মোল্লাবাড়ি বস্তিতে আগুন

রেললাইনের পাশে ঘরহারাদের ঠাঁই

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৮ এএম

সবাই যখন শীতে জবুথবু, তখন শুধু হাফহাতা জামা পরে রাজধানীর কারওয়ান বাজারে রেললাইনের পাশে দেয়াল ঘেঁষে দুটি চৌকি একসঙ্গে করে পরিবারের সদস্যদের থাকার ব্যবস্থা করছিলেন সাজু মিয়া। কনকনে শীতে যখন মানুষ কাঁথা বা লেপের তলে আশ্রয় খুঁজতে চায়, তখন মাথা গোঁজার ঠাঁই করতে ব্যস্ত সাজু। চৌকির ওপর ছাউনি হিসেবে লাগাচ্ছিলেন মোটা পলিথিন। এ চিত্র গতকাল রবিবার সকালের। রাজধানীর তেজগাঁওয়ে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র উন্নয়ন করপোরেশনের (বিএফডিসি) পাশে মোল্লাবাড়ি বস্তিতে গত শুক্রবার গভীর রাতে লাগা আগুনে অন্য অনেকের মতো ঘর পুড়েছে সাজুরও।

মাছ কেটে পাওয়া সামান্য টাকায় সংসার চালানো সাজুর পরিবারে তিন মেয়ে, দুই ছেলে ও স্ত্রী রয়েছে। আগুনে ঘর হারানোর পর যাদের সবার ঠাঁই হয় খোলা আকাশের নিচে। সাজুর গ্রামের বাড়ি জামালপুরের বকশীগঞ্জে, কিন্তু সেখানে কোনো জমি বা ভিটে নেই। তিনি দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ভাই গরিবের শীত থাকতে নেই। ঘর পুড়ে সব শেষ। ৮/১০ বছর ধরে এই বস্তিতে আছি। তাই এখানেই মাথা গোঁজার ঠাঁই করার চেষ্টা করছি।’

আগুনে মোল্লাবাড়ি বস্তির প্রায় সব ঘর পুড়ে গেছে। বস্তিবাসীর দাবি, প্রায় ৩০০ ঘর পুড়ে গেছে। গতকাল সকালে গিয়ে দেখা যায়, সাজু মিয়ার মতো আরও অনেকেই আশ্রয় নিয়েছেন বস্তির অদূরে রেললাইনের পাশে। সরকারের কাছ থেকে তাৎক্ষণিক সহায়তা হিসেবে চাল, ডাল ও একটি করে কম্বল পেলেও সামনের দিনগুলো কীভাবে পার করবেন বা কত দিন এভাবে থাকতে হবে, সে চিন্তা ঘুরে ফিরছে তাদের মাথায়।

সেখানে কথা হয় জবুথবু হয়ে বসে থাকা বৃদ্ধ মরিয়মের সঙ্গে। স্বামী ছেড়ে চলে গেছেন অনেক আগেই। এক মেয়ে ছিল, তাকে বিয়ে দিয়েছেন। একাই মোল্লাবাড়ি বস্তিতে থাকতেন। তিনি জানান, রেললাইনের পাশে ঘরহারাদের ঠাঁই কারওয়ান বাজারে সবজি টুকিয়ে বা কম দামে কিনে পরে তা বিক্রি করতেন। গ্রামের বাড়ি কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে, কিন্তু নদীভাঙনে বিলীন হয়েছে তার ভিটা। এখন একখানা চৌকি তার সম্বল।

কিশোরগঞ্জের নিকলীতে গ্রামের বাড়ি বুলু মিয়ার। কিন্তু সেখানে কিছুই নেই। নদীভাঙনে তার ঘর-জমি সব গেছে। ঢাকায় এবার আগুনে পুড়ল ঘর। বুলু মিয়া জানান, পাঁচ সদস্যের পরিবার নিয়ে ৮/১০ বছর ধরে মোল্লাবাড়ি বস্তিতে থাকছেন। কোনো রকমে চলা সংসারে এখন আর কিছুই রইল না।

ক্ষতিগ্রস্তরা জানান, ঘটনার দুদিন পার হতে চললেও তারা এখনো বস্তির জমির মালিকের দেখা পাননি।

থানায় মামলা : আগুনের ঘটনায় থানায় একটি মামলা হয়েছে। আগুন লাগা, মৃত্যু ও ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার তথ্য উল্লেখ করে ক্ষতিগ্রস্তদের একজন বাদী হয়ে মামলাটি করেছেন।

তেজগাঁও শিল্পাঞ্চল থানার ওসি এ বি এম মশিউর রহমান জানান, বস্তিতে আগুনে মারা যাওয়া দুজনের মৃতদেহের দাবিদারদের ডিএনএ নমুনা সংগ্রহ করা হয়েছে। পরীক্ষার ফলাফল পাওয়ার পর লাশ হস্তান্তরের বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত