প্রস্তুতির কর্মযজ্ঞে মুখরিত মেলা প্রাঙ্গণ

আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ০১:২৮ এএম

আগামী ২১ জানুয়ারি শুরু হচ্ছে ঢাকা আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার ২৮তম আসর। প্রতিবছর ১ জানুয়ারি মেলা শুরু হলেও এবার দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে পেছানো হয় তারিখ। তবে কবে সেটা জানানো হয়নি আগে। গত ১১ জানুয়ারি নতুন সরকার ঘটনের পর জানানো হয় মেলার তারিখ। গতকাল বুধবারও বাণিজ্য মন্ত্রণালয় থেকে ২১ জানুয়ারি মেলা শুরুর বিষয়টি নিশ্চিত করে বলা হয়েছে, ওইদিন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা মেলার উদ্বোধন করবেন। সে হিসেবে মেলায় অংশগ্রহণকারীদের হাতে নিজেদের স্টল বা প্যাভিলিয়ন সাজিয়ে তোলার জন্য খুব বেশি সময়ও নেই। বাধ্য হয়েই তীব্র শীতের মধ্যেই কাজ করতে হচ্ছে দিনরাত। মেলার আগেই শিল্পী-শ্রমিকদের কর্মযজ্ঞে জমজমাট হয়ে উঠেছে মেলার প্রাঙ্গণ।

রূপগঞ্জের পূর্বাচল উপশহরে ৪ নম্বর সেক্টরে এ বছর তৃতীয়বারের মতো বসতে যাচ্ছে আন্তর্জাতিক বাণিজ্য মেলার আসর। বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) উদ্যোগে ইতিমধ্যে অনেক কাজই গুছিয়ে আনা হয়েছে। মেলা উদ্বোধন সামনে রেখে সব প্রস্তুতির কাজ চলছে বেশ জোরেশোরে। এবারের আসরে ৩০০ ফুট এক্সপ্রেসওয়ের কাজ পুরোপুরি সম্পন্ন হওয়ায় ঢাকা থেকে আসা দর্শনার্থীরা কোনো ভোগান্তি ছাড়াই মেলায় আসতে পারবেন। তবে এশিয়ান বাইপাস সড়কের কাজ চলমান থাকার কারণে রূপগঞ্জ, নরসিংদী, সোনারগাঁ, নারায়ণগঞ্জ সদর, ভৈরবসহ এসব অঞ্চল থেকে আসা দর্শনার্থীরা যানজটের কারণে ভোগান্তিতে পড়তে পারেন। সরেজমিন ঘুরে জানা গেছে, মেলার প্রধান ফটক ও প্রবেশদ্বারের কাজ চলছে। মেলার মূল অবকাঠামোর বাইরে চলছে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির প্যাভিলিয়ন নির্মাণের কাজ। তবে উদ্বোধনের আর মাত্র তিন দিন থাকলেও সিংহভাগ স্টল-প্যাভিলিয়নের কাজই বাকি আছে।

ইপিবির অতিরিক্ত সচিব ও বাণিজ্য মেলার পরিচালক ভিবেক সরকার জানান, এবার মেলায় দেশ-বিদেশের ৩৩০টি স্টল, প্যাভিলিয়ন ও মিনি প্যাভিলিয়ন থাকবে। এর মধ্যে ১৫-১৮টি বিদেশি স্টল রয়েছে। বরাবরের মতো ভারত, পাকিস্তান, ইরান, তুরস্ক, থাইল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশ থেকে ব্যবসায়ীরা এবারের মেলায় অংশ নেবেন। এ ছাড়া স্থানীয় উদ্যোক্তারাও তাদের পণ্য প্রদর্শন ও বিক্রি করবেন।

এই কর্মকর্তা বলেন, সাধারণত প্রতিবছর ১ জানুয়ারি থেকে বাণিজ্য মেলা শুরু হয়। তবে দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের কারণে ২০২৪ সালের বাণিজ্যমেলা শুরুর সময় পেছানো হয়। নতুন সরকারের দায়িত্ব গ্রহণ ও অন্যান্য আনুষ্ঠানিকতা শেষে মেলার নতুন তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কেন্দ্রীয় কারাপণ্য প্যাভিলিয়নের ঠিকাদার মজিবর রহমান বলেন, ‘বাণিজ্য মেলার প্রতিবছরই কারাপণ্যের একটি স্টল থাকে। কারাগারে থাকা কয়েদিদের হাতে তৈরি পণ্য এখানে প্রদর্শন করা হয়। আমার এই প্যাভিলিয়ন নির্মাণ শেষপর্যায়ে আশা করি উদ্বোধনের আগেই এই প্যাভিলিয়নের কাজ শেষ করতে পারব।’

অলিম্পিক প্যাভিলিয়নের ইনচার্জ সেলিম বলেন, ৮০ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মাণ হচ্ছে অলিম্পিক বিস্কুট কোম্পানির প্যাভিলিয়নটি। উদ্বোধনের আগে নির্মাণকাজ শেষ হবে কি না জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘এখনো বলা যাচ্ছে না। কাজ পরে শুরু করতে হয়েছে। আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।’

রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর ভাইস চেয়ারম্যান এ এইচ এম আহসান বলেন, ‘উদ্বোধনের আগে ৮০-৯০ ভাগ স্টল নির্মাণকাজ শেষ হয়ে যাবে বলে আমরা আশা করছি। মেলার নিরাপত্তায় এবার প্রায় ৩০০ সিসি ক্যামেরা লাগানো হয়েছে।’

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত