ওসির নির্দেশে জাপা নেতার পা কাটেন মেম্বার!

আপডেট : ১৭ জানুয়ারি ২০২৪, ০২:৫৩ এএম

পিরোজপুরের মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. নূরুল ইসলাম বাদলের ইন্ধনে জাতীয় পার্টির (এরশাদ) স্থানীয় নেতা শফিকুল ইসলামের পা কুপিয়ে বিচ্ছিন্ন করে দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। প্রায় তিন বছর আগের ওই ঘটনায় পা হারানো মঠবাড়িয়া উপজেলা জাপার সাংগঠনিক সম্পাদক শফিকুল ইসলাম নিজেই এমন অভিযোগ করে জেলার পুলিশ সুপারসহ সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোতে লিখিত অভিযোগ করেছেন।

পুলিশ সুপার অভিযোগ তদন্ত করে প্রতিবেদন জমা দেওয়ার জন্য দায়িত্ব দেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপারের (মঠবাড়িয়া সার্কেল) ওপর। বর্তমানে অভিযোগটি অতিরিক্ত পুলিশ সুপার মো. সাখাওয়াত হোসেন তদন্ত করছেন বলে ভুক্তভোগী শফিকুল ইসলাম জানান। তার পা বিচ্ছিন্নের নেপথ্যে মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ওসি মো. নূরুল ইসলাম বাদলের ইন্ধন রয়েছে অভিযোগ তুলে তিনি এর আগে একাধিকবার সংবাদ সম্মেলনও করেছিলেন।

জাপা নেতা শফিকুল ইসলাম তার লিখিত অভিযোগে বলেন, মঠবাড়িয়া থানায় কর্মরত থাকাকালে ওসি নূরুল ইসলাম বাদল তাকে ২০২১ সালের ২১ জুলাই সন্ধ্যায় এসআই পলাশ চন্দ্র রায়ের মাধ্যমে থানায় ডেকে আটকে রেখে ৫০ হাজার টাকা দাবি করেন। পরে স্বজনরা টাকা নিয়ে এলে ওসিকে ৬ হাজার ও এসআইকে ৩ হাজার টাকা দিলেও তাকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। রাত ১১টার দিকে ওসির কক্ষে থানার দালাল হিসেবে পরিচিত ইউপি সদস্য (মেম্বার) সগির এবং তুষখালী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যানের ছেলে শামীম আহমেদ তাকে ওসির সামনে মারধর করেন। পরে সগির মেম্বারের কথায় তাকে মিথ্যা অভিযোগে করা মামলায় কারাগারে পাঠানো হয়। ২১ দিন বন্দি থাকার পর কারাগার থেকে বেরিয়ে এলে বিভিন্ন সময়ে ওসি বাদল তাকে বিভিন্নভাবে হয়রানি করতে থাকেন। এসব বিষয়ে তিনি পরবর্তী সময়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, পুলিশের মহাপরিদর্শক (আইজিপি) ও ডিআইজির কাছে লিখিত অভিযোগ দেন। এতে ক্ষিপ্ত হয়ে ওসি বাদল ২০২২ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর তাকে অভিযোগ তুলে নেওয়ার হুমকি দিয়ে বলেন, সব অভিযোগ তুলে না নিলে কুপিয়ে হাত-পা কেটে ফেলা হবে। এমনকি প্রাণে মেরে ফেলারও হুমকি দেন। এর দুদিন পর ২৯ সেপ্টেম্বর বাড়ি থেকে মঠবাড়িয়া থানা সদরে আসার পথে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে সগির মেম্বারের নেতৃত্বে ছয়-সাত জন সন্ত্রাসী মাঝেরপুল এলাকায় কুপিয়ে তার বাম পা গোড়ালি থেকে বিচ্ছিন্ন করে ফেলে। এ সময় তার ডান হাতের কব্জির রগ কাটে এবং কুপিয়ে পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলা হয়।

তবে সব অভিযোগ অস্বীকার করে মঠবাড়িয়া থানার সাবেক ওসি নূরুল ইসলাম বাদল মোবাইল ফোনে দেশ রূপান্তরকে বলেন, ‘আমাকে অহেতুক হয়রানি করা হচ্ছে।’ তবে বর্তমানে তার কর্মস্থল কোথায় তা জানাতে রাজি হননি।

এ ব্যাপারে জানতে চাইলে পিরোজপুরের অতিরিক্ত পুলিশ সুপার (মঠবাড়িয়া সার্কেল) মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘অভিযোগটি তদন্তাধীন রয়েছে। এটা গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হবে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত