আওয়ামী লীগ সভাপতি ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেছেন, ‘জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব আমাদের স্বাধীনতা দিয়ে গেছেন। আজ আমরা স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। এই মর্যাদা ধরে রেখে ২০৪১ সাল নাগাদ আমরা উন্নত সমৃদ্ধ স্মার্ট বাংলাদেশ গড়ে তুলব।’ গতকাল বৃহস্পতিবার বিকালে নারায়ণগঞ্জের একেএম শামসুজ্জোহা স্টেডিয়ামে নির্বাচনী শেষ জনসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ তরুণ সমাজ শিক্ষায়-দীক্ষায় প্রযুক্তি জ্ঞানে দক্ষ জনশক্তিতে গড়ে উঠবে। আমাদের স্মার্ট জনশক্তি, আমাদের স্মার্ট সরকার, স্মার্ট ইকোনমি, স্মার্ট সোসাইটি আমরা গড়ে তুলব।
শেখ হাসিনা বলেন, আজ অবকাঠামো উন্নয়ন রাস্তাঘাটের উন্নয়ন সবকিছু আমরা করেছি। দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছি এবং আজ উন্নয়নশীল দেশের মর্যাদা পেয়েছি। উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে আমাদের যাত্রা যাতে সহজ হয় একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া আর কেউ এটা ধরে রাখতে পারবে না। কারণ আমরা দেখেছি আমরা ক্ষমতা থেকে যাওয়ার পর বিএনপি যখন ক্ষমতায় এসেছিল যা উন্নতি করেছিলাম তা ধ্বংস করেছিল। আর কেউ এদেশের উন্নতি করবে না এমনকি মন দিয়েও করবে না। আওয়ামী লীগ সভাপতি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে সামনে রেখে সারা বাংলাদেশের মানুষকে শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বানও জানান। তিনি বলেন, ‘আমি আপনাদের অনুরোধ করব সবাই শান্তিপূর্ণভাবে থাকবেন, শুধু আপনারা নন, সারা বাংলাদেশের সব জনগণের কাছে আমি অনুরোধ করব সবাই শান্তিপূর্ণভাবে থাকবেন। প্রত্যেকে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে আপনাদের ভোটের অধিকার যেটা সাংবিধানিক অধিকার, সে অধিকার প্রয়োগ করবেন।’ তিনি বলেন, সবাই ভোটকেন্দ্রে যাবেন ভোট দিয়ে প্রমাণ করবেন বাংলাদেশে গণতন্ত্র বিদ্যমান।
শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৯ থেকে ২০২৩-এ দেশে গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে এবং আজ আমরা ২০২৪-এ পা দিয়েছি। গণতান্ত্রিক ধারা অব্যাহত আছে বলেই বাংলাদেশের এত উন্নতি হয়েছে। বাংলাদেশ এগিয়ে যাচ্ছে।
জনসভায় শেখ হাসিনা তার দলের নারায়ণগঞ্জ জেলার চার প্রার্থীকে পরিচয় করিয়ে দেন এবং তাদের জন্য নৌকায় ভোট প্রার্থনা করেন। তিনি বলেন, নৌকা মার্কা আমাদের মার্কা। এই নৌকায় ভোট দিয়েই এদেশের মানুষ স্বাধীনতা পেয়েছে। এই নৌকা আজ উন্নয়ন দিয়েছে। এই নৌকায় আগামীতে উন্নত সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ে তুলবে। তাই নৌকা মার্কায় ভোট দিয়ে আমাদের প্রার্থীদের আপনারা জয়যুক্ত করবেন আপনাদের কাছে সেই আহ্বান জানাই।
বিএনপিকে উদ্দেশ্য করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, তারা নির্বাচনে আসেননি, এটা তাদের ইচ্ছা। কিন্তু মানুষের ভোটের অধিকারে বাধা দেওয়া এটা জনগণ কোনোভাবেই মেনে নেবে না।
উন্নয়নের যাত্রা আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ ধরে রাখতে পারবে না উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, উন্নয়নের যাত্রা একমাত্র আওয়ামী লীগ ছাড়া অন্য কেউ ধরে রাখতে পারবে না। কারণ দেখেছি ওই বিএনপি একবার ক্ষমতায় এসে যতটুকু উন্নতি করেছিলাম ধ্বংস করেছে। আর কেউ এ দেশের উন্নতি করবেও না, মন দিয়ে করবে না।
খাদ্যের চাহিদা মেটানোর কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, যার যতটুকু জমি আছে উৎপাদন করবেন। আমাদের খাদ্যের অবস্থান আমাদের করতে হবে। কেউ এক ইঞ্চি জমিও অনাবাদি রাখবেন না। গণভবন এখন আর শুধু প্রধানমন্ত্রীর ভবন নেই। সেখানে খামারবাড়ি গড়ে তুলেছি।
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা বলেন, ২০০৮-এর নির্বাচনে বিএনপি ২০ দলীয়ভাবে ও আমরা মহাজোট হয়ে নির্বাচন করি। আমরা ২৩৩ সিটে জয়লাভ করেছিলাম। বিএনপি পায় শুধু ৩০টি সিট। বাকিগুলো জোটের মিত্ররা পেয়েছিল। এ নির্বাচনের পর থেকেই বিএনপি নির্বাচনকে ভয় পায়। তারা নির্বাচন ঠেকাতে আগুনসন্ত্রাস শুরু করে। ২০১৪ এর নির্বাচন যাতে না হয় সে লক্ষ্যে ২০১৩ থেকেই তারা অগ্নিসন্ত্রাস চালিয়েছে। মানুষকে পুড়িয়ে ফেলেছে। মানুষকে হত্যা করেছে, সমাজে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করেছে। জ্বালাও পোড়াও, মানুষ খুন বিএনপির তিন গুণ।
শামীম ওসমানের নারায়ণগঞ্জের জন্য মেট্রোরেল চাওয়া প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা ঢাকায় মেট্রোরেল চালু করেছি, ঢাকার সঙ্গে নারায়ণগঞ্জকে সংযুক্ত করতে ৩টি মেট্রোরেল নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। এগুলোর মধ্যে এমআরটি লাইন-১, এমআরটি লাইন-২, এমএরটি লাইন-৪ রয়েছে।
নারায়ণগঞ্জ-৪ আসনে আওয়ামী লীগের প্রার্থী ও সংসদ সদস্য শামীম ওসমানের সার্বিক তত্ত্বাবধানে এবং জেলা আওয়ামী লীগের সভাপতি আবদুল হাইয়ের সভাপতিত্বে জনসভায় আরও উপস্থিত ছিলেন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে নৌকা প্রতীকের প্রার্থী বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজী, নারায়ণগঞ্জ-২ আসনের নৌকা প্রতীকের প্রার্থী ও সংসদ সদস্য নজরুল ইসলাম বাবু, নারায়ণগঞ্জ-৫ আসনের সংসদ সদস্য ও লাঙ্গলের প্রার্থী এ কে এম সেলিম ওসমান, নারায়ণগঞ্জ সিটি করপোরেশনের মেয়র সেলিনা হায়াৎ আইভী প্রমুখ।
