না.গঞ্জের এসপি ও রূপগঞ্জের ওসির ওপর অনাস্থা ৩ প্রার্থীর

আপডেট : ০৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:৪৩ এএম

নারায়ণগঞ্জ-১ (রূপগঞ্জ) আসনে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পক্ষপাতিত্বমূলক আচরণের অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও রূপগঞ্জের ওসি দীপক চন্দ্র সাহার ওপর অনাস্থা এনেছেন স্বতন্ত্র তিন প্রার্থী। এ বিষয়ে গতকাল মঙ্গলবার প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন তারা।

অভিযোগে বলা হয়েছে, রূপগঞ্জে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও রূপগঞ্জের ওসির প্রভাব বহাল থাকলে এই আসনে সংসদ নির্বাচন প্রশ্নবিদ্ধ হবে। এভাবে চলতে থাকলে ভোটাররা ভোটকেন্দ্রে যেতে সাহস পাবেন না। নির্বাচন কমিশনের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী সুষ্ঠু ভোটের স্বার্থে দ্রুততম সময়ের মধ্যে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও নারায়ণগঞ্জের ভারপ্রাপ্ত পুলিশ কর্মকর্তার প্রত্যাহার দাবি জানিয়েছেন তারা।

অনাস্থা দিয়ে প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর আবেদনে তৃণমূল বিএনপির প্রার্থী তৈমূর আলম খন্দকার বলেন, ‘আমার নির্বাচনী প্রচারণায় ব্যাপকভাবে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছে। স্থানীয় প্রশাসনকে বলার পরও কোনো পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে না। বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর নিয়ন্ত্রিত সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা আমাদের কর্মীদের প্রচারণায় বাধা দিচ্ছে। বাড়ি বাড়ি গিয়ে হুমকি দিচ্ছে। প্রতিবাদ করলে নির্যাতন করা হচ্ছে। এ বিষয়ে থানায় অভিযোগ দিতে গেলে অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো ভয়ভীতি দেখানো হচ্ছে।’

আবেদনে তিনি আরও বলেন, ‘এসব বিষয়ে বারবার নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল ও রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে অবহিত করার পরও তারা কোনো ব্যবস্থা নিচ্ছে না। নির্বাচনে জিতিয়ে দিতে গোলাম দস্তগীর গাজীর কাছ থেকে তারা মোটা অঙ্কের টাকা নিয়েছেন। আমি তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করছি। অবিলম্বে তাদের প্রত্যাহার করা না হলে কোনোভাবেই নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া সম্ভব নয়।’

স্বতন্ত্র আরেক প্রার্থী তিনবারের উপজেলা চেয়ারম্যান ও রূপগঞ্জ উপজেলা আওয়ামী লীগ সাধারণ সম্পাদক মো. শাহজাহান ভূঁইয়া প্রধান নির্বাচন কমিশন বরাবর এসপি ও ওসির বিরুদ্ধে অনাস্থা এনে আবেদন করেছেন। ওই আবেদনে তিনি বলেন, ‘নির্বাচনী প্রচার-প্রচারণায় অংশ নিতে গিয়ে আমি এবং আমার কর্মী সমর্থকরা প্রতিনিয়ত নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার সন্ত্রাসী বাহিনীর হাতে বাধার সম্মুখীন হচ্ছি, যা নির্বাচনী আচরণবিধি লঙ্ঘনের শামিল। নৌকার প্রার্থীর লোকরা যে শুধু বাধা দিচ্ছে তা-ই নয়, ইতিমধ্যে আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় আয়েশা নামে এক নারীকে হামলা ও তাকে মারধর করেছে। দাউদপুরে আমার অস্থায়ী নির্বাচনী প্রচারণা কার্যালয়ে আগুন দিয়েছে। আমার নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়া কর্মী-সমর্থকদের হুমকি দিচ্ছে সন্ত্রাসীরা। আর এই সন্ত্রাসী বাহিনীর নেতৃত্ব দিচ্ছে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের মালিক রফিকুল ইসলাম। শুধু হুমকিই নয়, এই কর্মীদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো আমার কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো, এলাকা থেকে বিতাড়িত করা এবং মিথ্যে মামলায় জড়াচ্ছে। আর এই কাজে সরাসরি ইন্ধন দিচ্ছে রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহা এবং নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল। আমি তাদের ওপর অনাস্থা করছি। তাদের দ্রুত প্রত্যাহার করা হোক।’

