দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণার শেষ সময়সীমা আর মাত্র পাঁচ দিন। এরই মধ্যে ফেনী-৩ (সোনাগাজী, দাগনভূঞা) আসনে জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের প্রার্থী লে. জেনারেল (অব.) মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী এমপি সস্ত্রীক ওমরাহ হজ পালনে দেশ ছেড়েছেন। গত শনিবার সকালে সৌদি আরবের উদ্দেশে রওনা হন লাঙ্গল প্রতীকের এ প্রার্থী।
নির্বাচনের ডামাডোলের মধ্যেই দেশত্যাগ করায় প্রচারণাসহ নির্বাচনের নানান দিক নিয়ে এলাকায় ও স্থানীয় আওয়ামী লীগ এবং জাতীয় পার্টিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে। মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর ওমরাহ হজে যাওয়ার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন সোনাগাজী উপজেলা জাতীয় পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক জাহিদুল ইসলাম। তিনি জানান, ওমরাহ পালন শেষে ১ জানুয়ারি (আজ সোমবার) রাতে দেশে ফিরে যথারীতি গণসংযোগসহ নির্বাচনী সব কর্মকা- চালিয়ে যাবেন।
এদিকে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীর অনুপস্থিতিতে তার পক্ষে ঢিলেঢালা নির্বাচনী কর্মকা- চালু রেখেছেন স্থানীয় আওয়ামী লীগ ও জাতীয় পার্টির নেতাকর্মীরা। নির্বাচনী প্রচারণার শুরুতে জেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক নিজাম উদ্দিন হাজারী এমপি লাঙ্গল প্রতীকের পক্ষে কাজ করতে কেন্দ্রের কোনো নির্দেশনা নেই বলে জানান। তবে দুদিনের ব্যবধানে ভোল পাল্টে নিজাম হাজারী লাঙ্গলের পক্ষে কাজ করার জন্য দলীয় নেতাকর্মীদের নির্দেশ দেন।
সোনাগাজী উপজেলা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক পৌর মেয়র রফিকুল ইসলাম খোকন বলেন, ‘আমাদের নৌকার প্রার্থী নেই। তাই দলীয় সিদ্ধান্তে আমরা সবাই জাতীয় পার্টির লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থনে মাঠে কাজ করছি। নির্বাচনী মাঠে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরী ওমরাহ হজে থাকলেও তার অনুপস্থিতি কোনো প্রভাব পড়বে না।’
এদিকে নাম প্রকাশ না করার শর্তে আওয়ামী লীগের জেলা পর্যায়ের একাধিক নেতা ক্ষোভ প্রকাশ করে মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে উদ্দেশ্য করে বলেন, প্রার্থীর ভাবখানা যেন এমন শেখ হাসিনা জাতীয় পার্টিকে আসন ছেড়ে দিয়েছেন, তার মানে এখন ওনাকে জয়ী করতে আওয়ামী লীগের দায়িত্ব ও কর্তব্য। এটা যদি তিনি মনে না-ই করতেন, তাহলে তিনি নির্বাচনের শেষমুহূর্তে আওয়ামী লীগের মাথায় বোঝা চাপিয়ে নির্বিঘ্নে ওমরাহ হজে যেতে পারতেন না।
আসনটিতে আওয়ামী লীগের মনোনীত প্রার্থী আবুল বাশার তৃতীয়বার নৌকা হারান। তার পরিবর্তে জাতীয় পার্টির প্রার্থী মাসুদ উদ্দিন চৌধুরীকে লাঙ্গল প্রতীকে ছাড় দিয়েছে আওয়ামী লীগ। ফলে আসনটিতে দলীয় মনোনয়ন নিয়ে নির্বাচনের মাঠে নামার পরও বায়রা সভাপতি, সাবেক কেন্দ্রীয় যুবলীগের প্রেসিডিয়াম সদস্য আবুল বাশারকে দলীয় সিদ্ধান্তে গত ১৭ ডিসেম্বর প্রার্থিতা প্রত্যাহার করতে হয়েছে। তার মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের পর আসনটি নৌকাশূন্য হয়। এর আগে দশম ও একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগের দলীয় মনোনয়ন পান আবুল বাশার। দুই নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আসনটি জাতীয় পার্টিকে ছেড়ে দিলে তিনি নির্বাচন থেকে সরে যান।
আসনটিতে ১০ জন প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতায় মাঠে থাকলেও লাঙ্গল প্রতীকের সঙ্গে শক্তিশালী প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে মাঠে আছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিত স্বতন্ত্র প্রার্থী রহিম উল্লাহ্।
