কথাবার্তার আদর্শ

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

কথাবার্তা দিয়ে একজন মানুষের ভালো-মন্দ যাচাই করা যায়। এরই মধ্যে ফুটে ওঠে তার ব্যক্তিত্ব ও স্বভাব। কথা মানুষকে যেমন জান্নাতে পৌঁছাতে সাহায্য করে, তেমনি জাহান্নামের পথেও নিয়ে যায়। একজন মুমিনের কথাবার্তা  ও আচরণ কেমন হবে, কেমন হবে তার সম্বোধন তার উত্তম দৃষ্টান্ত রয়েছে হজরত রাসুলুল্লাহ সাল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়াসাল্লামের কথাবার্তা ও আচার ব্যবহারে। নবী কারিম (সা.)-এর কথাবার্তা ও সম্বোধনের নানা দিক হলো

সত্যবাদিতা : কথার ব্যাপারে সত্যতা হলো, কথার সঙ্গে বাস্তবতার মিল থাকা। সত্যের একটা অলৌকিক প্রভাব আছে, যা মানুষকে অতি সহজেই আকর্ষণ করে। কোরআন মাজিদে সত্য কথার প্রতি গুরুত্ব দিয়ে বর্ণিত হয়েছে, ‘হে ইমানদাররা! তোমরা আল্লাহকে ভয় করো এবং সত্যবাদীদের সঙ্গে থাকো।’ সুরা তওবা : ১১৯

এ প্রসঙ্গে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘নিশ্চয়ই সত্য ভালো কাজের পথ দেখায় আর ভালো কাজ জান্নাতের পথ দেখায়। আর মানুষ সত্য কথা বলতে অভ্যস্ত হলে আল্লাহর কাছে সত্যবাদী হিসেবে (তার নাম) লিপিবদ্ধ হয়। নিশ্চয়ই অসত্য পাপের পথ দেখায় আর পাপ জাহান্নামের পথ দেখায়। কোনো ব্যক্তি মিথ্যায় রত থাকলে পরিশেষে আল্লাহর কাছে মিথ্যাবাদী হিসেবেই (তার নাম) লিপিবদ্ধ করা হয়। সহিহ বোখারি : ৬০৯৩

মিষ্টভাষী : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) কথাবার্তায় ও আচার-আচরণে কোমলতা অবলম্বন করতেন। কর্কশ ও শক্ত ভাষায় কারও সঙ্গে কথা বলতেন না এবং কাউকে সম্বোধনও করতেন না। কোরআন মাজিদে ইরশাদ হয়েছে, ‘আপনি যদি কঠোর হৃদয়ের হতেন, তবে মানুষ আপনার থেকে দূরে চলে যেত।’ সুরা আলে ইমরান : ১৫৯

স্পষ্টতা ও ধীরস্থিরতা : স্পষ্টতা কথার অন্যতম গুণ। শ্রোতার মনে স্পষ্ট কথার প্রভাব বেশি পড়ে। হজরত আয়েশা (রা.) বলেন, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথা এত সুস্পষ্ট ছিল যে প্রত্যেক শ্রোতা তার কথা বুঝত।’ সুনানে আবু দাউদ : ৪৮৩৯

শালীনতা : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর কথাবার্তার শালীনতা ছিল অতুলনীয়। তিনি কখনো অশালীন কথা বলেননি। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, ‘হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) অশালীন, অভিশাপকারী ও গালিদাতা ছিলেন না। তিনি কাউকে তিরস্কার করার সময় শুধু এটুকু বলতেন কী হলো তার? তার কপাল ধূলিমলিন হোক।’ সহিহ বোখারি : ৬০৬৪

বিশুদ্ধভাষী : হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) ছিলেন সবচেয়ে বিশুদ্ধ ভাষার অধিকারী। তার উচ্চারণ, শব্দ প্রয়োগ ও বাচনভঙ্গি সবই ছিল বিশুদ্ধতার মাপকাঠিতে উত্তীর্ণ। হিন্দ ইবনে আবু হালা (রা.)-কে রাসুল (সা.)-এর বাচনভঙ্গি সম্পর্কে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বেশির ভাগ সময় নীরব থাকতেন। বিনা প্রয়োজনে কথা বলতেন না। তিনি স্পষ্টভাবে কথা বলতেন। তিনি ব্যাপক অর্থবোধক বাক্যালাপ করতেন। তার কথা ছিল একটি থেকে অপরটি পৃথক। তার কথাবার্তা অতি বিস্তারিত কিংবা অতি সংক্ষিপ্তও ছিল না। অর্থাৎ তার কথার মর্মার্থ অনুধাবনে কোনো প্রকার অসুবিধা হতো না। তার কথায় কঠোরতার ছাপ ছিল না, থাকত না তুচ্ছ-তাচ্ছিল্যের ভাব।’ শামায়েলে তিরমিজি : ১৬৭

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত