সিঙ্গাপুরে মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির বিরল অভিযোগ

  • সিঙ্গাপুরের পর্যটন শিল্পে খ্যাতি পাওয়া মন্ত্রী সুব্রামানিয়াম ইশ্বরনের বিরুদ্ধে ২৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে
  • দেশটিতে কয়েক দশকের মধ্যে একজন মন্ত্রীকে জড়িয়ে সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির মামলা এটি
আপডেট : ১৮ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:২০ পিএম

দুর্নীতিমুক্ত অবস্থার কারণে বিশ্বজুড়েই প্রশংসিত সিঙ্গাপুর সরকার। আর সেই দেশেই এক মন্ত্রীর বিরুদ্ধে দুর্নীতির অভিযোগ গঠন করা হয়েছে। এমন বিরল ঘটনায় হতবাক সিঙ্গাপুরের জনগণ।

বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদনে এ খবর প্রকাশ করেছে ব্রিটিশ বার্তাসংস্থা বিবিসি।

সিঙ্গাপুরের পর্যটন শিল্প জন্য খ্যাতি পাওয়া মন্ত্রী সুব্রামানিয়াম ইশ্বরনের বিরুদ্ধে ২৭টি অভিযোগ আনা হয়েছে। যদিও অভিযোগের প্রত্যেকটিতেই নিজেকে নির্দোষ দাবি করে আবেদন করেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দুর্নীতি বিরোধী সংস্থা জানিয়েছে যে, সিঙ্গাপুরে কয়েক দশকের মধ্যে একজন মন্ত্রীকে জড়িয়ে সবচেয়ে হাই-প্রোফাইল দুর্নীতির মামলা এটি।

রয়টার্স জানিয়েছে যে, দেশটির দুর্নীতি তদন্ত ব্যুরো (সিপিআইবি) বলছে, গত বছরের জুলাইয়ে গ্রেপ্তার হওয়া ইশ্বরন, ধনকুবের ওং বেং সেংয়ের কাছ থেকে তার ব্যবসায়িক স্বার্থকে এগিয়ে নেওয়ার বিনিময়ে ২ লাখ ৮৬ হাজার ডলার সমমূল্যের উপহার গ্রহণ করেছেন।

অভিযোগের মধ্যে রয়েছে যে ধনকুবের ওং বেং সেং এর থেকে ইশ্বরন বিলাসবহুল বিমানের ফ্লাইটের টিকিট, হোটেলে থাকার খরচ এবং গ্র্যান্ড প্রিক্স টিকেট উপহার হিসেবে নিয়েছেন। এছাড়া তার বিরুদ্ধে ওয়েস্ট এন্ড মিউজিক্যাল এবং ফুটবল ম্যাচের টিকিট নেওয়ার অভিযোগও রয়েছে।

সিপিআইবি বলেছে যে ইশ্বরানের বিরুদ্ধে দুর্নীতি এবং ন্যায়বিচারের পথে বাধা সহ মোট 27টি অভিযোগ রয়েছে।

বৃহস্পতিবার ইশ্বরণ নিজের পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন।

তিনি ২০২৩ সালের জুলাই মাস থেকে নেওয়া বেতন ভাতাও ফেরত দেবেন বলে জানা গেছে। ওই মাসে তার বিরুদ্ধ দুর্নীতির অভিযোগের তদন্ত শুরু হয়েছিল।

২০২৩ সালের জুলাই মাসে গ্রেপ্তার হওয়ার পর থেকে ছুটিতে ছিলেন ইশ্বরণ। তবে তার বেতন ভাতা এখনো বন্ধ হয়নি। প্রতি মাসে তিনি সাড়ে আট হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার বেতন পাচ্ছেন এছাড়াও তিনি অন্যান্য ভাতা হিসেবে প্রতি মাসে ১৫ হাজার সিঙ্গাপুরি ডলার পেয়ে থাকেন।

দুর্নীতি প্রতিরোধে সিঙ্গাপুর সরকার তার মন্ত্রীদের বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে বেশি বেতন ভাতা দিয়ে থাকে।

রয়টার্স জানিয়েছে যে, দুর্নীতির দায়ে দোষী সাব্যস্ত হলে তাকে এক লাখ ডলার পর্যন্ত জরিমানা বা সাত বছরের জেল হতে পারে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত