ারম্যান শেখ আকরাম হোসেন ওই আসনের নৌকার প্রার্থীর দুই সমর্থক ‘গুলি’ ভয় দেখিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিয়েছেন। গত মঙ্গলবার রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল বালিকা বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী সভায় নৌকার প্রার্থী নারায়ণ চন্দ্র চন্দের সমর্থক দুই ভাইকে উদ্দেশ্য করে বলেছেন, ‘দুটো গুলি ফুটলি তো তুই পলাবি।’

গতকাল বুধবার আকরামের বক্তব্যের ওই ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে। তাতে দেখা যায়, সভায় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে আকরাম বলছেন, ‘কেউ পার পাবে না। আজকে বলে আসছি-ওই সালাম, কালাম দুজনকেই। সময় দিয়ে গেলাম তিন দিন। নারান বাবু কেন, তোদের বাপও তোকে বাঁচাতে পারবে না। তুই আমাকে চিনিস না, আজকে যেহেতু নির্বাচন করতে আইছি, করছি, সবাই মিলেই করছি, জনগণ যাকে চায় সেই নির্বাচিত হবে। আরে কারে ভয় দিচ্ছিস দুটো গুলি ফুটলি তো তুই পলাবি।’

এই বক্তৃতা চলাকালে উপস্থিত নেতাকর্মীদের হাততালি দিতে দেখা যায়। এই বক্তব্য সোশ্যাল মিডিয়ায় ছড়িয়ে পড়ার পর খুলনা-৫ আসনের মানুষের মধ্যে আতঙ্ক সৃষ্টি হয়েছে।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, গত মঙ্গলবার রাতে ডুমুরিয়া উপজেলার রুদাঘরা ইউনিয়নের মিকশিমিল বালিকা বিদ্যালয় মাঠে একটি নির্বাচনী সভায় স্বতন্ত্র প্রার্থী শেখ আকরাম হোসেন বক্তৃতা করছিলেন। বক্তৃতার একপর্যায়ে উত্তেজিত হয়ে তিনি ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান গাজী এজাজ আহমেদ ও স্থানীয় ইউপি চেয়ারম্যান তৌহিদুজ্জামানের দুই চাচা গাজী সালাম ও গাজী কালামকে উদ্দেশ্য করে ওই বক্তব্য দেন। গাজী সালাম ও গাজী কালাম ডুমুরিয়া উপজেলার সাবেক চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সাবেক ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক গাজী আব্দুল হাদীর ভাই। তারা আওয়ামী লীগের প্রার্থী বর্তমান সংসদ সদস্য নারায়ণ চন্দ্র চন্দের নৌকা প্রতীকের পক্ষে নির্বাচন করছেন।

এ ব্যাপারে ডুমুরিয়া উপজেলা চেয়ারম্যান ও জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য গাজী এজাজ হোসেন বলেন, স্বতন্ত্র প্রার্থী আকরাম হোসেন আমাকে ও আমার ভাই ইউপি চেয়ারম্যান গাজী তৌহিদুজ্জামানকে শাসাতেই আমাদের চাচাদের নাম ধরে হুমকি দিয়েছেন। এ ঘটনার পর আমরা চরম আতঙ্কের মধ্যে রয়েছি।

এদিকে আচরণবিধিতে দেয়াল লিখন নিষিদ্ধ হলেও খুলনা জেলা আওয়ামী লীগের সদস্য ও আবাসন ব্যবসায়ী আজগর বিশ্বাস তারা ওরফে তারা বিশ্বাস নগরীর বিভিন্ন দেয়ালে রঙ-তুলি দিয়ে লিখে নৌকার পক্ষে ভোট চেয়েছেন। এ অপরাধে গত মঙ্গলবার দৌলতপুর থানা নির্বাচন কর্মকর্তা মহানগর হাকিমের আদালতে মামলা করেন। নির্বাচন কর্মকর্তা অঞ্জন সরকার বলেন, অভিযুক্তের বিরুদ্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচন আচরণবিধিমালার ৯ বিধির ক ও খ উপ-বিধি লঙ্ঘনের অভিযোগ ওঠে। তদন্তে সত্যতা পাওয়া যায়। পরে গত ২৪ ডিসেম্বর নির্বাচন কমিশন থেকে আমাকে অভিযুক্তের বিরুদ্ধে মামলার নির্দেশ দেওয়া হয়। আগামী ৩ জানুয়ারি শুনানির দিন ধার্য রয়েছে।

নির্বাচনী বিধি ভাঙার অভিযোগ উঠেছে খুলনা-৪ (আড়ংঘাটা ও যোগীপোল ছাড়া দিঘলিয়া, রূপসা ও তেরখাদা) আসনের নৌকার প্রার্থী আব্দুস সালাম মুর্শেদীর বিরুদ্ধে। তার বিরুদ্ধে অভিযোগ, নির্ধারিত মাপের সাদা-কালো পোস্টার ও ব্যানারের পরিবর্তে অতিরিক্ত মাপের রঙিন পোস্টার ও ব্যানার ব্যবহার করেছেন তিনি। এ ছাড়া গত মঙ্গলবার নৈহাটি ইউনিয়নের ৮ নম্বর ওয়ার্ডসহ রূপসা উপজেলার বিভিন্ন সড়কে বাস, ট্রাক, মোটরসাইকেলযোগে মিছিল ও শোডাউন করে সাধারণ জনগণের চলাচলের পথে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করেন তিনি। এসব বিষয় নিয়ে বৃহস্পতিবার মুর্শেদীকে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন ডুমুরিয়া সিনিয়র সহকারী জজ আদালতের বিচারক ও নির্বাচন অনুসন্ধান কমিটির চেয়ারম্যান বেগম তানিয়া সুলতানা লিপি।

একই আসনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কার্যালয়ে স্বতন্ত্র প্রার্থী এস এম মোর্তজা রশিদী দারার বিরুদ্ধেও হুমকির অভিযোগ উঠেছে। দিঘলিয়া উপজেলার ২ নম্বর বারাকপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান গাজী সাহগীর হোসেন পাভেলের অভিযোগ, এস এম মোর্তজা রশিদী দারা বারাকপুর ইউনিয়নে গণসংযোগকালে তার নাম উল্লেখ করে অকথ্য ভাষায় গালাগাল ও হত্যার হুমকি দেন। এমন কর্মকা- নির্বাচন আচরণবিধির লঙ্ঘন। তাই দারার বিরুদ্ধে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি চান তিনি।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত