ফিরোজ সুনীলকে অব্যাহতি, তালিকা আরও লম্বা হবে

আপডেট : ১৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৪:২৮ এএম

জাতীয় পার্টির (জাপা) কো-চেয়ারম্যান কাজী ফিরোজ রশীদ ও প্রেসিডিয়াম মেম্বার সুনীল শুভ রায়কে দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এ দুই গুরুত্বপূর্ণ নেতাকে অব্যাহতি দেওয়া হলেও তার আগে কারণ দর্শানোর কোনো চিঠি দেওয়া হয়নি, এমনকি কোনো ধরনের আলোচনা ছাড়াই তাদের বহিষ্কার করা হয়। গতকাল শুক্রবার জাতীয় পার্টির যুগ্ম দপ্তর সম্পাদক মাহমুদ আলম স্বাক্ষরিত বিজ্ঞপ্তিতে দুই নেতাকে বহিষ্কারের তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ‘জাতীয় পার্টির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের দলীয় গঠনতন্ত্রে প্রদত্ত ক্ষমতাবলে কাজী ফিরোজ রশীদ ও সুনীল শুভ রায়কে দলীয় সব পদ-পদবি থেকে অব্যাহতি প্রদান করেছেন।’

জাপার একাধিক নেতাকর্মীর সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, অব্যাহতির তালিকা আরও দীর্ঘ হতে পারে। দলের চেয়ারম্যান ও মহাসচিবের বিরুদ্ধে বিভিন্নভাবে সক্রিয় নেতাকর্মীদের তালিকা করা হয়েছে। সেই তালিকায় থাকা আরও একাধিক নেতাকর্মীকে অব্যাহতি দেওয়া হতে পারে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব মুজিবুল হক চুন্নু দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘কাজী ফিরোজ ও সুনীল শুভ দলের শৃঙ্খলাবিরোধী কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকায় তাদের বহিষ্কার করা হয়েছে।’ এ দুই নেতা শৃঙ্খলাবিরোধী কোন কর্মকাণ্ডে জড়িত তা জানতে চাইলে জাপা মহাসচিব বলেন, ‘আমি আপাতত তা বলতে চাই না।’

কারণ দর্শানোর চিঠি ছাড়া বহিষ্কার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ায় পড়ে কি না, এমন প্রশ্নের উত্তরে মুজিবুল হক চুন্নু বলেন, ‘আমাদের গঠনতন্ত্রে চেয়ারম্যানকে একক ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে। চেয়ারম্যান তার ক্ষমতা প্রয়োগ করেছেন।’

অব্যাহতির বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানতে চাইলে কাজী ফিরোজ রশীদ দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘তাদের ইচ্ছে হয়েছে তাই আমাকে অব্যাহতি দিয়েছে। এ নিয়ে আমি কিছু বলতে চাই না। আমি দল থেকে মন্ত্রী হয়েছি, সংসদ সদস্য হয়েছি, দলের নানা চড়াই-উতরাই পার করেছি। এখন হঠাৎ মনে হলো আমাকে সরিয়ে দিতে হবে, দল তাই করল।’

আর সুনীল শুভ রায় বলেন, ‘জাপা চেয়ারম্যান জিএম কাদের নিজেই বলেছেন নির্বাচনে নিয়ে দলকে কোরবানি দেওয়া হয়েছে। এখন আমরা যখন প্রশ্ন তুলেছি, নির্বাচনের আগে এককভাবে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্ত থাকলেও কেন আওয়ামী লীগের সঙ্গে সমঝোতা করে নির্বাচনে যাওয়া হলো, তখন দল অব্যাহতি দিল! চেয়ারম্যান-মহাসচিব একের পর এক অনিয়ম করবেন আর আমরা প্রশ্ন তুলতে পারব না, এ তো হতে পারে না! আমার কাছে এ অব্যাহতিপত্র কচুপাতার চেয়েও মূল্যহীন।’

তিনি আরও বলেন, ‘এ অব্যাহতি আমাকে মুক্তি দিয়েছে। এখন থেকে মানুষ আর আমাকে গালি দেবে না। জাপা চেয়ারম্যান-মহাসচিব যা করছেন তাতে মুখ দেখানো যায় না, রাস্তায় মানুষ আমাদের গালি দেয়, হাসাহাসি করে।’

গত বুধবার নির্বাচনে জাতীয় পার্টির ভরাডুবির কারণে দলের চেয়ারম্যান জিএম কাদের ও মহাসচিব মুজিবুল হক এবং সিনিয়র কো-চেয়ারম্যান ব্যারিস্টার আনিসুল ইসলাম মাহমুদের পদত্যাগ চেয়ে বিক্ষোভ করেছিলেন দলটির একদল নেতাকর্মী। ওই বিক্ষোভে অংশ নিয়েছিলেন সুনীল শুভ। তবে অংশ নেওয়ার কথা থাকলেও শেষ পর্যন্ত বিক্ষোভে যাননি কাজী ফিরোজ।

ওই বিক্ষোভে আরও অংশ নিয়েছিলেন দলের কো-চেয়ারম্যান সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা, প্রেসিডিয়াম মেম্বার সফিকুল ইসলাম সেন্টু ও জহিরুল ইসলাম। এ ছাড়া ছিলেন অতিরিক্ত মহাসচিব সাহিদুর রহমান টেপা ও লিয়াকত হোসেনসহ আরও অনেক নেতাকর্মী।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত