ভোট থেকে সরে দাঁড়ালেন ভান্ডারী ও জাপার প্রার্থী

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩২ এএম

চট্টগ্রাম-২ ফটিকছড়ি সংসদীয় আসনে বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশনের চেয়ারম্যান ও ১৪ দলের নেতা সৈয়দ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন। নৌকার প্রার্থীর বিজয় নিশ্চিত করতে ভোট থেকে সড়ে দাঁড়িয়েছেন বলে জানান তিনি।

এদিকে ময়মনসিংহ-৩ আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ ও লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন।

এ ছাড়া নৌকার প্রার্থীর মনোনয়ন বাতিলের মামলায় হেরে নির্বাচন থেকেই সড়ে দাঁড়িয়েছেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী সুর্কিতি কুমার ম-ল। বিস্তারিত আমাদের প্রতিনিধিদের পাঠানো খবর:

মাইজভান্ডার রহমানিয়া মনজিলের ফটিকছড়ির সাংসদ নজিবুল বশর মাইজভান্ডারী তার নিজ বাসভবনে বিশেষ প্রেস ব্রিফিং করে ভোট থেকে সরে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন। নজিবুল বশর দশম ও একাদশ সংসদ নির্বাচনে নৌকা প্রতীক নিয়ে জোট নেতা হিসেবে বিজয়ী হয়েছিলেন। দ্বাদশ সংসদ নির্বাচনেও ভান্ডারী জোটগত মনোনয়ন পাওয়ার প্রবল সম্ভাবনা থাকলেও শেষ পর্যন্ত তিনি নৌকাবঞ্চিত হন। এরপর নিজ দলের মনোনয়নে ফুলের মালা প্রতীক নিয়ে ফটিকছড়িতে প্রার্থী হন ১৪ দলের নেতা ভান্ডারী।

১৯৯১ সালে আওয়ামী লীগের মনোনয়নে প্রথমবার এমপি হন ভান্ডারী। ১৯৯৬ সালে বিএনপিতে যোগ দিয়ে বিতর্কিত ১৫ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে ধানের শীষ প্রতীক নিয়ে দ্বিতীয়বার সাংসদ হন মাইজভান্ডার দরবার শরিফের সাজ্জাদানশীন হজরত নজিবুল বশর। পরে নিজেই প্রতিষ্ঠা করেন বাংলাদেশ তরিকত ফেডারেশন নামে একটি রাজনৈতিক দল। আওয়ামী লীগ নেতৃত্বাধীন ১৪ দলে যোগ দিয়ে ১৪ ও ১৮ সালের নির্বাচনে জোটগত মনোনয়নে নৌকা প্রতীক নিয়ে সর্বোচ্চ চারবার এমপি হন।

ময়মনসিংহ-৩ আসন থেকে সরে গেলেন জাপা দুই প্রার্থী : গত বুধবার রাতে স্থানীয় গৌরীপুর প্রেস ক্লাবে সংবাদ সম্মেলন করে নির্বাচন থেকে সড়ে দাঁড়ানোর ঘোষণা দেন জাপা প্রার্থী। ডা. মোস্তাফিজুর রহমান আকাশ জাতীয় পার্টির উপদেষ্টাম-লীর সদস্য। সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, নির্বাচনে আমার কর্মীদের ভয়ভীতি প্রদর্শন, পোস্টার ছিঁড়ে ফেলা এবং কার্যালয় ভাঙচুর করা হয়েছে। এখানে নির্বাচনে সুষ্ঠু পরিবেশ নেই। নির্বাচন কমিশনসহ সংশ্লিষ্ট দপ্তরে একাধিকবার অভিযোগ করেও কোনো সহযোগিতা পাইনি। এ নির্বাচন একপেশে নির্বাচন, এ কারণে আমি প্রার্থিতা প্রত্যাহার করে নিয়েছি।

এদিকে প্রচার-প্রচারণার শেষ মুহূর্তে এসে নির্বাচনের থেকে সরে গেলেন লক্ষ্মীপুর-৩ (সদর) আসনের জাতীয় পার্টির প্রার্থী মো. রাকিব হোসেন। গতকাল বিকেলে জেলা শহরের ‘আই-কেয়ার চক্ষু হসপিটাল’ অবস্থিত লাঙ্গল প্রতীকের নির্বাচনী অফিসে সংবাদ সম্মেলন করে আনুষ্ঠানিকভাবে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ানো ঘোষণা দেন রাকিব হোসেন।

সংবাদ সম্মেলনে (লাঙ্গল) প্রার্থী রাকিব হোসেন বলেন, প্রশাসনের পক্ষপাত, সুষ্ঠু পরিবেশ না থাকা ও কালো টাকার ছড়াছড়ির কারণে তিনি নির্বাচন থেকে সরে গেলেন। ভোট করার সুন্দর পরিবেশ নেই। প্রশাসন মুখে যা বলে তা বাস্তবায়ন করে না। শুরু থেকে প্রশাসন অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন দেবে এ কথা বলে আসছে। আমার কাছে সেই পরিবেশ মনে হচ্ছে না, তাই এ নির্বাচন থেকে সরে গেলাম।

আদালতে হেরে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন নৌকার প্রতিদ্বন্দ্বী দুই প্রার্থী : যশোর-৪ (অভয়নগর-বাঘারপাড়া) আসনে নৌকার বিরুদ্ধে আদালতে একের পর এক অভিযোগ দিয়ে শেষ পর্যন্ত হেরে গিয়ে নির্বাচন থেকে সরে দাঁড়ালেন বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির প্রার্থী সুর্কিতি কুমার ম-ল। গতকাল দুপুরে প্রেস ক্লাবে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ ঘোষণা দেন। তিনি বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টির কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি। বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী আন্দোলনের (বিএনএম) প্রতীকের নির্বাচনে অংশগ্রহণ করছিলেন।

এর আগে নৌকার বিপক্ষে নির্বাচন করবে না বলে গণমাধ্যমকে জানান, বর্তমান সংসদ সদস্য ও স্বতন্ত্র প্রার্থী রনজিত কুমার রায়। তারা দুজনই আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী এনামুল হক বাবুলের প্রার্থিতা চ্যালেঞ্জ করে নির্বাচন কমিশনে আপিলসহ আদালতে দুই দফা মামলা করেন। সবখানেই রায় তাদের বিপরীতে যায়।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত