রূপগঞ্জে টাকা দিয়ে ভোট কিনছেন মন্ত্রী গাজী!

আপডেট : ০৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৪ এএম

দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে নারায়ণগঞ্জ-১ আসনে দলীয় নেতাদের দিয়ে নিজের পক্ষে ভোট কেনার অভিযোগ উঠেছে আওয়ামী লীগের প্রার্থী বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী গোলাম দস্তগীর গাজীর বিরুদ্ধে। সেখানে জাতীয় পরিচয়পত্র (এনআইডি) দেখে ভোটারপ্রতি ১ হাজার টাকা করে দেওয়া হচ্ছে বলে অনেকে জানিয়েছেন।

স্থানীয়রা বলছেন, নির্বাচন সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ হলে কেটলি প্রতীকের স্বতন্ত্র প্রার্থী ও সাবেক উপজেলা চেয়ারম্যান শাহজাহান ভূঁইয়া নির্বাচিত হবেন। এমন ভয়ে ভোটের দুদিন আগেই টাকা দিয়ে ভোট কেনা শুরু করেছেন গোলাম দস্তগীর গাজী।

তারা বলেন, গত ১৫ বছরে সংসদ সদস্য থাকাকালে গোলাম দস্তগীর গাজী এবং তার ছেলেরা কারখানা ও আবাসন প্রকল্পের নামে হাজার হাজার মানুষের চাষের জমি দখল করে। তাই যেকোনো মূল্যে তাদের প্রতিহত করতে চায় রূপগঞ্জবাসী।

ভোটারদের মধ্যে টাকা ছড়ানো হচ্ছে এমন একটি ভিডিও ক্লিপ ছড়িয়ে পড়েছে। যেখানে দেখা যায়, নারায়ণগঞ্জ-১ আসনের রূপগঞ্জের বরাবো বাজারের ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতির নির্মাণাধীন বাড়ির নিচতলায় এনআইডি দেখে টাকা দেওয়া হচ্ছে। টাকা নেওয়ার জন্য অনেক মানুষ জড়ো হয়েছেন। ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগ সভাপতি মুলজার, আওয়ামী লীগের স্থানীয় নেতা রতন মিয়া ও খোরশেদসহ বেশ কয়েকজন সেখানে টাকা বিতরণ করছেন। ভিডিও ক্লিপটি দেখে স্থানীয়দের কাছ থেকে তাদের নাম নিশ্চিত হওয়া গেছে। এর মধ্যে সভাপতি মুলজারের রাজনৈতিক পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেলেও অন্যরা কোন পদে রয়েছেন তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।

এদিকে ছড়িয়ে পড়া আরেকটি ভিডিও ক্লিপে দেখা যায়, সন্ধ্যাকালীন সময়ে একটি ঘরের মধ্যে আওয়ামী লীগের স্থানীয় বেশ কিছু নেতা বসে রয়েছেন। আর জাতীয় পরিচয়পত্র দেখে টাকা দেওয়া হচ্ছে। ওই ভিডিও ক্লিপে এক নারীকে বলতে শোনা যায়, ‘আমি কখন নিছি?’ এ সময় ওই ঘরের মেঝেতে বসা একজন বলেন, ‘তোর কথা কয়নি, তোর মায়েরটা লইয়া গেছে। আব্বারটা নিছে।’

আওয়ামী লীগ নেতা মুলজারের কাছ থেকে টাকা নিয়ে যাওয়ার সময় কথা হয় স্থানীয় এক নারীর সঙ্গে। নাম জানতে চাইলে তিনি মুমিনের মা বলে পরিচয় দেন। কীসের টাকা জানতে চাইলে বলেন, ‘এমন্যেই দিছে।’ তখন পরিচয় গোপন করে এই প্রতিবেদক বলেন, ‘আমাকে দেবে না?’ এর উত্তরে তিনি বলেন, ‘ভোটার হইলে দিব।’

নাম প্রকাশ না করার শর্তে স্থানীয় এক দোকানদার বলেন, ‘মুলজার সাহেব মন্ত্রী সাহেবের কাছের লোক। তারাবোর ৯ নম্বর ওয়ার্ড আওয়ামী লীগের সভাপতি। এই এলাকার নির্বাচনের দায়িত্বেও তিনি আছেন। তাই কাছের লোকদের আগে আগেই টাকা দিচ্ছেন।’

ভোট দেওয়ার জন্য টাকা দিচ্ছে কি না, জানতে চাইলে ওই দোকানি বলেন, ‘যারা টাকা পাচ্ছে তারা এই এলাকারই ভোটার। বাড়তি কিছু বললে সমস্যা আছে।’

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে রূপগঞ্জ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) ও সহকারী রিটার্নিং অফিসার মোহাম্মদ মাহমুদ হাসান রাসেল বলেন, ‘এ ধরনের অভিযোগ শুনেছি। ভিডিও ফুটেজ দেখে ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’

স্থানীয়রা বলছেন, রূপগঞ্জ আওয়ামী লীগ দুটি অংশে বিভক্ত হয়ে পড়েছে। এর মধ্যে গত ১৫ বছরে সুবিধাভোগীরা বর্তমান সংসদ সদস্য গোলাম দস্তগীর গাজীর পক্ষে থাকলেও আওয়ামী লীগ ও এর অঙ্গ সংগঠনের সুবিধাবঞ্চিত প্রায় ৭৫ ভাগ কর্মী শাহজাহান ভূঁইয়ার পক্ষে কাজ করছেন।

তারা আরও বলেন, শেষ হাসিটা শাহজাহান ভূঁইয়াই হাসবে। কারণ তার নামের ওপর কোনো কালি নাই। আওয়ামী লীগকে ভালোবেসে রাজনীতি করেছেন। কারও ক্ষতি করেননি। জমি দখল করেননি। মাদক কারবারিদের সঙ্গেও তার আঁতাত নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত