দেশের একমাত্র চারদেশীয় স্থলবন্দর বাংলাবান্ধায় আবারও পাথর আমদানিতে স্থবিরতা দেখা দিয়েছে। স্বাভাবিক সময়ের তুলনায় বর্তমানে আমদানি ৭০ শতাংশের বেশি কমে গেছে। ডলার সংকটের কারণে নতুন এলসি (ঋণপত্র) খুলতে না পারায় পাথর আমদানি কমেছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। প্রায় দুই মাস ধরে বন্দরটিতে এ অবস্থা বিরাজ করছে ।
গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে চারদেশীয় স্থলবন্দর (বাংলাদেশ, ভারত, নেপাল ও ভুটান) বাংলাবান্ধায় ঘুরে দেখা যায়, পাথর আমদানি কমে যাওয়ায় স্থলবন্দরের ইয়ার্ডগুলোও ছিল অনেকটা ফাঁকা। বাণিজ্য স্থবিরতার কারণে বন্দরের শ্রমিকদেরও কর্মহীন অলস সময় পার করতে দেখা যায়। শ্রমিকরা বলছেন, পাথর কম আসায় তারা বেকার হয়ে পড়েছেন। এ সমস্যাটা দ্রুত নিরসন চান তারা।
স্বাভাবিক সময়ে বাংলাবান্ধা স্থলবন্দর দিয়ে প্রতিদিন ৬০০-৭০০ ট্রাক পাথর আমদানি করতেন স্থানীয় ব্যবসায়ীরা, যা বর্তমানে ১৬০-২০০ ট্রাকে নেমে এসেছে। আশঙ্কাজনক হারে আমদানি কমে যাওয়ায় দেশে পাথরের বাজারে বিরূপ প্রভাব পড়তে পারে বলে জানিয়েছেন খাতসংশ্লিষ্টরা। ইতিমধ্যেই স্থানীয় বাজারে দাম প্রায় ১০ শতাংশ বেড়ে গেছে।
বন্দর সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ, ব্যবসায়ী ও সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট, আমদানি-রপ্তানিকারকদের সূত্রে জানা যায়, পাথরনির্ভর এ স্থলবন্দরটি নানা প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরলেও ডলার সংকটের কারণে গত দুই মাস ধরে পাথর আমদানিতে স্থবিরতা তৈরি হয়েছে। যেসব ব্যবসায়ীর পূরনো এলসি ছিল শুধুমাত্র তারাই আমদানি করতে পারছেন।
বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের আমদানি-রপ্তানি গ্রুপের সাধারণ সম্পাদক কুদরত-ই-খুদা মিলন বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরের প্রায় দুই মাস ধরে পাথর আমদানি কমে যাওয়ার মূল কারণ হচ্ছে ডলার সংকট। ডলার সংকটের কারণে এলসি খোলা যাচ্ছে না। এ কারণেই কমে গেছে পাথর আমদানি। নতুন এলসি খোলার অনুমোদন পেলে আবারও প্রাণ ফিরে পাবে বন্দরটি।
বাংলাবান্ধা সিঅ্যান্ডএফ অ্যাসোসিয়েশনের যুগ্ম আহ্বায়ক জাহাঙ্গীর আলম বলেন, গত মাসে আমদানি স্বাভাবিক থাকলেও জাতীয় নির্বাচনসহ ডলার সংকটে নতুন এলসি না হওয়ায় তা কিছুটা কমে এসেছে। এলসি খোলা এখন নতুন চ্যালেঞ্জ।
বন্দরের শ্রমিক নেতা ইদ্রিস আলী জানান, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরটি প্রধানত পাথরনির্ভর। পাথর নির্ভরশীলতায় স্থলবন্দরের কমপক্ষে ১০ হাজারের বেশি মানুষ কাজ করে সংসার চালান। লোড-আনলোড শ্রমিকরা বন্দরে গাড়ি ঠিকমতো না আসায় খুব দুর্ভোগে পড়ছেন। সপ্তাহের অধিকাংশ দিনই বেকার থাকতে হচ্ছে। লোড-আনলোড শ্রমিক ছাড়াও পাথর ভাঙার কাজ করেন হাজার হাজার শ্রমিক।
বাংলাবান্ধা ল্যান্ড পোর্ট লিমিটেডের ম্যানেজার আবুল কালাম আজাদ বলেন, বাংলাবান্ধা স্থলবন্দরে আমদানি-রপ্তানি কার্যক্রম স্বাভাবিক থাকলেও আগের তুলনায় কিছুটা পাথর আমদানি কমে গেছে। পাথরের ক্ষেত্রে আগের তুলনায় আমদানি কমেছে বেশি। এর কারণ হচ্ছে ডলার সংকট। সাধারণ নির্বাচন শান্তিপূর্ণভাবে হয়েছে। আশা করছি বাংলাবান্ধায় স্থলবন্দরের আমদানি কমে যাওয়ায় যে সমস্যাটি তৈরি হয়েছে, তা নিরসন হয়ে স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসবে দেশের গুরুত্বপূর্ণ চারদেশীয় স্থলবন্দরটি।
