১৩ জেলায় শৈত্যপ্রবাহ

আপডেট : ১৪ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৩২ এএম

রংপুর বিভাগ ও অন্য ৫ পাঁচ জেলাসহ ১৩ জেলার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে। গতকাল শনিবার দেশের সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৮ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে দিনাজপুরে। পৌষের শেষে এসে এই শৈত্যপ্রবাহের কারণে ওইসব জেলায় দুর্ভোগে পড়েছে মানুষ।

আবহাওয়া অধিদপ্তর বলছে, এই শৈত্যপ্রবাহ (তাপমাত্রা ৮ থেকে ১০ ডিগ্রি সেলসিয়াস) কয়েক দিন চলতে পারে। অধিদপ্তরের পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, বৃষ্টি বা বজ্রসহ বৃষ্টি হতে পারে। বৃষ্টির পর শীত আরও তীব্র হবে।

গত শুক্রবার দেশের চার জেলায় মৃত্যু শৈত্যপ্রবাহের খবর দিয়েছিল আবহাওয়া অধিদপ্তর।

গতকাল আবহাওয়াবিদ মো. বজলুর রশিদ জানান, রংপুর বিভাগের ৮টি জেলা এবং রাজশাহী, পাবনা, নওগাঁ, চুয়াডাঙ্গা ও কুষ্টিয়ার ওপর দিয়ে মৃদু শৈত্যপ্রবাহ বয়ে যাচ্ছে এবং তা অব্যাহত থাকতে পারে। দিনাজপুরের পর সর্বনিম্ন তাপমাত্রা ৮ দশমিক ৯ ডিগ্রি সেলসিয়াস রেকর্ড করা হয়েছে নওগাঁর বদলগাছীতে।

আবহাওয়ার পূর্বাভাসে বলা হয়েছে, আগামী কয়েক দিন আকাশ মেঘলা থাকতে পারে এবং সারা দেশে মাঝারি থেকে ঘন কুয়াশা পড়তে পারে। এটি দেশের কোথাও কোথাও দুপুর পর্যন্ত অব্যাহত থাকতে পারে। ঘন কুয়াশার কারণে বিমান চলাচল, অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন এবং সড়ক যোগাযোগে সাময়িক বিঘœ ঘটতে পারে। এ ছাড়া সারা দেশে রাত এবং দিনের তাপমাত্রা প্রায় অপরিবর্তিত থাকতে পারে। তবে দেশের কোথাও কোথাও দিনে ঠান্ডা পরিস্থিতি বিরাজ করতে পারে।

কাঁপছে দিনাজপুর : ‘তিন ধরে রোদের দেখা নেই। শীত নিবারণের জন্য গরম কাপড়ও বাসায় তেমন নেই। অন্যের জমিতে কাজ করে যা আয় হয় তা দিয়ে কোনো রকমে সংসার চলে। শীত যেভাবে বাড়ছে, তাতে বাড়ি থেকে বের হওয়া যাচ্ছে না। এখন পেটে কী দেব সেটার চিন্তা করতেছি।’ এভাবে কথাগুলো বলছিলেন দিনাজপুর সদর উপজেলার চেহেলগাজী ইউনিয়নের চাঁদগঞ্জ গ্রামের ৭৫ বছর বয়সী নরেশ রায়।

এমন তীব্র শীতের কারণে শহরের হকার্স মার্কেট, বউবাজারসহ বিভিন্ন স্থানে ফুটপাতের পুরাতন জামা-কাপড়ের দোকানে মানুষের ভিড় বেড়েছে। গ্রামাঞ্চলে শীতের ধকল সইতে হচ্ছে গৃহপালিত পশুদের। গরু কিংবা ছাগলকে শীতের তীব্রতা থেকে রক্ষায় পরানো হচ্ছে চটের বস্তা বা পুরাতন জামা-কাপড়।

চার দিন সূর্যের দেখা নেই কুড়িগ্রামে : দিনের অধিকাংশ সময় থাকছে মেঘাচ্ছন্ন। চার দিন ধরে দেখা মিলছে না সূর্যের। দিনের তাপমাত্রা কমে রাতের তাপমাত্রার কাছাকাছি হওয়ায় দিনভর ঠান্ডা অনুভূত হচ্ছে। স্থানীয় হাসপাতালে বাড়ছে ঠান্ডাজনিত রোগে আক্রান্ত রোগী। গত ২৪ ঘণ্টায় কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের ডায়রিয়ায় আক্রান্ত হয়ে ভর্তি হয়েছে ৩১ শিশু। সব মিলিয়ে হাসপাতালটিতে ৭২ শিশু ভর্তি রয়েছে। এর মধ্যে ডায়রিয়া ওয়ার্ডের ১২ শয্যার বিপরীতে ভর্তি আছে ৫৭ শিশু।

কুড়িগ্রাম জেনারেল হাসপাতালের আবাসিক মেডিকেল অফিসার (আরএমও) ডা. শাহিনুর রহমান সরদার বলেন, হাসপাতালে যারা চিকিৎসা নিতে আসছে, অধিকাংশই চরাঞ্চলের মানুষ।

‘রিকশা চালাইলে বাতাস ফোঁড়ে-ফোঁড়ে গাত শোনদায়’ : লালমনিরহাট শহরের মিশন মোড়ে কথা হলে রিকশাচালক আবেদুল ইসলাম বলেন, ‘প্যাটের জ¦ালায় এই জারোত রিকশার হ্যান্ডেল ধরছি। রিকশা চালাইলে বাতাস ফোঁড়ে-ফোঁড়ে গাত (শরীরে) শোনদায়। রিকমা না চালাইলে প্যাটোত (পেটে) কি দেমো। এই জারোত বুঝি গরিব মানুষগুলা শ্যাষ হয়া যাইবে।’

হাড় কাঁপানো কনকনে ঠান্ডা আর ঘন কুয়াশায় লালমনিরহাটের মানুষের জীবনে নেমে এসেছে চরম দুর্ভোগ। বিশেষ করে নদী চরাঞ্চল এবং তীরবর্তী লোকালয়ের মানুষ ঠান্ডার প্রকোপে স্থবির হয়ে পড়েছে। কুয়াশার সঙ্গে সঙ্গে উত্তরের হিমেল হাওয়ায় বিপাকে পড়েছে শ্রমজীবী ও নিম্ন আয়ের মানুষ। চার দিন ধরে সূর্যের দেখা মিলছে না। সন্ধ্যার পর থেকে ঘন কুয়াশায় ঢেকে যাচ্ছে রাস্তাঘাট ও লোকালয়। সেই সঙ্গে হিমেল বাতাসে জবুথবু অবস্থা বিরাজ করছে মানুষের।

স্থবির পটুয়াখালীর জনজীবন : তীব্র শীতের সঙ্গে হিমেল হাওয়ায় স্থবির হয়ে পড়েছে পটুয়াখালীর উপকূলীয় জনপদ। ঘন কুয়াশার চাদরে ঢেকে আছে জনপদ। দুপুরেও দেখা মিলছে না সূর্যের। হাড় কাঁপানো শীতে সবচেয়ে দুর্ভোগে রয়েছেন চরাঞ্চলে বসবাসকারীরা। চরম ভোগান্তিতে পড়েছে নিম্ন আয়ের খেটে খাওয়া মানুষ।

কলাপাড়া পৌর শহরের মাদ্রাসা রোডের বাসিন্দা নুর জাহান বেগম বলেন, শীতে দৈনন্দিন কাজ করতে কষ্ট হচ্ছে। সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হচ্ছে বাচ্চাদের নিয়ে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা চিন্ময় হাওলাদার বলেন, শীতজনিত রোগের প্রাদুর্ভাব বেড়ে গেছে। হাসপাতালে শয্যার চেয়ে রোগীর সংখ্যা বেশি।

শীত উপেক্ষা করে কুয়াকাটায় পর্যটক : শীত উপেক্ষা করে কুয়াকাটা সমুদ্র সৈকতে বেড়াতে আসছেন পর্যটকরা। ঢাকা থেকে আসা সিয়াম বলেন, ‘শীতের সমুদ্র সৈকত সত্যি অন্য রকম।’

রাজশাহী থেকে আসা মুনতাসির বলেন, ‘পরিবার নিয়ে প্রথমবারের মতো কুয়াকাটা ভ্রমণে এসেছি। সত্যি ভালো লাগছে।’

কুয়াকাটা হোটেল-মোটেল অর্নস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মোতালেব শরীফ বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর পর্যটকের সংখ্যা বাড়ছে।

প্রতিবেদনে তথ্য দিয়েছেন আমাদের সংশ্লিষ্ট জেলা ও উপজেলার প্রতিনিধিরা

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত