নির্বাচন বন্ধের সাহস তাদের নেই

জনসভায় শেখ হাসিনা

 

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৩৬ এএম

আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, আন্দোলন সংগ্রামের মধ্য দিয়ে আমরা মানুষের ভোটাধিকার অর্জন করেছি। সেই অধিকার কেড়ে নেবে? নির্বাচন বন্ধ করবে? এত সাহস তাদের নেই। তারা পারবে না। প্রত্যেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে সকাল সকাল ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে তার জবাব দেবেন।

গতকাল সোমবার রাজধানীর কলাবাগান মাঠে নির্বাচনী জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ হাসিনা এসব কথা বলেন। জনসভায় দেওয়া বক্তব্যের শেষপর্যায়ে ঢাকার ১৫টি আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থীদের পরিচয় করিয়ে দেন। তিনি বলেন, ১৫টি রত্ন আপনাদের হাতে তুলে দিলাম। তারা আপনাদের সেবক হিসেবে কাজ করবে। ঢাকার মানুষের সেবা করবে।

ঢাকায় এবারের নির্বাচনী জনসভায় নৌকা মার্কায় ভোট দেওয়ার আহ্বান জানিয়ে আওয়ামী লীগপ্রধান বলেন, নুহ নবীর নৌকা মহাপ্লাবনে মানবজাতিকে রক্ষা করেছিল। এই নৌকাই মানুষের প্রাণ বাঁচায়। নৌকাই উন্নতি দেয়। নৌকা নিশ্চিত জীবন দেয়। শান্তি দেয়, সমৃদ্ধি দেয়। নৌকায় ভোট দিয়ে মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। নৌকায় ভোট দিয়ে আজকে বদলে যাওয়া বাংলাদেশ ডিজিটাল বাংলাদেশ। নৌকায় ভোট দেবেন আমরা ২০৪১ সালের মধ্যে স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব। বাংলাদেশে যারা প্রথম ভোটার, তাদের আহ্বান জানাব নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে দেশের উন্নয়নের অগ্রযাত্রা অব্যাহত রাখতে।

ঢাকা শহরের উন্নয়নে তার সরকারের নেওয়া কর্মসূচিগুলো তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ঢাকা শহরের পানি সমস্যা দূর করেছি। বিদ্যুতের সমস্যা দূর করেছি। সারা বাংলাদেশের ঘরে ঘরে বিদ্যুৎ পৌঁছে দিয়েছি। ঢাকার যানজট দূর করতে মেট্রোরেল চালু হয়েছে। ঢাকার কোথাও যাতে যানজট না থাকে, সেজন্য আমরা মোট ছয়টি মেট্রোরেল করে দেব। এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে আমরা করে দিয়েছি। নতুন নতুন ফ্লাইওভার করে রাস্তাঘাটের উন্নয়ন করেছি।

ঢাকার উন্নয়ন নিয়ে তিনি বলেন, ঢাকা ঘিরে থাকা নদীগুলোকে পুনঃখনন করে দূষণমুক্ত ও ওয়াকওয়ে নির্মাণ করতে প্রকল্প নিয়েছি, শিগগিরই এর কাজ শুরু হবে। উত্তর-দক্ষিণ-পূর্ব-পশ্চিম চিন্তা করে হাসপাতাল করে দিয়েছি। ঢাকা মেডিকেলে চার হাজার মানুষের চিকিৎসা পায় সেজন্য নতুন উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে। আগামীতে ক্ষমতায় আসতে পারলে নির্মাণকাজ শুরু করব। ঢাকা ঘিরে ওয়াটারওয়ে করার ব্যবস্থা করা হবে। আমরা বর্জ্য থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের পদক্ষেপ নিয়েছি। ঢাকা শহরের সব তার পর্যায়ক্রমে মাটির নিচ দিয়ে নিয়ে যাব। তিনি বলেন, বঙ্গবাজারে যত মার্কেট আছে, সব বহুতল ভবন করে আধুনিক মার্কেট করে দেব। সেখানে ক্ষতিগ্রস্তদের বরাদ্দ দেওয়া হবে। বস্তিবাসীদের ভাড়াভিত্তিক ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হবে। জেলা পর্যায় পর্যন্ত হরিজন-দলিত শ্রেণিদের ফ্ল্যাট নির্মাণ করে দেওয়া হবে।

বিএনপির ভোট বর্জনের কারণ বর্ণনা করে শেখ হাসিনা বলেন, ভোট চুরি করতে পারবে না বলেই বিএনপি ভোট বর্জন করছে। বর্জন করাটা খুবই স্বাভাবিক। কারণ তারা তো ভোট চুরি করে অভ্যস্ত। চুরি করা ভোট দিয়েই তো তাদের (বিএনপির) সৃষ্টি। এ ছাড়া আর কিছু পারে না। সেজন্য ইলেকশন করতে চায় না। তারা নির্বাচন বানচাল করতে চায়।

দেশবাসীর প্রতি ভোট রক্ষার আহ্বান জানিয়ে টানা তিনবারের সরকারপ্রধান বলেন, আপনার ভোট আপনি দেবেন। ভোট রক্ষা করবেন। কেউ যেন ঠেকাতে না পারে। আপনারা ভোট দেবেন। অগ্নিসন্ত্রাস-জঙ্গিবাদী বিএনপি-জামায়াতকে উপযুক্ত জবাব দেবেন। অগ্নিসন্ত্রাসের জবাব দেবেন।

বিএনপি-জামায়াতের সমালোচনা করে বঙ্গবন্ধুকন্যা আরও বলেন, তারা আগুন দিয়ে মানুষ পোড়ায়। বাস, গাড়ি, রেল পুড়িয়ে দেয়। ফিসপ্লেট ফেলে দিয়ে রেলে দুর্ঘটনা ঘটায়। যাতে মানুষ মারা যায়। তারা লাশ চায়। অগ্নিসন্ত্রাসী বিএনপি-জামায়াতের কারণে বাবার সামনে সন্তান পুড়ে মারা গেছে। স্বামীর সামনে স্ত্রী পুড়ে মারা গেছে। এদের ব্যাপারে বাংলাদেশের জনগণকে সবসময় সজাগ থাকতে হবে। ওরা এ দেশের সর্বনাশ করতে চায়।

শেখ হাসিনা বলেন, ‘৭৫-এর পর অস্ত্র হাতে নিয়ে সংবিধান লঙ্ঘন করে ক্ষমতায় এসে মানুষের ভাগ্য গড়েনি। ’৭৫-এর আগে মানুষ সেখানে ছিল তার থেকে আরও খারাপ অবস্থা হয়েছিল। তখন দেশটাকে নিয়ে ছিনিমিনি খেলা হয়।

