বিশ্ববিদ্যালয়ের আন্ডারগ্রাজুয়েট ভর্তি পরীক্ষায় ‘ট্রান্সজেন্ডার'’ শব্দ প্রত্যাহার ও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাধারণ শিক্ষার্থীরা।
আজ বুধবার (৩ ডিসেম্বর) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সন্ত্রাস বিরোধী রাজু ভাস্কর্যের সামনে শিক্ষার্থীরা অবস্থান কর্মসূচি গ্রহণ করেন। তাদের এই অবস্থান কর্মসূচি সন্ধ্যা ৬টা পর্যন্ত চলমান থাকবে বলে জানান শিক্ষার্থীরা। তাছাড়া উপাচার্য যদি বিষয়টি মেনে নিয়ে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের ঘোষণা না দেন তাহলে আগামীকালও অবস্থান কর্মসূচি চলমান থাকবে বলে জানান তারা।
দীর্ঘদিন ধরে ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে এই শব্দের অপসারণ করে নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবি করে আসছেন শিক্ষার্থীরা। এ নিয়ে উপাচার্য তাদের আশ্বাস দিলেও বাস্তবায়ন করা হয়নি। সেজন্য আজকে পুনরায় ভর্তি বিজ্ঞপ্তি থেকে ট্রান্সজেন্ডার শব্দ বাতিল ও নতুন বিজ্ঞপ্তি প্রকাশের দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি করছেন শিক্ষার্থীরা৷
অবস্থান কর্মসূচিতে যোগ দেওয়া আরবি বিভাগের ২০১৮-১৯ সেশনের শিক্ষার্থী মুনতাসীর আহমেদ মুয়াজ বলেন, 'ট্রান্সজেন্ডার' শব্দটি আমাদের দেশীয় শব্দ নয়। এমনকি বাংলা একাডেমির কোনো অভিধানে কোথাও 'ট্রান্সজেন্ডার' শব্দটির কোনো উল্লেখ নেই। তবে হিজড়া শব্দের প্রতিশব্দ হিসেবে hermaphrodite ও eunuch এর উল্লেখ থাকলেও এগুলো ব্যতিত অন্যকোনো শব্দের উল্লেখ নেই। এমতাবস্থায় একটি বিতর্কিত শব্দকে কেনো ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে যুক্ত করা হলো তা- আমাদের বোধগম্য নয়। আমরা মনে করি ভর্তি বিজ্ঞপ্তিতে এই শব্দ সংযুক্তির মাধ্যমে দেশীয় কৃষ্টি ও সংস্কৃতির উপর আঘাত করা হয়েছে। আমাদের দেশজ সংস্কৃতি রক্ষায় এই শব্দটি প্রত্যাহার করা অত্যন্ত জরুরী।
বাংলা বিভাগের ২০২১-২২ সেশনের শিক্ষার্থী মোসাদ্দেক আলী ইবনে মুহাম্মদ বলেন, হিজরাদের কোটা থাকা যুক্তিযুক্ত কিন্তু ট্রান্সদের কোটা দেওয়ার কোন যৌক্তিকতা নেই৷ নিজেদের বিকৃত করে কোটার দাবিদার হওয়া যায় না। উপাচার্য স্যার বলেছেন ট্রান্সজেন্ডার শব্দ দ্বারা হিজড়াকে বুঝানো হয়েছে তাহলে কেন অন্য আরও সমার্থক শব্দ থাকলেও হিজড়া শব্দের পাশে ‘ট্রান্সজেন্ডার’ শব্দ উল্লেখ করতে হবে? এর মাধ্যমে সমকামিতার বীজ আমাদের মাঝে ঢুকিয়ে দেওয়া হচ্ছে।
তিনি বলেন, ট্রান্সজেন্ডার একটি মহামারির মতো। মার্কিন একটি জরিপে দেখা যায়, গত ১০ বছরে সেখানে ট্রান্সজেন্ডার হওয়া ৫ হাজার শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এর ফলে এইচআইভিসহ অন্যান্য রোগ বৃদ্ধি পাচ্ছে। বাংলাদের শতাধিক ট্রান্সজেন্ডার এখন এইচআইভিতে আক্রান্ত রয়েছে। সুতরাং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যদি এই শব্দকে প্রমোট করা হয় তাহলে অনেকেই এই পথে হাঁটা শুরু করবে। যা দেশে মহামারীর আকার ধারণ করবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ২১ ডিসেম্বর ট্রান্সজেন্ডার শব্দ অপসারণের দাবিতে শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করেন এবং বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্যের সাথে সাক্ষাৎ করে একটি স্মারকলিপি প্রদান করেন। এসময় ট্রান্সজেন্ডার শব্দ দ্বারা ‘হিজড়া’ সম্প্রদায়কে বুঝানো হয়েছে বলে জানান বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক ড. এ এস এম মাকসুদ কামাল। তাছাড়া গত ৩০ ডিসেম্বর বিকেলে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির নিজস্ব কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে সাধারণ শিক্ষার্থীরা ভর্তি পরীক্ষায় ট্রান্সজেন্ডার কোটা বাতিলসহ আরো তিন দফা দাবি তোলেন।
