মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য পরিচয়ে রাজধানীর আবাসিক এলাকার একটি বাসায় দীর্ঘক্ষণ ধরে চালানো হয় তল্লাশি। সেখানে মাদক না পেয়ে আলমারিতে থাকা ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকায় নজর পড়ে তল্লাশিকারীদের। পরে ওই বাসার বাসিন্দা ব্যবসায়ী ও তার স্ত্রীকে গ্রেপ্তারের ভয় দেখিয়ে আলমারিতে থাকা সেই টাকা হাতিয়ে নেওয়া হয়। শুধু তা-ই নয়, মামলা করার ভয় দেখিয়ে তাদের কাছে আরও টাকা দাবি করে। গত ২৯ ডিসেম্বর রাতের এ ঘটনায় ওই ব্যবসায়ী পরে ভাটারা থানায় মামলা করেন।
মামলার বাদী ব্যবসায়ী ববি এন ডিয়াজ। তিনি অভিযোগে বলেন, তার পূর্বপরিচিত ফয়জুল ইসলাম রাসেল ওরফে ভাইস্তা রাসেল বিভিন্ন সময়ে মাদক দিয়ে তাকে ফাঁসিয়ে দেওয়ার হুমকি দিত। এরই ধারাবাহিকতায় গত ২৯ ডিসেম্বর রাত ৮টার দিকে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য পরিচয়ে শাহ আলম নামে এক ব্যক্তি এবং দুই স্টার ব্যাজ লাগানো পোশাক পরিহিত ও পোশাকের নেমপ্লেটে বাবর নাম লেখা এক ব্যক্তিসহ কয়েকজন তার বাসায় ঢোকেন। পরে প্রায় সাড়ে ৯টা পর্যন্ত তল্লাশি করে পুরো বাসার সব জিনিসপত্র ওলট-পালট করেন তারা। কিন্তু কোনো ধরনের মাদকদ্রব্য না পেয়ে আলমারির ড্রয়ারে থাকা ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা দেখলে তাকে এবং তার স্ত্রী এলিন রেসেল পেরেরাকে গ্রেপ্তারের হুমকি দেন এবং ২০ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন।
ববি তার অভিযোগে আরও বলেন, এত টাকা তারা দিতে পারবেন না জানালে তল্লাশিতে আসা পোশাকের নেমপ্লেটে বাবর নাম লেখা ব্যক্তি ড্রয়ারের টাকাগুলো তখন দিয়ে দাবি করা চাঁদার বাকিটা দ্রুত পরে দেওয়ার কথা বলে। তিনি টাকা দিতে না চাইলে গ্রেপ্তারের হুমকি দিলে আতঙ্কে তার স্ত্রী এলিন সেই টাকা তাদের হাতে তুলে দেন। পরে তারা আবার মোবাইল ফোনে কল করে বাকি ১৬ লাখ টাকা দাবি করেন।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) বাড্ডা জোনের সহকারী কমিশনার (এসি) রাজন কুমার সাহা বলেন, ‘মিথ্যা মামলার হুমকি দিয়ে ব্যবসায়ীর বাসা থেকে ৪ লাখ ৩০ হাজার টাকা হাতিয়ে নেওয়ার ঘটনায় ফয়জুল ইসলাম নামে একজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তিনি নিজেকে ব্যবসায়ী দাবি করলেও তার বিরুদ্ধে একাধিক মামলার তথ্য পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘মামলার আসামি শাহ আলম ও বাবর নামে ওই দুজন মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের সদস্য কি না এবং তাদের পূর্ণাঙ্গ পরিচয় খুঁজে বের করার চেষ্টা চলছে। ওই ব্যবসায়ীর বাসার আশপাশের সিসিটিভির ফুটেজ সংগ্রহ করা হচ্ছে। ঘটনাটি সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত করা হচ্ছে। এর সঙ্গে জড়িত প্রত্যেকের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
এ প্রসঙ্গে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের ঢাকা মহানগর দক্ষিণের উপপরিচালক মো. মাসুদ হোসেন দেশ রূপান্তরকে বলেন, ববি নামে ওই ব্যবসায়ী তাদের কাছে একটি লিখিত অভিযোগ করেছেন। সেজন্য সদর দপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি হয়েছে। তারা কাজ করছে।
তিনি আরও বলেন, এসআই শাহ আলম বর্তমানে মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরের খিলগাঁও অঞ্চলে কর্মরত আছেন। অঞ্চলটি তার (মাসুদ হোসেন) অধীনে এবং গণমাধ্যমে এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ হওয়ায় তিনি বিভাগীয় তদন্ত করছেন। শাহ আলম স্বীকার করেছেন তিনিসহ অধিদপ্তরের সাতজন গোপন তথ্যর ভিত্তিতে ব্যবসায়ী ববির বাসায় গিয়েছিলেন। সেখানে মাদক পাননি। তবে টাকা নেওয়ার বিষয়টি সঠিক নয় বলে দাবি করেছেন। তারপরও যেহেতু তদন্ত হচ্ছে। তদন্ত প্রতিবেদন পেলে সেভাবে ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
