দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকাণ্ডের অভিযোগে বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল ফকিরকে সব পদ থেকে বহিষ্কার করেছে বিএনপি। গতকাল বুধবার বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে তাকে বিএনপির প্রাথমিক সদস্য পদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়।
এদিন পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে চট্টগ্রামের তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কারের কথা জানান রিজভী। তিনি জানান, আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা বিএনপির সহসভাপতি আবু জহুর, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম ও উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুল ওয়াহাব বাবুলকে দল থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
বরগুনা জেলা ও আমতলী উপজেলা প্রতিনিধি জানান, ২৭ ডিসেম্বর একজন প্রার্থীর কাছ থেকে টাকা নিয়ে কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে পাঠানোর প্রস্তাব দেন বরগুনার আমতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল উদ্দিন ফকির। দলের ইউনিয়ন পর্যায়ের নেতাদের কাছে এ প্রস্তাব দেওয়া একটি অডিও ফাঁস হয়েছে। সভায় জালাল উদ্দিন ফকির নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেন, আওয়ামী লীগের এক স্বতন্ত্র প্রার্থীর কাছ থেকে তিনি প্রস্তাব পেয়েছেন। তাকে ভোট দিলে তিনি প্রতিটি ইউনিয়নে খরচ বাবদ ১ লাখ টাকা করে দেবেন। এই মুহূর্তে নেতাকর্মীদের হাতে টাকা-পয়সা নেই। পদধারী ছাত্রদল, যুবদলসহ বিএনপির নেতাকর্মীরা মাঠে নামতে পারবেন না। তবে সাধারণ কর্মী ও সমর্থকরা কেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিয়ে আসবেন।
ওই সভায় উপজেলা বিএনপির সদস্য সচিব তুহিন মৃধাকে বলতে শোনা যায়, এত অল্প টাকার জন্য কেন আন্দোলন-সংগ্রাম ছেড়ে কর্মী-সমর্থকদের ভোটকেন্দ্রে পাঠাবেন? জবাবে জালাল ফকির বলেন, আমার পেটে ক্ষুধা আছে। আন্দোলন-সংগ্রামে কেউ ৫০ হাজার টাকা, ১ লাখ টাকা দিতে পারবেন?
বরগুনা জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি নজরুল ইসলাম মোল্লা বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কর্মকা-ে জড়িত থাকার অভিযোগে আমতলী উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক জালাল ফকিরকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
এদিকে চট্টগ্রাম ব্যুরো জানিয়েছে, চট্টগ্রাম নগরীর দুটি আসনে আওয়ামী লীগ ও স্বতন্ত্র প্রার্থীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় বিএনপির তিন নেতাকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। গতকাল বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী আহমেদ স্বাক্ষরিত পৃথক দুটি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বহিষ্কৃতরা হলেন চট্টগ্রাম মহানগরীর বন্দর থানা বিএনপির সহসভাপতি আবু জহুর, পাঁচলাইশ থানা বিএনপির ধর্মবিষয়ক সম্পাদক আবুল কাশেম ও উত্তর কাট্টলী ওয়ার্ড বিএনপির সহসভাপতি আবদুল ওয়াহাব বাবুল। তাদের দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয় বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিএনপির একটি সূত্র জানায়, এদের মধ্যে আবু জহুরের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম-১১ আসনের নৌকার প্রার্থী এমএ লতিফ এবং আবুল কাশেম ও আবদুল ওয়াহাবের বিরুদ্ধে চট্টগ্রাম-১০ আসনের স্বতন্ত্র প্রার্থী এম মনজুর আলমের পক্ষে নির্বাচনী প্রচারণায় যাওয়ার অভিযোগ রয়েছে।
চট্টগ্রাম নগর বিএনপির দপ্তরের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইদ্রিস আলী দেশ রূপান্তরকে বলেন, দলীয় শৃঙ্খলাপরিপন্থী কাজে জড়িত থাকার সুস্পষ্ট অভিযোগে এদের বিরুদ্ধে এ ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
রূপগঞ্জে নৌকার পক্ষে প্রচার করায় বিএনপি নেতা বহিষ্কার : নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে আওয়ামী লীগের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে নির্বাচনী প্রচারে অংশ নেওয়ায় কাঞ্চন পৌর বিএনপির সহসভাপতি দেওয়ান আবুল বাশার বাদশাহকে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
গতকাল বুধবার সকালে নারায়ণগঞ্জ জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন ও সাধারণ সম্পাদক গোলাম ফারুক খোকন স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
জেলা বিএনপির সভাপতি গিয়াসউদ্দিন বলেন, দলীয় শৃঙ্খলা ভঙ্গ ও সংগঠনবিরোধী তৎপরতায় লিপ্ত হয়ে বর্তমান সরকারের ডামি নির্বাচনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থীর পক্ষে সরাসরি প্রচারণায় অংশ নেওয়ায় দেওয়ান আবুল বাশার বাদশাহকে দলের প্রাথমিক সদস্যপদসহ সব পর্যায়ের পদ থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে।