জাতীয় পার্টি মনোনীত লাঙ্গল প্রতীকে অংশ নেওয়া প্রার্থী মো. ছাইফুল ইসলাম নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও রূপগঞ্জ থানার ওসির বিরুদ্ধে একপেশে ভূমিকার অভিযোগ এনে প্রধান নির্বাচন কমিশনে অভিযোগ করেছেন। তিনি তার অভিযোগে বলেন, ‘সাধারণ ভোটার ও কর্মী-সমর্থকদের নিয়ে প্রচারণায় অংশ নিয়ে পদে পদে বাধাগ্রস্ত হচ্ছি। পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর লেলিয়ে দেওয়া সন্ত্রাসীরা নির্বাচনী কার্যক্রমে অংশ নেওয়ার সময় এবং নির্বাচনী প্রচারণা শেষে কর্মীরা বাড়ি ফেরার পথে বিভিন্ন স্থানে হামলা করছে। তারা নারী কর্মীদের আক্রমণ করছে। ভোটের পর গুম-খুনের হুমকি দিচ্ছে। জমি ও বাড়ি দখল করে এলাকাছাড়া হবে বলেও হুমকি দিচ্ছে। অধিকাংশ জায়গায় লাঙ্গল প্রতীকের পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা হয়েছে। আবার লাগাতে গেলে কর্মীদের মারধর করা হচ্ছে। গোলাম দস্তগীর গাজীর নিয়ন্ত্রিত সংঘবদ্ধ সন্ত্রাসীরা অস্ত্র উঁচিয়ে প্রকাশ্যে হুমকি দিচ্ছে।’

তিনি তার অভিযোগে বলেন, ভয়াবহ অবস্থা হচ্ছে সন্ত্রাসীদের নির্যাতনের ফলে ভুক্তভোগীরা থানায় অভিযোগ নিয়ে গেলে অভিযোগ নেওয়া হচ্ছে না। উল্টো যারা সন্ত্রাসী তাদের দেওয়া অভিযোগের ভিত্তিতে পুলিশ সাধারণ ভোটারদের ও ভুক্তভোগীদের হয়রানি করছে। গোলাম দস্তগীর গাজী দীর্ঘদিন সংসদ সদস্য ও মন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করায় তার অর্থের অভাব নেই, মানুষের ভূমি দখল করে বিক্রি করে এবং অনৈতিক ব্যবসা-বাণিজ্য করে অঢেল টাকার মালিক হয়েছেন। এসব কালো টাকা দিয়ে নির্বাচনে জিততে সব আয়োজন করছেন তিনি। বিষয়টি স্থানীয় প্রশাসন বিশেষ করে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও রূপগঞ্জের ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে বলার পরও কোনো পদক্ষেপ নিচ্ছেন না তারা। এ পর্যন্ত বেশ কিছু অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটলেও কোনো পদক্ষেপ নেননি তারা।’ 

তিনি আরও বলেন, ‘এলাকার সন্ত্রাসীদের নিয়ন্ত্রণ করছে রূপগঞ্জ উপজেলার কায়েতপাড়া ইউনিয়নের সাবেক ইউপি চেয়ারম্যান ও রংধনু গ্রুপের মালিক রফিকুল ইসলাম। তিনি শুধু হুমকিই নয়, এই কর্মীদের বসতবাড়িতে হামলা ও ভাঙচুর চালাচ্ছে। এ বিষয়ে স্থানীয় প্রশাসনের কাছে অভিযোগ দিয়েও কোনো প্রতিকার পাওয়া যাচ্ছে না। উল্টো আমার কর্মী-সমর্থকদের ভয় দেখানো, এলাকা থেকে বিতাড়িত করা এবং মিথ্যে মামলায় জড়াচ্ছে। অবিলম্বে নারায়ণগঞ্জের পুলিশ সুপার ও রূপগঞ্জের ওসিকে দায়িত্ব থেকে না সরালে ৭ জানুয়ারির ভোট প্রশ্নবিদ্ধ হবে। সন্ত্রাসীদের দিয়ে ভোটকেন্দ্র দখল করে নিজেদের মতো করে ফলাফল ঘোষণা করা হবে। অবস্থা এমন হয়েছে যে, বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীকে নির্বাচনে জয়ী করার এজেন্ডা হাতে নিয়ে কাজ করছেন পুলিশ সুপার গোলাম মোস্তফা রাসেল ও ওসি দীপক চন্দ্র সাহা। আমি তাদের ওপর অনাস্থা প্রকাশ করছি। অবিলম্বে তাদের প্রত্যাহার দাবি করছি।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ থানার ওসি দীপক চন্দ্র সাহাকে একাধিকবার ফোন করা হলে তিনি ফোন রিসিভ করেননি।

তবে জেলা পুলিশ সুপার (এসপি) গোলাম মোস্তফা রাসেল বলেন, ‘আমরা এ পর্যন্ত পক্ষপাতিত্বমূলক কোনো কাজ করিনি। আমরা নিরপেক্ষভাবেই কাজ করছি এবং আগামী দিনেও নিরপেক্ষভাবে কাজ করে যাব। সুতরাং আমাদের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।’ 

এ ব্যাপারে সহকারী রিটার্নিং অফিসার আহসান আহমেদ রাসেল বলেন, ‘বিষয়টি আমার জানা ছিল না। যেহেতু আপনার কাছে জেনেছি বিষয়টি খবর নিয়ে জেনে পরে বলতে পারব।’    

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত