ব্যবসায়ী দম্পতির বিরুদ্ধে মামলা

আপডেট : ০৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:৩৪ এএম

সম্পদের তথ্য গোপন করার অভিযোগে চট্টগ্রামের এম ইউ এম আবুল হোসাইন ও তার স্ত্রী ফয়জুননেছার বিরুদ্ধে আলাদা দুটি মামলা করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয় চট্টগ্রাম-১-এর সহকারী পরিচালক  মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে মামলা দুটি দায়ের করেন। এ খবর নিশ্চিত করেছেন দুদকের ওই কার্যালয়ের উপপরিচালক মো. নাজমুচ্ছায়াদাত। ব্যবসায়ী এম ইউ এম আবুল হোসাইন মেসার্স আকর্স ট্রেডিং কোম্পানি,ইউনিশিপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেড ও মেসার্স মাউ সল্ট ক্রাশিং ইন্ডাস্ট্রিজের মালিক। তিনি নগরের দক্ষিণ মধ্যম হালিশহরের আলী মিয়া সাহেবের বাড়ির সেকান্দার হোসাইনের ছেলে। ব্যবসায়ী ফয়জুননেছা হোসাইন তার স্ত্রী। তিনি মেসার্স এফ এন ট্রেডিং কোম্পানির মালিক ও ইউনিশিপ ইন্টারন্যাশনাল লিমিটেডের অংশীদার।

দুদক সূত্র জানায়, আবুল হোসাইন জ্ঞাত আয়বহির্ভূত ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকার অবৈধ সম্পদের মালিক। দুদক আইন, ২০০৪-এর ২৭ (১) ধারায় তিনি শাস্তিযোগ্য অপরাধ করেছেন।

এজাহারে আরও উল্লেখ করা হয়েছে, ২০১৯ সালের ১৭ অক্টোবর দুদকে দাখিল করা সম্পদ বিবরণীতে তিনি ২০ কোটি ৬৫ লাখ ৭২ হাজার টাকার স্থাবর সম্পদ ও ৫৪ লাখ টাকার অস্থাবর সম্পদসহ  মোট ২১ কোটি ১৯ লাখ ৭২ হাজার টাকার সম্পদ অর্জনের কথা

স্বীকার করেন। তার বিবরণী যাচাই করে দেখা গেছে, তিনি সম্পদের প্রকৃত বাজারমূল্য গোপন করেছেন এবং সাফ বিক্রয় কবলা না করে হেবা দলিল করেছেন। একইভাবে স্থাবর সম্পদ নিজ নামে অর্জন করার পরও সাফ বিক্রয় কবলা না করে আম মোক্তারনামা করেছেন। এসব তিনি সম্পদের আয়ের উৎস গোপন করার জন্য করেছেন। শুধু তাই নয়, অসৎ উদ্দেশে দখল করে দেওয়ার কথা বলে ভূমি মালিকদের কাছ থেকে জায়গা-জমি নিজ নামে করে ফেলেন তিনি। বিলাসবহুল ভবনে থাকার তথ্যও তিনি গোপন করেছেন। তার ২০০৫-০৬ করবর্ষের তথ্য পর্যালোচনা করে  দুদক দেখতে পায়, মধ্যম হালিশহরে তার সম্পূর্ণ শীততাপ নিয়ন্ত্রিত ২৪ হাজার বর্গফুটের পাঁচতলা ভবন রয়েছে, যেখানে তিনি সপরিবারে বাস করেন। তার নথিতে ১২ কোটি ৬৭ লাখ ৫২ হাজার টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদের তথ্য পাওয়া গেছে, যার ৭ কোটি ৯৪ লাখ ৪৭ হাজার টাকাই জ্ঞাত আয়ের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।

অপরদিকে তার স্ত্রী ফয়জুননেছা হোসাইনের পারিবারিক ব্যয় প্রভৃতি ২ কোটি ১ লাখ ৯৪ হাজার ৯৬৭ টাকার সম্পদের তথ্য পাওয়া যায়। এর ৯৯ লাখ ৪ হাজার ৪৩০ টাকাই জ্ঞাত আয়বহির্ভূত সম্পদ। তার বিরুদ্ধে ২৭(১) ধারায় মামলা করা হয়েছে। ফয়জুননেছা মেসার্স এফ এন ট্রেডিং কোম্পানি ও ইউনিশিপ ইন্টারন্যাশনালের মালিক।

ব্যবসায়ী এ দম্পতির দুটি গাড়িসহ ৮১ ধরনের সম্পদ ক্রোকের জন্য আদালতে আবেদন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন দুদকের পিপি সানোয়ার হোসেন লাভলু।

উল্লেখ্য, এম ইউ এম আবুল হোসেন চট্টগ্রাম ক্লাব লিমিটেড, চট্টগ্রাম বোট ক্লাব, চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটান শুটিং ক্লাব, শাহীন গলফ অ্যান্ড কান্ট্রি ক্লাব, অল কমিউনিটি ক্লাবসহ বেশকিছু ক্লাবের আজীবন সদস্য।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত