জাপা মহাসচিবকে ঠেকাতে একাট্টা আওয়ামী লীগ

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:২৪ এএম

আওয়ামী লীগের ঘাঁটি হিসেবে খ্যাত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনটিতে বারবার জাতীয় পার্টিকে (জাপা) ছাড় দেওয়ায় ক্ষোভ ও প্রতিবাদ করে আসছেন এ আসনের আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা। জাপার প্রার্থী দলের মহাসচিব অ্যাডভোকেট মুজিবুল হক চুন্নুকে ছাড় দিতে গিয়ে এবারও সরে যেতে হলো আওয়ামী লীগের নৌকার প্রার্থী নাসিরুল ইসলাম আওলাদকে। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে মাঠে কাজ করছেন আওয়ামী লীগের মনোনয়নবঞ্চিতরা। তারা এবার জাপার প্রার্থীকে ঠেকাতে একাট্টা হয়েছেন।

জানা যায়, করিমগঞ্জ ও তাড়াইল উপজেলা নিয়ে গঠিত কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে আওয়ামী লীগ প্রার্থী হিসেবে ১৯৯১ ও ১৯৯৬ সালে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হন মিজানুল হক। পরে ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি স্বল্প ভোটের ব্যবধানে চারদলীয় জোট প্রার্থী সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ওসমান ফারুকের কাছে হেরে যান। ২০০৮ ও ২০১৪ সালের নির্বাচনে জাতীয় পার্টির সঙ্গে আওয়ামী লীগের জোটগত ঐক্যের কারণে আসনটিতে মহাজোটের প্রার্থী হন জাপার মুজিবুল হক চুন্নু। ওই নির্বাচনেও স্বতন্ত্র প্রার্থী ছিলেন মিজানুল হক।

দলীয় সূত্রমতে, কিশোরগঞ্জ-৩ আসনে এবার আওয়ামী লীগ থেকে ২১ জন প্রার্থী মনোনয়নপত্র জমা দেন। তাদের মধ্যে উপজেলা আওয়ামী লীগের আহ্বায়ক ও উপজেলা চেয়ারম্যান নাসিরুল ইসলাম খান আওলাদ দলীয় মনোনয়ন পেয়েও পরে দলীয় সভানেত্রী শেখ হাসিনার নির্দেশে প্রার্থিতা প্রত্যাহার করেন। তবে স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসেবে আওয়ামী লীগের চার নেতা নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করছেন।

স্বতন্ত্র হয়ে নির্বাচনে থাকা আওয়ামী লীগের চার নেতা হলেন, কাঁচি প্রতীকে মেজর (অব.) নাসিমুল হক, কেটলি প্রতীকের কেন্দ্রীয় স্বেচ্ছাসেবক লীগের শ্রমবিষয়ক সম্পাদক ব্যারিস্টার গোলাম কবীর ভূঁইয়া, ঈগল প্রতীকের নিউইয়র্ক মহানগর আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক মাহফুজুল হক ও ট্রাক প্রতীকের রুবেল মিয়া। তারা সবাই নৌকার মনোনয়ন প্রত্যাশী ছিলেন। এদের মধ্যে কাঁচি প্রতীকের মেজর (অব.) নাসিমুল হকের সঙ্গে জাপা মহাসচিব চুন্নুর লাঙ্গল প্রতীকের হাড্ডাহাড্ডি লড়াই হতে পারে বলে মনে করছেন স্থানীয় ভোটাররা।

দলীয় সিদ্ধান্তের কারণে এ বিষয়ে স্থানীয় কোনো আওয়ামী লীগ নেতা প্রকাশ্যে বক্তব্য দিতে চাননি। তবে স্থানীয় নেতাদের কয়েকজনের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, গত তিনটি নির্বাচনে জাতীয় পার্টির মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু এ আসনে সংসদ সদস্য হয়েছেন। আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতায় ভর করে কোনো প্রতিদ্বন্দ্বিতাই মোকাবিলা করতে হয়নি তাকে। গত তিনটি নির্বাচনে আওয়ামী লীগও কোনো প্রার্থী দেয়নি। এই নেতার সাম্প্রতিক কিছু বক্তব্য ক্ষুব্ধ করেছে আওয়ামী লীগের তৃণমূল পর্যায়ের নেতাকর্মীদের। এর ফলে তার বিরুদ্ধে এবার একাট্টা স্থানীয় আওয়ামী লীগ। তারা জাতীয় পার্টিকে ছাড় দিতে একেবারেই নারাজ।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত