বাড়ছে দগ্ধ রোগী, নেই চিকিৎসার ব্যবস্থা

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:০০ এএম

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ (শেবাচিম) হাসপাতালে বেড়েছে দগ্ধ রোগীর সংখ্যা। কিন্তু তাদের উপযুক্ত চিকিৎসার ব্যবস্থা করতে পারছে না হাসপাতাল কর্র্তৃপক্ষ। আট বছর আগে হাসপাতালটিতে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট চালু হলে সেটি চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে এবং এর কোনো উন্নতি হয়নি। ক্রমান্বয়ে অবহেলা, লোকবল সংকট আর কর্র্তৃপক্ষের উদাসীনতায় নামেই বার্ন ইউনিটে পরিণত হয়েছে।

হাসপাতালের জরুরি বিভাগ থেকে জানা গেছে, চলতি বছরের ১ থেকে ১৪ জানুয়ারি পর্যন্ত ১৪ জন দগ্ধ রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। প্রতিদিন গড়ে একজন করে রোগী আসছে হাসপাতালে। এর মধ্যে বেশিরভাগ শীত থেকে উষ্ণতা পেতে আগুন পোহাতে গিয়ে অথবা গরম পানিতে ঝলসে যাওয়া রোগী। আর দগ্ধ রোগীদের মধ্যে বয়স্ক এবং শিশুর সংখ্যাই বেশি। যতজন এসেছে তার অধিকাংশকে বরিশালে চিকিৎসার ব্যবস্থা না থাকায় ঢাকায় স্থানান্তর করা হয়েছে।

এ বিষয়ে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটের ইনচার্জ সিনিয়র স্টাফ নার্স লিংকন দত্ত জানান, শীতের এ সময়টাতে আগুনে পোড়া রোগীর চাপ কিছুটা বেশি থাকে। গুরুতর দগ্ধ রোগীদের এখানে চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব না। তাদের বেশিরভাগ ক্ষেত্রে ঢাকায় পাঠাতে হচ্ছে। তবে সেটা সার্জারি বিভাগ থেকে পাঠানো হয়। যে কারণে ঢাকায় রেফার্ড হওয়া রোগীর সঠিক হিসাব নেই বার্ন ইউনিটে।

বরিশাল শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগের প্রধান সহযোগী অধ্যাপক ডা. মারুফুল ইসলাম জানান, এই বিভাগে সহযোগী অধ্যাপকের দুটি পদের মধ্যে আমি একাই আছি। অধ্যাপকের পদ বর্তমানে শূন্য। তা ছাড়া সহকারী অধ্যাপক দুজন থাকলেও মিডলেভেল চিকিৎসকের সব পদই শূন্য। আর রেজিস্ট্রার-সহকারী রেজিস্ট্রারের ৫টি পদই শূন্য। নেই মেডিকেল অফিসার। ১৪ জন স্টাফ নার্স রোটেশন অনুযায়ী কাজ করলেও তাদের মধ্যে একমাত্র যিনি ইনচার্জের দায়িত্ব আছেন, তিনিই সংশ্লিষ্ট কাজের বিষয়ে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। ফলে রোগীদের সেবা দেওয়াটা কষ্টকর হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তিনি বলেন, বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগটি পরিষ্কার-পরিচ্ছন্ন এবং স্বাস্থ্যকর পরিবেশে থাকাটা জরুরি। কিন্তু চতুর্থ শ্রেণির কর্মসূচির সংকটের কারণে সেই পরিচ্ছন্নতা কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। তা ছাড়া যে ভবনটিতে বার্নের রোগীদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে, সেই জায়গাও উপযুক্ত নয়। ভবনের অবস্থান ভালো না, রোগীদের অস্ত্রোপচারের জায়গা নেই, ড্রেসিংরুম একটি থাকলেও এর অবস্থা বেহাল।

তিনি আরও বলেন, যাতায়াতের ব্যবস্থাও ভালো নয়। এই ভবনের প্রধান গেটটি মালামাল চুরি হওয়ার অজুহাতে দীর্ঘ দিন ধরেই বন্ধ। তাই এই মুহূর্তে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগটি স্থানান্তরের পাশাপাশি পর্যাপ্ত জনবলের ব্যবস্থা করা জরুরি।

শের-ই-বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পরিচালক ডা. এইচএম সাইফুল ইসলাম বলেন, স্বতন্ত্র বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট স্থাপনে প্রকল্প নেওয়া হয়েছে। চলতি বছরেই ১৫তলা ভবনের কাজ শুরু হবে। এর মধ্যে পাঁচতলা বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট এবং বাকি তলাগুলো অন্যান্য বিভাগের জন্য বরাদ্দ করা হবে।

২০১৫ সালের ১২ মার্চ হাসপাতালের মূল ভবনের পাশে ৮টি শয্যা নিয়ে বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি বিভাগ চালু হয়। বর্তমানে শয্যাসংখ্যা ৩০টি। স্থাপনকালে ৮ চিকিৎসক ও ১৬ নার্সের পদ রাখা হয়। তবে ইউনিট পরিচালনার জন্য দায়িত্বশীল কেউ না থাকায় ২০২০ সালের ১৫ মে থেকে বন্ধ ঘোষণা করা হয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিটটি। ২০ মাস পর ২০২১ সালের ডিসেম্বরের শেষ দিকে একই স্থানে পুনরায় চালু করা হয় বার্ন অ্যান্ড প্লাস্টিক সার্জারি ইউনিট। কিন্তু তিন বছর পর সেটি এখনো চলছে খুঁড়িয়ে খুঁড়িয়ে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত