দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ভোট বর্জনের আহ্বান জানিয়েছে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। এ ছাড়া দলটির পক্ষ থেকে রাষ্ট্রপতির কাছে সংবিধান অনুযায়ী বিদ্যমান জাতীয় সংসদ ভেঙে, নির্বাচন বন্ধ করে সব রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে সরকার গঠনের উদ্যোগ নেওয়ার আহ্বান জানানো হয়।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর পুরানা পল্টনে দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে পুনরায় তফসিল ঘোষণার দাবিতে সংবাদ সম্মেলনে এসব দাবিসহ মোট ৫ দফা দাবির কথা জানান ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের আমির মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম।
সংবাদ সম্মেলনে লিখিত বক্তব্যে যে পাঁচটি দাবি মুফতি সৈয়দ মুহাম্মদ রেজাউল করিম তুলে ধরেন সেগুলো হচ্ছে-৭ জানুয়ারি নির্বাচন বন্ধ করতে হবে, বর্তমান জাতীয় সংসদ ভেঙে দিতে হবে, রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে সরকার গঠন করতে হবে, নির্বাচন কমিশন ভেঙে জাতীয় সরকারের অধীনে নতুন নির্বাচন কমিশন গঠন করে নির্বাচনের তফসিল পুনরায় ঘোষণা করতে হবে এবং বিরোধী দলের কারাবন্দি নেতাকর্মীদের মুক্তি দিতে হবে।
দলীয় সরকারের অধীনে কোনো নির্বাচনই সুষ্ঠু হয় না, এমনকি পাতানো নির্বাচনও না উল্লেখ করে লিখিত বক্তব্যে আরও বলা হয়, ‘এই নির্বাচন পাতানো। এখানে নৌকা, ঈগল, ট্রাক ইত্যাদি যা আছে সবাই আওয়ামী লীগের। এমনকি লাঙ্গল, সোনালী আঁশ, নোঙরও তাদের আশীর্বাদপুষ্ট। তারপরও এই নির্বাচনে নৌকায় ভোট না দিলে হাত-পা ভেঙে দেওয়ার হুমকি দেওয়া হয়েছে বহু জায়গায়। নৌকায় ভোট না দিলে ভোট কেন্দ্রে যাওয়ার দরকার নেই মর্মে ভোটারদের হুঁশিয়ারি দেওয়ার ঘটনা ঘটছে অহরহ।’
৭ তারিখের নির্বাচনটি ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনের উদাহরণ হয়ে থাকবে দাবি করে মুফতি রেজাউল করিম আরও বলেন, ক্ষমতাসীন সরকার ২০১৪ সালে করল একতরফা প্রহসনের নির্বাচন, ২০১৮ সালে করল রাতের ভোট আর ২০২৪ সালে এসে করছে ডামি নির্বাচন। জেল থেকে মুক্তি দেওয়ার লোভ দেখিয়ে বিরোধী নেতাদের নির্বাচনে দাঁড় করানো, কিংস পার্টি গড়ে প্রতিদ্বন্দ্বিতা বাড়ানোর অপচেষ্টা করার মতো এই সরকার যা করছে, তাতে ইতিহাসের নিকৃষ্টতম নির্বাচনের উদাহরণ হয়ে থাকবে।
দলটির যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমানের সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত সংবাদ সম্মেলনে অন্যদের মধ্যে মহাসচিব প্রিন্সিপাল হাফেজ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য প্রিন্সিপাল মাওলানা সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল-মাদানী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
