‘শাহরুখ খানের একটা সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘আমি কারও ভালো চাই না, কারও মন্দ চাই না...।’ এই কথাটা আমাকে এতটাই অভিভূত করল যে আমি নিজেও ভেবে দেখলাম, আমিও তো কারও বিষয়ে জানতে চাই না, কে কী করছে করুক, কারও বিষয়েই ভাবতে চাই না। আমি শুধু নিজেকে নিয়ে ভাবতে চাই। আর নিজের দেশটাকে নিয়ে ভাবি, দেশটার অবস্থা কী, এ জন্য খবর দেখি। এর বাইরে আমার সন্তান-সংসার এসব সামলাতে হবে, সেসব করি।’ সমসাময়িক অবস্থার পরিপ্রেক্ষিতে এভাবেই নিজেকে বিশ্লেষণ করছিলেন আলোচিত কণ্ঠশিল্পী নাজমুন মুনিরা ন্যান্্সি।
বুধবার সন্ধ্যায় তিনি একটি গানের রেকর্ডিংয়ে যাচ্ছিলেন। গাড়িতে বসেই কথা বলছিলেন। সেতু চৌধুরীর সংগীত আয়োজনে এটি করছেন। জানালেন তিনি এখন একদমই ফেসবুক ব্যবহার করেন না। ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে নিজেকে গুটিয়ে নিয়েছেন। এর কারণ হিসেবে বললেন, সেখানে কাজের চেয়ে মানুষের সমালোচনাটাই বেশি হয়। ন্যান্্সির ভাষ্য, ‘আমি যদি একটা ছবি দিই, সেটা কেন দিলাম, চুল কেন ছোট হলো, কেন প্যান্ট-শার্ট পরলাম এসব প্রশ্ন করে আমাকে কাঠগড়ায় দাঁড় করায় মানুষ। আমি কেন তাদের এসব আক্রমণ নেব, অনেক তো নিয়েছি আর না।’
ন্যান্্সি মনে করেন তিনি একজন কণ্ঠশিল্পী। তাকে বিবেচনা করা হবে শিল্পী হিসেবে। ‘আমি একজন কণ্ঠশিল্পী, ন্যান্্সি শিল্পী হিসেবে সবার। কিন্তু ব্যক্তি ন্যান্্সি হিসেবে আমি কিন্তু পরিবারের, আমার সংসারের, আমার বাচ্চাদের। এই দুটোই মানুষ বুঝতে পারে না। দুটোকে এক করে ব্যক্তিগত জীবনে ঢুকে পড়েন।’
সামাজিক মাধ্যমে যেহেতু সংগীত নিয়ে আলোচনা হয় না। শিল্পীদের নিয়ে আলোচনা হয় না, হয় সমালোচনা। এসব কারণে ভার্চুয়াল দুনিয়া থেকে সরে এসেছেন। ন্যান্্সি বললেন, ‘আমি কাজের প্রচার চাই না। যারা জানে, তারা মনে করলে আমাকে ডাকবে। একটা সময় খেয়াল করতাম, কে কোন গানটা করল, গানটা কেমন হলো এসব দেখতাম। নিজেকে সেভাবে বিশ্লেষণ করতাম। কিন্তু এখন ন্যান্্সি একদম নিজের। আমি নিজের ভাবনাটাই ভাবি। সংগীত নিয়ে কিন্তু আমার কোনো পরিকল্পনা নেই। কেননা আমি গাইব, আমি চাইলে ৫টা গান গাইতে পারব না। আমাকে প্রস্তাবনা দিলে, আমি সেই প্রস্তাবনা দেখে গাইতে পারব। নিজ ইচ্ছায় তো পারব না।’
গত বছর নিজের কাজের হিসাব রাখেননি ন্যান্্সি। তবে সামাজিক মাধ্যমে যেমন নেতিবাচকতা দেখেছিলেন, তেমনি ভালো কিছু বিষয়ও ন্যান্্সির চোখে পড়েছে। বললেন, ‘বালাম ভাই ব্যাক করেছেন। কোনাল ও বালাম ভাইয়ের “ও প্রিয়তমা গানটা” শুনলাম। এটা নিয়ে আলোচনা হচ্ছে বেশ ভালো লাগল।’
সংসার জীবনের ন্যান্্সি কেমন? এ প্রশ্নের উত্তরে জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার পাওয়া গায়িকা বলেন, ‘বেশ ভালো আছি। আমার বড় মেয়ে রোদেলা সে তো বড় হয়ে গেছে। মাঝে মাঝে আমাকেও শাসন করে। তার আচরণ অদ্ভুত লাগে, আবার ভালোও লাগে। আর ছোট মেয়ে গুণগুণ, তার বয়স দুই বছর। ঘরময় ঘুরে বেড়ায়। আজব আজব শব্দ করে, চমৎকৃত হই। আমি এমন একটা সময়ের মধ্যে আছি, এক মেয়ের বয়স ষোলো, আরেক মেয়ের বয়স দুই, এই দুজনের মাঝে বয়সের পার্থক্য আর তার মাঝে আমি একা, এক অন্যরকম অনুভূতি মাঝে মাঝে আমাকে ছুঁয়ে যায়।’