১৯৮১ সালে দেশে ফেরার প্রেক্ষাপট তুলে ধরে আওয়ামী লীগ সভাপতি বলেন, দেশে ফিরেই আমি ঘোষণা দিয়েছিলাম বাংলাদেশের মানুষই আমার পরিবার। এর মাঝেই ফিরে পাব হারানো বাবা-মা ও ভাইয়ের স্নেহ। আমি তা পেয়েছি। আমার একমাত্র ক্ষমতার উৎস বাংলাদেশের জনগণ। তাদের জন্য আমি আমার বাবার মতো জীবন উৎসর্গ করে পথে নেমেছি। গোলাবারুদ, বোমা, গ্রেনেড হামলা কোনো কিছুই আমাকে বাধা দিতে পারেনি। আমার প্রত্যয় এ দেশের মানুষের মুখে অন্ন জোগাব। সবার চিকিৎসা, শিক্ষা ও বাসস্থানের ব্যবস্থা করব। উন্নত জীবন দেব।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৮ সালের নির্বাচনের দেশের জনগণ বিএনপি-জামায়াতকে প্রত্যাখ্যান করেছিল। আমরা ২৩৩টি আসন পেয়েছিলাম। বিএনপি পেয়েছিল মাত্র ৩০টি। জনগণ তাদের দুর্নীতি, চুরি, সন্ত্রাস, জঙ্গিবাদ, বাংলাভাই সৃষ্টির জন্য প্রত্যাখ্যান করেছিল। ২০১৩-১৪ সালে তারা নির্বাচন ঠেকানোর নামে অগ্নিসন্ত্রাস করেছে। এখনো বহু মানুষ সেই অগ্নিসন্ত্রাসের ক্ষত বয়ে বেড়াচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩ পর্যন্ত ক্ষমতায় আছি। ধারাবাহিকভাবে গণতন্ত্র অব্যাহত থাকার কারণে অগ্নিসন্ত্রাসের সময়বাদে অন্য সময়ে মানুষ শান্তিতে থাকার কারণে আত্মসামাজিক উন্নতি হয়েছে। মাথাপিছু আয় বেড়েছে। আমরা কাজ করে মানুষের হৃদয় জয় করে তাদের ভোট পাই। আমাদের ভোট চুরির প্রয়োজন হয় না। কিন্তু যারা অবৈধভাবে ক্ষমতা দখল করে তারাই ভোট চুরি করে। ভোট চুরি ছাড়া তারা জিততে পারে না। ২০০৮ সালের নির্বাচনেই সেটা প্রমাণিত সত্য।

আওয়ামী লীগ এ দেশের মানুষের কল্যাণে সবকিছু করেছে উল্লেখ করে দলের সভাপতি বলেন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় আছে বলেই আজকে উন্নয়ন হয়েছে। আমরা সবার জন্যই কাজ করি। মানুষের ভাগ্য পরিবর্তন হয়েছে। আজকে তো দারিদ্র্যের হাহাকার শোনা যায় না। খাদ্যে আমরা স্বয়ংসম্পূর্ণ। কর্মসংস্থান বৃদ্ধি পেয়েছি। আজকে বেকারত্ব মাত্র তিন ভাগ। ইনশাআল্লাহ সেটাও থাকবে না। আমাদের লক্ষ্য দেশকে আরও উন্নত করা। আমাদের লক্ষ্য দেশকে আরও সুন্দর করা। দেশকে আমরা দারিদ্র্যমুক্ত করব।

শেখ হাসিনা বলেন, মানুষের যা যা প্রয়োজন, আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় থাকলে সেটা করে। এর আগে জিয়াউর রহমান ছিল, এরশাদ ছিল, খালেদা জিয়া ছিল। বাংলাদেশের জনগণকে কিছু দেয়নি। নিজেরা নিয়েছে। নিজেরা অর্থশালী সম্পদশালী হয়েছে। ভাঙা সুটকেস ও ছেঁড়া গেঞ্জি থেকে জাদু পেয়ে সম্পদের মালিক হয়েছে। দেশের মানুষকে দেয়নি তারা। অবৈধভাবে ক্ষমতা দখলকারীদের সেটাই তো চরিত্র।

সুশীল সমাজের সমালোচনা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের অনেক বুদ্ধিজীবী আছেন। নানা কথা বলেন। মানুষকে মিথ্যা তথ্য দিয়ে বিভ্রান্ত করেন। তাদের কাজই হচ্ছে বিভ্রান্ত করা। গণতন্ত্র থাকলে তাদের নাকি মূল্য থাকে না। আর যদি কোনো অস্বাভাবিক সরকার হয়, উনাদের মূল্য নাকি বেড়ে যায়। কার কত মূল্য এখন দাঁড়িপাল্লায় মেপে তাদের দেখতে হবে। কার কত মূল্য সেটা আমরা দেখতে চাই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত