শিশু আয়ানের মৃত্যু

ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল বন্ধের নির্দেশ

আপডেট : ১৫ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:১০ এএম

রাজধানীর বাড্ডার সাঁতারকুলের ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের চিকিৎসা কার্যক্রম অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দিয়েছে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর। পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত ওই হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কোনো ধরনের চিকিৎসাসেবা দিতে পারবে না। গতকাল রবিবার রাতে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর এ সিদ্ধান্ত নেয়। রাতেই এ সংক্রান্ত নোটিস হাসপাতালে পৌঁছে দেওয়া হয়েছে।

স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়ের সুপারিশে এবং স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের নির্দেশে এ আদেশ জারি করা হয়েছে বলে নোটিসে উল্লেখ করা হয়।

অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো) ডা. আবু হোসেন মো. মঈনুল আহসান গতকাল রাতে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘হাসপাতাল পরিচালনায় হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ কোনো বৈধ কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। তারা হাসপাতাল পরিচালনার জন্য স্বাস্থ্য অধিদপ্তরে লাইসেন্সের জন্য কোনো আবেদন করেনি। তারা অবৈধভাবে ওই হাসপাতালটি পরিচালনা করছিল। কিন্তু আইন অনুযায়ী কোনো চিকিৎসা প্রতিষ্ঠান স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের লাইসেন্স ছাড়া পরিচালনা করতে পারবে না।’

এ কর্মকর্তা আরও বলেন, ‘অধিদপ্তর থেকে একটি তদন্ত কমিটি করা হয়েছে। ওই কমিটি ওই হাসপাতাল পরিদর্শনে যায়। সেখানকার কর্র্তৃপক্ষ লাইসেন্সের কোনো কাগজপত্র দেখাতে পারেনি। এমনকি তারা যে আবেদন করেছে তারও কোনো কাগজপত্র নেই। তাই ওই হাসপাতাল বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে।’

এ হাসপাতালে খতনা করাতে এসে মারা যায় পাঁচ বছরের শিশু আয়ান। গত ৩১ ডিসেম্বর অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে খতনা হয় শিশুটির। কিন্তু চেতনা ফিরে না আসায় তাকে গুলশানের ইউনাইটেড হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়। সেখানে টানা সাত দিন লাইফ সাপোর্টে থাকার পর গত ৭ জানুয়ারি রাত সাড়ে ১১টার দিকে আয়ানকে মৃত ঘোষণা করা হয়।

তার মৃত্যুর ঘটনা দেশ জুড়ে বেশ আলোড়ন তৈরি হয়। হাসপাতালের চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে গাফিলতির অভিযোগ করেন আয়ানের বাবা। এরপর ওই হাসপাতালের দুই চিকিৎসক ও হাসপাতালের কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা করেন। হাসপাতালে কর্র্তৃপক্ষ ও স্বাস্থ্য অধিদপ্তর পৃথক দুটি তদন্ত কমিটি করে। এখন পর্যন্ত হাসপাতালের তদন্ত কমিটির কোনো তথ্য পাওয়া যায়নি। কিন্তু স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তদন্ত কমিটির তদন্ত চলাকালে ওই হাসপাতালের কোনো বৈধ কাগজপত্র না থাকার তথ্য পান তদন্ত কমিটির সদস্যরা।

স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা জানান, ‘দ্য মেডিকেল প্র্যাকটিস অ্যান্ড প্রাইভেট ক্লিনিকস অ্যান্ড ল্যাবরেটরি রেগুলেশন (অর্ডিন্যান্স)’ ১৯৮২ অনুযায়ী প্রত্যেক বেসরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, ডায়াগনস্টিক সেন্টার ও ব্লাড ব্যাংককে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর থেকে লাইসেন্স নিতে হবে। অথচ ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল সম্পর্কে অধিদপ্তর কিছুই জানে না। তারা চিকিৎসা কার্যক্রম চালুর জন্য কোনো আবেদন না করেই প্রায় এক বছর ধরে হাসপাতাল চালাচ্ছিল। তারা দেশের বিদ্যমান আইনের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি দেখিয়েছে।

অধিদপ্তরের কর্মকর্তারা আরও বলেন, ইউনাইটেড কর্র্তৃপক্ষ ইউনাইটেড হেলথ কেয়ার সার্ভিসেস লিমিটেডের নামে ওই হাসপাতাল পরিচালনা করছে। এমনকি ধানমণ্ডিতে ‘মেডিক্স’ নামে তাদের আরেকটি চিকিৎসাসেবা প্রতিষ্ঠান আছে। এ দুটি প্রতিষ্ঠানের আলাদা কোনো লাইসেন্স নেই। ধানমণ্ডিতে লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে ইউনাইটেড হেলথ কেয়ারের নামে। কিন্তু সেখানে সাইনবোর্ড ঝুলিয়ে রেখেছে মেডিক্স নামে তাদের আরেক প্রতিষ্ঠানের।

এর আগে গত সপ্তাহে ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের ব্যাপারে মুখ খোলে অধিদপ্তর। শিশুর মৃত্যুর বিচার, হাসপাতালের দুই চিকিৎসককে গ্রেপ্তারসহ ছয় দফা দাবি নিয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সামনে মানববন্ধন করেন আয়ানের স্বজনরা। এরপরই ওই হাসপাতাল নিয়ে কথা বলেন অধিদপ্তরের পরিচালক (হাসপাতাল ও ক্লিনিকগুলো)।

সেদিন তিনি বলেন, ইউনাইটেড মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ নিবন্ধনের আবেদন করেছিল। কিন্তু সেই আবেদন ত্রুটিযুক্ত হওয়ায় তাদের অনুমতি দেওয়া হয়নি। এ অবস্থায় তাদের আবারও যথাযথভাবে আবেদন করতে হবে। কিন্তু এখন যেহেতু নিবন্ধন নেই, তাদের চিকিৎসা কার্যক্রম চালানোর কোনো সুযোগ নেই।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত