বই বিতরণ অনুষ্ঠানে নৌকায় ভোট চাইলেন অধ্যক্ষ

শিশুদের লিফলেট দিয়ে বললেন, ‘বাবা-মাকে বলবা, স্যার বলছে ভোটটা দিতে’

আপডেট : ০২ জানুয়ারি ২০২৪, ১১:২৭ এএম

দিনাজপুরের খানসামা উপজেলায় একটি বিদ্যালয়ে বিনামূল্যের বই বিতরণ অনুষ্ঠানে গিয়ে নৌকা মার্কা প্রার্থীর পক্ষে ভোট চাওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলার হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোনায়েম খানের বিরুদ্ধে। এরই মধ্যে ভোট চাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে।

জানা গেছে, গতকাল সোমবার সকালে সারা দেশের মতো উপজেলার হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ে বই বিতরণ উৎসবের উদ্বোধন করা হয়। অনুষ্ঠানে অংশ নেন হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোনায়েম খান। বই বিতরণ উৎসবের ওই অনুষ্ঠানে তিনি আসন্ন দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর পক্ষে শিশুদের বাবা-মায়ের ভোট চান। পরে অধ্যক্ষ তার নিজ ব্যবহৃত ফেসবুক আইডিতে কয়েকটি ছবি ও বক্তব্যের ভিডিও পোস্ট করেন।

তিনি সেই ভিডিও ও ছবির সঙ্গে ক্যাপশনে লেখেন, ‘শুভ নববর্ষ ২০২৪ ইং। বছরের প্রথম দিনেই হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে বই বিতরণ হচ্ছে। উক্ত অনুষ্ঠানে অত্র প্রতিষ্ঠানের প্রধান শিক্ষক ২ নম্বর ভেড়ভেরি ইউনিয়নের চেয়ারম্যান, অধ্যক্ষ হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজ ও স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তি, শিক্ষক কর্মচারী ও ছাত্র-ছাত্রীদের উপস্থিতিতে নৌকা মার্কার প্রার্থী সাবেক সফল পররাষ্ট্রমন্ত্রী, সভাপতি অর্থ মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটি আবুল হাসান মাহমুদ আলী এমপির পক্ষে ভোট চান ও বক্তব্য রাখেন মোনায়েম খান।’

এ ছাড়া ভিডিও ক্লিপে তিনি বলেন, ‘আমাদের বাড়ির পাশে মন্ত্রী মহোদয়ের বাড়ি। তিনি আবার দাঁড়িয়েছেন। আমরা শিশুদের জন্য বলতেছি, তোমরা যদিও ভোটার না। আমার কাছে কিছু পোস্টার আছে তোমাদের দেব। প্রত্যেকে বাড়ি বাড়ি গিয়ে তোমাদের বাবা-মাকে বলবে ওনাকে ভোট দিলে উনি আবার এমপি হবেন, মন্ত্রী হবেন। আমাদের যে প্রতিষ্ঠানগুলো পিছিয়ে আছে, ভবন নেই, স্কুলে ভবন নেই, মাদ্রাসায় ভবন নেই, কলেজে ভবন নেই, তাহলে উনি হলে যদি আবার এই বিল্ডিংগুলো দেন। উনি এই ছবিটা দেখে খুশি হবেন যে, বই দেওয়ার পাশাপাশি ওনার পোস্টার দিয়েছি। উনি দাঁড়াইছেন, ৭ তারিখে ওনার ভোট। তোমাদের বাবা-মাকে বলবা, আমাদের একজন এমপি দাঁড়াইছে, স্যার বলছে ভোটটা দিতে।

এ বিষয়ে জানতে হোসেনপুর ডিগ্রি কলেজের অধ্যক্ষ মোনায়েম খানের সঙ্গে একাধিকবার মোবাইল ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তিনি ফোন ধরেননি।

হোসেনপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, ‘পার্শ্ববর্তী কলেজের অধ্যক্ষ হিসেবে তাকে দাওয়াত দিয়েছি। কিন্তু তিনি এখানে এসে তার বক্তব্যে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের মধ্যে নির্বাচনী প্রচারণা চালাবেন এটা ভাবতে পারিনি। এটা মোটেও ঠিক হয়নি। তিনি ব্যক্তিগতভাবে এটি করেছেন।’

এ বিষয়ে উপজেলা মাধমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মঞ্জুরুল হক বলেন, ‘বই উৎসব সারা দেশে উৎসবমুখর পরিবেশে উদযাপন করা হচ্ছে। এখানে নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণার কোনো সুযোগ নেই। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হবে।’

খানসামা উপজেলা নির্বাহী অফিসার এবং সহকারী রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. তাজ উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি অবগত হয়েছি। গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত