প্রথমে ইহুদী বিদ্বেষ ও পরে জ্ঞানগত চৌর্যবৃত্তির অভিযোগ এবং এসব নিয়ে বিব্রতকর পরিস্থিতির জেরে পদত্যাগ করেছেন হার্ভার্ড ইউনিভার্সিটির প্রেসিডেন্ট ডক্টর ক্লডিন গে। এক প্রতিবেদনে এই তথ্য জানিয়েছে সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান।
প্রতিবেদনে বলা হয়, বিশ্ববিদ্যালয়টির ক্যাম্পাসে ইহুদী বিরোধী আন্দোলন নিয়ে হার্ভার্ডের ইহুদী কমিউনিটি ও মার্কিন কংগ্রেসের কিছু সদস্যের তোপের মুখে পড়েন গে। এ নিয়ে গত ৫ ডিসেম্বর মার্কিন কংগ্রেসে শুনানিতেও অংশ নিতে হয়েছিল তাকে।
মার্কিন কংগ্রেস শুনানিতে ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামাসের হামলার বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাথমিক প্রতিক্রিয়ার সমালোচনা করেছে। কংগ্রেসমেনদের অভিযোগ, ক্যাম্পাসে ইহুদী বিরোধী আন্দোলন সামলাতে পারেননি গে। গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন শুরুর পর মার্কিন বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসগুলোতে বিক্ষোভ হয়। এসব বিক্ষোভ হতে দেওয়াকে ‘ইহুদী বিদ্বেষ’ হিসেবে দেখছে মার্কিন কংগ্রেসের অনেকেই।
এরপর ক্লডিন গে’র নামে তোলা হয় কুম্ভিলকবৃত্তি বা অন্যের লেখা থেকে শব্দ নেওয়ার অভিযোগ। নিউইয়র্ক টাইমস জানিয়েছে, ১৯৯৭ সালে একটি গবেষণা প্রবন্ধ প্রকাশ করেন ডক্টর ক্লডিন গে। বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, এই গবেষণায় তারা অন্য লেখার সঙ্গে কিছু সামঞ্জস্য পেয়েছেন।
৩৩৮ বছরের ইতিহাসে গে-ই হার্ভার্ডের প্রথম কৃষ্ণাঙ্গ প্রেসিডেন্ট। পদত্যাগপত্রে গে জানান, “ব্যক্তিগত হুমকি এবং জাতিগত শত্রুতার শিকার হয়েছেন তিনি।”
দ্য হার্ভার্ড করপোরেশন একটি ইমেইলে জানান, তারা দুঃখের সাথে গের পদত্যাগ গ্রহণ করছেন। তার স্থলাভিষিক্ত হবেন অ্যালান গার্বের।
গের পদত্যাগের বিষয়ে ইসরায়েলের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসরায়েল কাটজ বলেন, ‘আশা করি গৌরবময় হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয় এই ঘটনা থেকে শিক্ষা নেবে।’
হার্ভার্ড যুক্তরাষ্ট্রের বোস্টনের একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়। তবে সরকারের কাছ থেকে প্রতি বছর কয়েকশ মিলিয়ন ডলার সহায়তা পেয়ে থাকে এটি। বিশ্ববিদ্যালয়টির নিজস্ব ৫০ বিলিয়ন ডলারের সম্পত্তি রয়েছে।
