পর্যটন নিয়ে ভারত-মালদ্বীপের দ্বন্দ্ব

আপডেট : ১০ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:১৮ পিএম

ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি সম্পর্কে মালদ্বীপের মন্ত্রীদের অবমাননাকর মন্তব্য এবং তার জেরে ভারতীয়রা মালদ্বীপে বেড়াতে যাওয়া বয়কট করার আহ্বান জানানোর পর দুই দেশের সুদৃশ্য সৈকতগুলো একটি দ্বন্দ্বের কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়েছে। এমন এক সময়ে ঘটনাটি ঘটল  যখন মালদ্বীপের প্রেসিডেন্ট মোহাম্মদ মুইজ্জুর অধীনে দেশটিকে চীনের সঙ্গে ভালো সম্পর্ক গড়তে দেখা যাচ্ছে। মুইজ্জু নভেম্বরে ক্ষমতা গ্রহণ করেন।

গত সপ্তাহে মোদি ভারতের লাক্ষাদ্বীপে গিয়ে সেখানকার আদিম সমুদ্র সৈকতের প্রশংসা করেছেন। তিনি সোশ্যাল মিডিয়ায় সৈকতে বালির ওপর দিয়ে হাঁটা আর স্নরকেলিং করার ছবি পোস্ট করেন। খবর ভয়েজ অব আমেরিকার।

দ্বীপগুলো ভারতের মূল ভূখণ্ড থেকে প্রায় ২০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত। প্রতি বছর মাত্র কয়েক হাজার মানুষ এই দ্বীপগুলোয় ঘুরতে যায়। মোদি বলেছিলেন, ‘যারা নিজের মধ্যকার দুঃসাহসী সত্তাকে আলিঙ্গন করতে চায়’ তাদের তালিকায় ওই দ্বীপগুলো থাকা উচিত।

তিনি মালদ্বীপের কথা উল্লেখ করেননি। কিন্তু তার পোস্টগুলোকে ছোট্ট দেশটির কেউ কেউ দৃশ্যত ভারতীয় পর্যটকদের মালদ্বীপের বিলাসবহুল রিসোর্ট থেকে লাক্ষাদ্বীপের স্বল্প পরিচিত সমুদ্র সৈকতে আকৃষ্ট করার প্রচেষ্টা হিসেবে দেখেছে।

মালদ্বীপের একজন উপমন্ত্রী মরিয়ম শিউয়ানা মোদিকে ইঙ্গিত করে এক্স-এ লিখেছেন, ‘পুরোদস্তুর ক্লাউন’। তিনি তাকে ‘ইসরায়েলের হাতের পুতুল’ বলে অভিহিত করেছেন। অন্য দুজন মন্ত্রীও মোদিকে নিয়ে কুরুচিপূর্ণ মন্তব্য করেছেন। পোস্টগুলো পরবর্তীতে মুছে ফেলা হয়, তিন কর্মকর্তাকে বরখাস্ত করা হয়। মালদ্বীপ সরকারও তাদের মন্তব্যের সঙ্গে একমত নন বলে জানিয়ে দেয়।

গত বছর মালদ্বীপের গ্রীষ্মমণ্ডলীয় সমুদ্র সৈকতে সর্বাধিক সংখ্যক দর্শনার্থী ছিল ভারতীয়, যা মোট পর্যটকদের ১১ শতাংশের বেশি। মালদ্বীপের মোট দেশজ উৎপাদনের প্রায় এক চতুর্থাংশ পর্যটন খাত থেকে আসে। মালদ্বীপের পাঁচ লাখ জনসংখ্যার জন্য এই খাত অত্যাবশ্যক।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত