হাজার টাকায় কিনতে হয়েছে নির্বাচনের ডিউটি!

আপডেট : ১৬ জানুয়ারি ২০২৪, ০৫:৪৯ পিএম

লক্ষ্মীপুরের রামগতিতে আনসার ও ভিডিপিতে কর্মরত দলনেতাদের দিয়ে সিন্ডিকেট করে সাধারণ আনসার সদস্যদের কাছ থেকে লাখ লাখ টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীম আরা বেগমের বিরুদ্ধে। এছাড়াও ডিউটির নামে নানামুখী হয়রানি করা হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন সাধারণ আনসার সদস্যরা।

সূত্রে জানা গেছে, উপজেলায় যত সাধারণ আনসার সদস্য দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ডিউটি করেছেন তাদের মধ্য অধিক সংখ্যক সদস্যকে ডিউটি নিতে ১ হাজার থেকে ১২শ টাকা দিতে হয়েছে। দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ৬৭টি কেন্দ্রে ১২ জন করে ৮০৪ জন আনসার সদস্য ডিউটি পালন করেন। এতে জানা যায়, প্রায় ৩ থেকে ৭ লক্ষ টাকা অর্থ বাণিজ্য হয়। 

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক সাধারণ আনসার সদস্য জানান, দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে পৌরসভার আনসার দলনেতা মো. আলা উদ্দিনকে তিন গ্রুপে ৩৬ জনের নামের তালিকা দেওয়া হয় এবং প্রতিজনের জন্য ১ হাজার করে মোট ৩৬ হাজার টাকা দেওয়া হয়। এভাবে একাধিক দলনেতার মাধ্যমে সাধারণ সদস্যরা টাকা দিয়ে নির্বাচনের ডিউটি কিনে নেন।

তিনি আরও জানান, ডিউটি শেষে শুকনো খাবারের জন্য রকেটের মাধ্যমে ৫০০ টাকা দেওয়ার কথা ছিল। কিন্তু নির্বাচনের ডিউটি শেষ হলেও টাকা পাচ্ছে না। অফিসে গিয়ে যোগাযোগ করলে তারা জানান, রকেট নাম্বার ভুল হয়েছে। অথচ যারা ডিউটি করেছে সবাই নিজের রকেট একাউন্ট নাম্বার অফিসে জমা দিয়েছেন। অফিসে থাকা কর্মকর্তারা নানা ধরণের হয়রানি করছেন। সাধারণ আনসার সদস্যরা নিরুপায়, ভয়ে কিছু বলতে পারছে না। 

এভাবে আরও একজন সাধারণ আনসার সদস্য জানান, গত ইউপি নির্বাচনে ডিউটি করে এখনও টাকা পাননি তিনি। অফিসে একাধিকবার গিয়েও কোনো সমাধান পাচ্ছেন না। টাকা দিয়ে ডিউটি নিয়ে ঝামেলায় পড়ছেন তিনি। এভাবে একাধিক সাধারণ আনসার সদস্যরা হয়রানির শিকার হচ্ছে। অফিসে থাকা কর্মকর্তারা রকেট নাম্বার ভুল হয়েছে বলে দায় সারা উত্তর দিচ্ছে। দলনেতাদের মাধ্যমে টাকা দিয়ে ডিউটি কিনে নিয়ে হয়রানি শিকার হচ্ছেন তারা।

খোঁজ নিয়ে জানা যায়, টাকা না দেওয়ার কারণে একাধিক সাধারণ আনসার সদস্য ডিউটি করতে পারেনি। তাদের আক্ষেপ আনসারের প্রশিক্ষক নিয়ে অনেকবার নির্বাচনী ডিউটি পালন করেও এবার টাকার জন্য সংসদ নির্বাচনে ডিউটিতে যেতে পারেনি। 

কিছু আনসার সদস্য ও দলনেতা জানান, নির্বাচনকালীন ডিউটি করতে অফিসে কিছু টাকা দিতে হয়। এখানে গ্রুপ ভাগ করে দিয়ে দলনেতাদের মাধ্যমে সাধারণ আনসার সদস্যদের কাছ থেকে অফিস টাকা নিচ্ছে। নিরুপায় হয়ে টাকা দিয়ে ডিউটি কিনে নিচ্ছেন তারা। 

অভিযুক্ত দলনেতা মো. আলা উদ্দিন জানান, তিনি পৌরসভার এক ইউনিটের দলনেতার দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে কোনো সদস্যের নাম জমা দেননি। তিনি অর্থ-বাণিজ্যের সাথে জড়িত নন। যদিও উপজেলা আনসার কর্মকর্তার বক্তব্য তার মাধ্যমে ৩টি গ্রুপে ৩৬ জন সদস্য ডিউটি পেয়েছেন। এছাড়াও মো. আলা উদ্দিন আনসার দলনেতা হিসেবে তিনমাস পরপর প্রায় সাড়ে সাত হাজার টাকা ভাতা পান। তিনি উপজেলা কৃষক লীগের যুগ্ম-আহ্বায়ক ও পৌর আওয়ামী লীগের দপ্তর সম্পাদকের দায়িত্বে রয়েছেন। তিনি আনসারের ডিউটি পালন না করে ভাতা নিচ্ছেন বলেও অভিযোগ রয়েছে। 

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি প্রশিক্ষক মো. হাসান আহমেদ দেশ রূপান্তরকে জানান, উপজেলায় একাধিক ইউনিটে প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত প্রায় তিন হাজার সাধারণ আনসার সদস্য রয়েছে। নির্বাচনকালীন সময়ে ডিউটিতে দলনেতাদের মাধ্যমে সাধারণ সদস্য সংগ্রহ করা হয়। 

উপজেলা আনসার ও ভিডিপি কর্মকর্তা শামীম আরা বেগম দেশ রূপান্তরকে জানান, মো. আলা উদ্দিন তাদের দলনেতার দায়িত্বে রয়েছে। তিনি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে তিনটি গ্রুপে ৩৬ জন সাধারণ আনসার সদস্য দিয়েছেন। অর্থ বাণিজ্যের বিষয়ে তিনি অবগত নন। এছাড়া যারা গত ইউপি নির্বাচনে ডিউটি দিয়ে টাকা পাননি তাদের ব্যাপারে জেলায় কথা বলা হয়েছে।   

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত