ক্রিকেট বিশ্বে ভারতের প্রতিপত্তির পেছনে অন্যতম কারণ তাদের খেলোয়াড়দের শক্তিশালী পাইপলাইন। দেশটির ক্রিকেট কাঠামোয় বয়সভিত্তিক ক্রিকেটে উন্নয়নে ব্যাপক জোর দেওয়া হয়। হয় বিভিন্ন প্রতিযোগিতা। তেমনই একটি প্রতিযোগিতা কুচ বিহার ট্রফি। চারদিনের ম্যাচের এ প্রতিযোগিতাকে বলা হয় ভারতের অনূর্দ্ধ-১৯ পর্যায়ের ক্রিকেটারদের রঞ্জি ট্রফি। তার ফাইনালে ইতিহাস গড়েছেন কর্ণাটকের প্রখর চতুর্বেদী। ছাপিয়ে গেছেন ভারতীয় কিংবদন্তি ক্রিকেটার যুবরাজ সিংকে। ফাইনালে সর্বোচ্চ রানের ইনিংসের অধিকারী এখন ১৮ বছর বয়সী প্রখর।
এবারের আসরের ফাইনাল বসে কর্ণাটকের নাভুলি স্টেডিয়ামে। স্বাগতিক কর্ণাটকের মুখোমুখি হয় মুম্বাই। এ ম্যাচে ৪০৪ রানের অপরাজিত ইনিংস খেলেন কর্ণাটকের উদ্বোধনী ব্যাটসম্যান প্রখর চতুর্বেদী। ৬৩৮ বলের ওই ইনিংস সাজান ৪৬টি চার ও ৩টি ছয়ে। তাতেই ইতিহাস গড়েন প্রখর। ভাঙেন ১৯৯৯ সালের ফাইনালে বিহারের বিপক্ষে পাঞ্জাবের হয়ে ৩৫৮ রান করা যুবরাজের রেকর্ড। তিনি ৪০৪ বলের ইনিংসে ৬টি ছক্কার সঙ্গে ছিল ৪০টি চার মেরেছিলেন।
কুচ বিহার ট্রফির ইতিহাসে এটি দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ইনিংস। ২০১১-১২ মৌসুমে মহারাষ্ট্রের হয়ে আসামের বিপক্ষে বিজয় জুলের খেলা অপরাজিত ৪৫১ রানের রেকর্ডটি আছে তালিকার শীর্ষে। প্রখরের সঙ্গে সেঞ্চুরি হাঁকান হারশিল ধারমানি। করেন ১৬৯ রান। তাতে প্রথম ইনিংসে ৮ উইকেটে ৮৯০ রানের পর্বতসমান সংগ্রহ পায় স্বাগতিকরা। জবাবে আয়ুশ মাত্রের ১৪৫ রানের কল্যানে মুম্বাই প্রথম ইনিংসে অলআউট হয় ৩৮০ রানে। প্রথম ইনিংসে লিডের সুবাদে আসরের শিরোপা জিতে নেয় কর্ণাটক।
কুচবিহারের মহারাজার সম্মনার্থে এ প্রতিযোগিতার নামকরণ করা হয় কুচবিচার ট্রফি। ১৯৪৫ থেকে স্কুল পর্যায়ে অনুষ্ঠিত হলেও ১৯৮৬ থেকে ক্রিকেট অ্যাসোসিয়েশনগুলোর অনূর্ধ্ব-১৯ বয়সভিত্তিক দলের আসরে রূপ নেয় এটি। রেলওয়ে ও সার্ভিস এ দুটো দল ছাড়া রঞ্জি ট্রফির প্রতিটি দল অংশ নেয় বিসিসিআই-এর সরাসরি তত্ত্বাবধানে পরিচালিত হওয়া এ প্রতিযোগিতায়।
