দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনের প্রচার-প্রচারণা ঘিরে সহিংসতা থামছেই না। ভোটগ্রহণের দিন যতই ঘনিয়ে আসছে, ততই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে নতুন নতুন নির্বাচনী এলাকা। যারই ধারাবাহিকতায় এবার আগুন দেওয়া হয়েছে রাজশাহী-১ (তানোর-গোদাগাড়ী) আসনের স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য প্রার্থী চলচ্চিত্র নায়িকা মাহিয়া মাহির নির্বাচনী অফিসে। গত শনিবার গভীর রাতে গোদাগাড়ীর দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাগাইল গ্রামে এ ঘটনা ঘটে।
এ ছাড়া গত শনিবার রাত থেকে গতকাল রাত পর্যন্ত সময়ে আরও চারটি সংসদীয় আসনে হামলা, ভাঙচুর ও সংঘর্ষের ঘটনা ঘটেছে। এসব সহিংসতায় অন্তত ১৮ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
রাজশাহী-১ আসনে ট্রাক প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী মাহিয়া মাহি জানান, রাত ২টার দিকে দেওপাড়া ইউনিয়নের ভাগাইল গ্রামে তার নির্বাচনী অফিসে আগুন দেওয়া হয়।
এর আগে গত শুক্রবার রাতে নৌকার প্রার্থী এমপি ওমর ফারুক চৌধুরীর লোকজন তার প্রচারে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেন মাহি। সে সময় তিনি বলেন, ‘পরিকল্পিতভাবে আমাকে হেনস্তা করার চেষ্টা করা হচ্ছে। চৌধুরীর লোকজন আমাকে বাধা দিচ্ছে।’ নির্বাচনী মাঠে নিজের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কাও প্রকাশ করেন মাহি।
গোদাগাড়ী মডেল থানার ওসি আবদুল মতিন বলেন, ‘আমরা ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছি। অফিসের সামনের অংশের যে করিডর সেখানে আগুনের আলামত পাওয়া গেছে, শুধু করিডর অংশটুকুই পুড়েছে। প্রার্থী এখন পর্যন্ত কোনো অভিযোগ দেননি। আমরা খবর পেয়েই এসেছি, তদন্ত সাপেক্ষে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
গাজীপুর-২ আসনের টঙ্গীর মাজার বস্তি এলাকায় জাহিদ আহসান রাসেলের নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থী কাজী আলিম উদ্দিন বুদ্দিনের ট্রাক প্রতীকের সমর্থকদের মধ্যে ধাওয়া ও পাল্টাধাওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এ সময় সংঘর্ষে উভয়পক্ষের অন্তত আটজন আহত হয়েছেন। খবর পেয়ে পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে। গতকাল রবিবার বিকেল সাড়ে ৪টার দিকে এ ঘটনা ঘটে। আহতরা হলেনÑ মো. ফারুক (৩৮) ও লাল চাঁন মিয়া (৩২), শ্যামল মিয়া (২৩), পলাশ (১৮), সাহিদা বেগম (৬২), মোসা. শবনব (৩৭), টিয়া মিয়া (২০) ও নূপুর (২৭)। এ সংঘর্ষের পর এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছে।
নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্রে প্রতিদ্বন্দী প্রার্থীর সমর্থকরা জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলামের নির্বাচনী ক্যাম্প বন্ধের হুমকি দিয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে। নির্বাচনী ক্যাম্প বন্ধ না করলে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেলা হবে বলেও হুমকি দেয় তারা। লাঙ্গল প্রতীকের সমর্থকদের ক্যাম্প থেকে পোস্টারও ছিনিয়ে নিয়ে যায়। গতকাল সকাল থেকে বিকেল পর্যন্ত কায়েতপাড়া ইউনিয়নের চনপাড়া পুনর্বাসন কেন্দ্র, ইছাকালী, নগরপাড়া, পশ্চিমগাঁওসহ বিভিন্ন এলাকায় গণসংযোগ শেষে সাংবাদিকদের কাছে এমন অভিযোগ করেন জাতীয় পার্টির প্রার্থী সাইফুল ইসলাম।
মেহেরপুর-১ আসনের মুজিবনগর উপজেলার বাগোয়ান গ্রামে নৌকা এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীর কর্মীদের মধ্যে সংঘর্ষ হয়েছে। এতে এক নারীসহ পাঁচজন আহত হয়েছেন। আহতরা হলেন জেলা যুবলীগের যুগ্ম আহ্বায়ক শহিদুল ইসলাম পেরেশান (৪৩), বাগোয়ান ইউনিয়নের ৫ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি ও ইউপি সদস্য আবদুর রাকিব, সাবেক ছাত্রলীগ নেতা খালিদুজ্জামান খান ডালিম (৪৬), যুবলীগকর্মী তেলা শেখ (৩২) ও সাবেক নারী ইউপি মেম্বার মুক্তা খাতুন (৩৭)। এ নিয়ে মুজিবনগর থানায় পাল্টাপাল্টি দুটি মামলা হয়েছে।
নাটোর-৪ আসনের বড়াইগ্রামে গণসংযোগ শেষে ফেরার পথে আওয়ামী লীগ থেকে স্বতন্ত্র প্রার্থী হওয়া আসিফ আবদুল্লাহ বিন কুদ্দুস শোভনের (ট্রাক) পাঁচ কর্মীকে পিটিয়ে আহত করা হয়েছে। এ সময় তাদের তিনটি মোটরসাইকেলও ভাঙচুর করা হয়। শনিবার রাত ১০টার দিকে উপজেলার কচুগাড়ি এলাকায় এ হামলার জন্য নৌকার প্রার্থী সিদ্দিকুর রহমান পাটোয়ারীর কর্মীদের দায়ী করা হয়েছে। এ ঘটনায় সোহেল রানা নামে এক নৌকার কর্মীকে আটক করেছে পুলিশ।
নিজস্ব প্রতিবেদক, রাজশাহী এবং সংশ্লিষ্ট জেলা-উপজেলার প্রতিনিধিদের পাঠানো তথ্যে প্রতিবেদনটি তৈরি
