সখীপুরে ভাতাভোগীরা প্রতারকের খপ্পরে

আপডেট : ৩১ ডিসেম্বর ২০২৩, ০৩:০৪ এএম

টাঙ্গাইলের সখীপুর উপজেলায় প্রতারকরা বয়স্ক, বিধবা ও প্রতিবন্ধী ভাতার টাকা হাতিয়ে নিচ্ছে। প্রতারকরা নগদ, বিকাশ কিংবা সমাজসেবা অফিসের কর্মকর্তা পরিচয়ে ফোনে, কৌশলে জেনে নিচ্ছে ভাতাভোগীদের পাসওয়ার্ড। এরপরেই টাকা উধাও। ইতিমধ্যে তিন শতাধিক কার্ডধারী ব্যক্তি এ ব্যাপারে উপজেলা সমাজসেবা কার্যালয়ে বিষয়টি জানিয়েছেন।

কার্ডধারী একাধিক ভুক্তভোগীর পরিবার জানিয়েছে, সমাজসেবা অফিসের লোক পরিচয় দিয়ে এবং ভাতার টাকা দ্বিগুণ করার প্রলোভন দেখিয়ে তাদের হিসাব নম্বরের গোপন পাসওয়ার্ড নিয়ে নেয় প্রতারকরা।

সমাজসেবা অফিস সূত্রে জানা যায়, ভাতা জমা হওয়ার কয়েকদিন আগে থেকে ভাতাভোগীর মোবাইল ফোনে একটি ওটিপি (ওয়ান টাইম পাসওয়ার্ড) নম্বর পাঠায় প্রতারকরা। এরপর ওই ভাতাভোগীর ফোনে কল করে হিসাব নম্বরের পাসওয়ার্ড চায়। প্রথমেই প্রতারকরা সমাজসেবা অফিসের পরিচয় দেয়। এরপর ভাতার টাকা বেশি পাইয়ে দেবে বলে প্রলোভন দেখায়। পাসওয়ার্ড না দিলে ভাতা বন্ধ করে দেওয়ারও ভয় দেখায় বলে একাধিক কার্ডধারীর অভিযোগ করেছেন। অসচেতনতার কারণেই সহজ-সরল মানুষরা প্রতারকদের খপ্পরে পড়ছেন।

পৌরসভার ২ নম্বর ওয়ার্ডের শারিয়াত নামের এক প্রতিবন্ধীর অভিভাবক বলেন, ‘এক লোক ফোন করে বলল আপনার নম্বরে একটি পিন নম্বর গেছে, নম্বরটি বলেন। না বললে আগামী মাসে কোনো টাকা জমা হবে না। ভয় পেয়ে পিন নম্বরের স্থলে পাসওয়ার্ড বলে দিছি, তারপর দেখি মোবাইলে জমা পাঁচ হাজার টাকার কোনো হদিস নাই। সেই নম্বরে ফোন দিলাম কিন্তু এখন পর্যন্ত ওই নম্বর বন্ধ।’

পৌরসভার রামখা এলাকার বয়স্ক ভাতার কার্ডধারী ইলিমজান বলেন, ‘এক টাউট উপজেলা অফিসের পরিচয় দিয়ে বলল, আপনার ভাতা কার্ডে সমস্যা হয়েছে। তাই মোবাইলের পিন নম্বর অথবা পাসওয়ার্ড দিন। বিশ্বাস করে পাসওয়ার্ড দিলাম, তারপর দেখি আমার মোবাইলে বয়স্ক ভাতার ১৮০০ টাকা নেই।’

কাউন্সিলর পারুল আক্তার বলেন, ‘হিসাব খোলা মোবাইল নম্বর হ্যাক করে ভাতার টাকা নেওয়া একটি চক্র সখীপুরের অনেক মানুষের ক্ষতি করছে। এক সপ্তাহের মধ্যে পৌরসভার ১, ২ ও ৩ নম্বর ওয়ার্ডের ৪১টি ভাতা কার্ডের মোবাইল নম্বর পরিবর্তনের আবেদন নিয়ে আসছি। অন্যদের সচেতন করে দিচ্ছি। তারপরেও মানুষ হ্যাকারের খপ্পরে পড়েই যাচ্ছে।’

উপজেলা সমাজসেবা কর্মকর্তা মো. মনসুর আহমেদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘সঠিক সময়ে ভাতাভোগীদের মোবাইলে টাকা পৌঁছে যাচ্ছে। বিষয়টি চমৎকার। তবে প্রতারকদের দৌরাত্ম্যে আমাদের সুনাম নষ্ট হচ্ছে। সমাজসেবা কার্যালয় প্রশ্নবিদ্ধ হচ্ছে। গত এক সপ্তাহে ৭০ শতাংশ ভাতাভোগী প্রতারকদের ফোন পেয়েছেন। আর প্রতারণার শিকার হয়েছেন ১০ থেকে ১৫জন। ইতিমধ্যে মোবাইল হ্যাক করে ভাতার টাকা নিয়ে যাওয়ার বিষয়ে ইউপি চেয়ারম্যানদের দায়িত্বে প্রত্যেক এলাকায় মাইকিং করা হয়েছে। উপজেলার প্রতি মাসের সমন্বয় সভায় সবাইকে জানিয়ে দেওয়া হচ্ছে। তারপরেও অনেকে মোবাইলের পাসওয়ার্ড বলে দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।’     

সখীপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ইউএনও) মোহাম্মদ হোসেন পাটওয়ারী দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভুক্তভোগীদের দু-একজন আমাকে বিষয়টি জানিয়েছেন। ভাতাভোগীরা যেন পিন নম্বরগুলো কারও সঙ্গে শেয়ার না করে, এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত