ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. এস জয়শঙ্করের আমন্ত্রণে আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি নয়াদিল্লি সফর করবেন পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. হাছান মাহমুদ। নতুন দায়িত্ব নেওয়ার পর এটি হবে তার প্রথম দ্বিপক্ষীয় সফর।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুপুরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে মন্ত্রী এ কথা জানান।
শপথ নিয়েই নতুন পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছিলেন, ভারত সফর দিয়েই তিনি দ্বিপক্ষীয় সফর শুরু করতে চান।
সংবাদ সম্মেলনে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আমি ৭ ফেব্রুয়ারি ভারত সফরে যাচ্ছি; ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর আমন্ত্রণে। সফর তিন দিনের হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখনো সফরসূচি চূড়ান্ত হয়নি।’
সফরে কী কী বিষয়ে আলোচনা হতে পারে এমন প্রশ্নের জবাবে হাছান মাহমুদ বলেন, ‘এখনো আলোচ্যসূচি প্রস্তুত হয়নি। তবে আমি ৭ ফেব্রুয়ারি যাচ্ছি।’ ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে সাক্ষাতের বিষয়টিও চূড়ান্ত হয়নি বলে জানান মন্ত্রী।
উগান্ডার রাজধানী কাম্পালায় জোটনিরপেক্ষ আন্দোলনের (ন্যাম) শীর্ষ সম্মেলনে যোগ দিতে বুধবার ঢাকা ছাড়ার প্রস্তুতি ছিল মন্ত্রীর। আবহাওয়াজনিত কারণে ফ্লাইট বাতিল হওয়ায় গতকাল রাতে ফের ঢাকা ছাড়ার কথা রয়েছে বলে জানান তিনি।
প্রসঙ্গত, কাম্পালায় ন্যাম সম্মেলনের ফাঁকে গতকাল ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রী জয়শঙ্করের সঙ্গে বৈঠকের কথা ছিল হাছান মাহমুদের। সেটি হচ্ছে না।
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন নিয়ে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) বক্তব্যের সমালোচনা করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বিজ্ঞজনরা বলছেন, বিএনপি এবং আর যারা নির্বাচন বর্জন করেছে, প্রতিহত করার চেষ্টা চালিয়েছে, এখনো নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার প্রয়াস চালাচ্ছে, তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দেওয়ার জন্যই টিআইবি এ প্রতিবেদন দিয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রিজভী সাহেব প্রতিদিন সংবাদ সম্মেলন করে যে কথাগুলো বলেন, সেগুলোই পরিশীলিতভাবে টিআইবি পরিবেশন করেছে। বিএনপি আর টিআইবির ভাষা মিলে গেছে। টিআইবির এ রিপোর্ট আসলে কার, সে প্রশ্ন করেছে অনেকে।’
মন্ত্রী বলেন, ‘টিআইবির একটি রিপোর্ট গণমাধ্যমে প্রকাশিত হয়েছে। টিআইবি বলে তাদের রিপোর্ট গবেষণালব্ধ। কিন্তু টিআইবি বেশিরভাগ ক্ষেত্রে কোনো গবেষণা না করে কিছু “শ্যালো” বিষয়ে কিছু পত্রিকার রিপোর্ট পড়ে তড়িঘড়ি করে তথ্য-উপাত্ত সংগ্রহ করে প্রেসব্রিফিং করে। গতকালেরটাও সে রকম; আমার এটাই মনে হয়েছে।’
টিআইবির রিপোর্টকে একপেশে ও পক্ষপাতদুষ্ট উল্লেখ করে নির্বাচন নিয়ে এর অভিযোগ খ-ন করে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘প্রতিটি আসনেই অবাধ, সুষ্ঠু ও উৎসবমুখর পরিবেশে নির্বাচন হয়েছে; নির্বাচন কমিশন এবার বলিষ্ঠভাবে তাদের সক্ষমতা প্রদর্শন করতে সক্ষম হয়েছে; আইনকানুন প্রয়োগ করেছে। অতীতে এমন নির্বাচন হয়েছে কি না, আমার মনে পড়ে না।’
উদাহরণ দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগের নৌকা মার্কার পাঁচজন প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে নির্বাচন কমিশন। এমনকি নির্বাচনের দিন বিকেল ৩টায় চট্টগ্রাম-১৬ আসনে আমাদের দলের নৌকা মার্কার প্রার্থীর প্রার্থিতা বাতিল করেছে। আমাদের দলের জ্যেষ্ঠ নেতা আমির হোসেন আমুকে নির্বাচন কমিশনে তলব করা হয়েছে এবং তিনি সেখানে গেছেন।’
তিনি বলেন, ‘শুধু তাই নয়, নির্বাচনের পরের দিন বর্তমান ধর্মমন্ত্রীকে কমিশন সমন দিয়েছিল, তিনি সেখানে গিয়ে ক্ষমাপ্রার্থনা করেছেন, এ কারণে যে, তিনি সিলটি গোপন কক্ষে না দিয়ে বাইরে দিয়েছিলেন। বিদ্যুতের খুঁটিতে বা দেয়ালে পোস্টার লাগানোর কারণেও কমিশন প্রার্থীদের নোটিস দিয়েছে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকেও নোটিস দিয়েছে।’
হাছান মাহমুদ বলেন, ‘কিন্তু এগুলোর প্রশংসা টিআইবির রিপোর্টে নেই। অথচ তারা নাকি গবেষণা করেছেন! মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইউরোপীয় ইউনিয়ন থেকে আসা পর্যবেক্ষক, ওআইসি, সার্ক, কমনওয়েলথভুক্ত দেশ থেকে যারা এসেছিল সবাই নির্বাচনের প্রশংসা করেছে। সবাই নির্বাচনের পর প্রধানমন্ত্রীকে অভিনন্দন জানিয়েছে। বিভিন্ন দেশ নতুন সরকারের সঙ্গে কাজ করার অভিপ্রায় ব্যক্ত করেছে। সেসবকে মøান করতেই টিআইবির প্রতিবেদন।’
টিআইবির সমালোচনা করলেও এ ধরনের সিভিল সোসাইটি প্রতিষ্ঠানের প্রয়োজনীয়তার কথা বলেন মন্ত্রী। বলেন, ‘এ ধরনের প্রতিষ্ঠানগুলো সরকারের ভুলত্রুটি তুলে ধরে, সরকারের সমালোচনা করে। আমরা তাদের সমাদর করার সংস্কৃতিটাই লালন করি। কিন্তু রিপোর্ট কারও পক্ষে হয়ে গেলে, উদ্দেশ্যপ্রণোদিত হলে সেটি রাষ্ট্র, সমাজ ও সরকার, কারোর উপকারে আসে না।’
টিআইবি যেন বিশেষ কোনো গোষ্ঠী বা নির্বাচনবিরোধী কিংবা গণতন্ত্রবিরোধী শক্তির মুখপাত্র না হয় সে আশা ব্যক্ত করেন মন্ত্রী।
টিআইবিকে সরকারের তরফ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে নোটিস করা হবে কি না জানতে চাইলে মন্ত্রী বলেন, ‘আমরা আশা করব, টিআইবি নিজেদের মর্যাদা ধরে রাখবে। তাদের সম্পর্কে যে ধারণা মানুষ আগে পোষণ করত, সেখান থেকে সরে গিয়ে তারা নির্বাচনবিরোধী, গণতন্ত্রবিরোধী অপশক্তির সহায়ক হিসেবে যেন কাজ না করে।’
গত ৭ জানুয়ারি দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে আওয়ামী লীগ নিরঙ্কুশ বিজয় অর্জন করে। ১১ জানুয়ারি প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে আওয়ামী লীগ সরকারের নতুন মন্ত্রিসভা শপথ নেয়। পররাষ্ট্রমন্ত্রীর দায়িত্ব পান হাছান মাহমুদ। আগে তিনি তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী ছিলেন।
