ডান্ডাবেড়ি নিয়ে হাইকোর্ট

এভাবে চললে আমরা অসভ্য হিসেবে পরিচিত হব

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

পিতার জানাজায় এক আসামিকে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে হাজির করানোর ঘটনায় উষ্মা প্রকাশ করেছে উচ্চ আদালত। হাইকোর্ট বলেছে, ‘এভাবে চলতে থাকলে আমরা হয়তো আনসিভিলাইজড (সভ্য নয়) হিসেবে পরিচিত হব।’ গতকাল সোমবার বিচারপতি মোস্তফা জামান ইসলাম ও বিচারপতি মো. আতাবুল্লাহ হাইকোর্ট বেঞ্চ এ মন্তব্য করে। সম্প্রতি ‘বাবার জানাজায় ডান্ডাবেড়ি পায়ে ছাত্রদলের নেতা’ শিরোনাম ও ছবি সংবলিত গণমাধ্যমে প্রতিবেদন গতকাল হাইকোর্টের এই বেঞ্চের নজরে আনেন আইনজীবী কায়সার কামাল।

এ সময় তিনি প্রয়োজনীয় নির্দেশনার আরজি জানান। আইনজীবী বলেন, ‘রাষ্ট্রের কাজ নাগরিককে সুরক্ষা দেওয়া। কিন্তু আমরা দেখতে পাচ্ছি রাষ্ট্র দিন দিন নাগরিকের প্রতি নিষ্ঠুর থেকে নিষ্ঠুরতর আচরণ করছে। এ ধরনের ঘটনা (ডান্ডাবেড়ি) একের পর এক ঘটছে।’ হাইকোর্ট এ সময় বলে, ‘আমরা দেখছি। আপনি চাইলে আগের রিটে (যশোরে এক যুবদলের নেতাকে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ডান্ডাবেড়ি পরানো নিয়ে রিট) সম্পূরক আবেদন করতে পারেন। নতুন করেও আবেদন নিয়ে আসতে পারেন।’ ব্যারিস্টার কায়সার কামাল দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘ওই ঘটনাটি আদালতের নজরে এনেছিলাম। আদালত এ সময় রাষ্ট্রপক্ষের আইনজীবীর উদ্দেশে এমন মন্তব্য করেছে। আমাদের আগের রিট সম্পূরক কিংবা পৃথক আবেদন করতে বলেছে। আমরা এ সংক্রান্ত সব ঘটনা সংযুক্ত করে চলতি সপ্তাহেই রিট আবেদন করব।’ রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল তুষার কান্তি রায়।

ডান্ডাবেড়ি-সংক্রান্ত ওই প্রতিবেদনে বলা হয়, গত শনিবার পটুয়াখালী উপজেলার মির্জাগঞ্জের পশ্চিম সুবিদখালী এলাকায় উপজেলা ছাত্রদলের যুগ্ম আহ্বায়ক মো. নাজমুল মৃধাকে তার বাবা মো. মোতালেব হোসেন মৃধার মৃত্যুতে প্যারোলে মুক্তি দেওয়া হয়। পরে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে তাকে বাবার জানাজায় হাজির করা হয়। নাজমুলকে বিস্ফোরক মামলায় গত ২০ ডিসেম্বর গ্রেপ্তার করেছিল পুলিশ। জানাজা শেষে তাকে আবারও পটুয়াখালী জেলা কারাগারে পাঠানো হয়। যশোরের যুবদল নেতা মো. আমিনুর রহমানকে হাসপাতালে ডান্ডাবেড়ি পরিয়ে চিকিৎসা দেওয়ার ঘটনায় করা রিট আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গত বছরের ৪ ডিসেম্বর রুল ও আদেশ দেয় হাইকোর্ট। আদেশে আমিনুর রহমানকে যথাযথ চিকিৎসা দিতে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে (বিএসএমএমইউ) পাঠানোর নির্দেশ দিয়েছে আদালত। রুলটি বিচারাধীন রয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত