বিশ্বের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো নিরাপদ প্রাথমিক সম্পদ হিসেবে সোনার ওপর ফের আস্থা বাড়াচ্ছে। মহামারী ও যুদ্ধের অভিঘাতে সাম্প্রতিক সময়ে অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা বেড়ে যাওয়ায় মূল্যবান ধাতুটির মজুদও ক্রমেই বাড়তির দিকে। আর সম্পদশালী দেশগুলোই এ ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে। গত বছরের জুলাই থেকে সেপ্টেম্বর প্রান্তিকে হিসাব দিয়ে লন্ডনভিত্তিক ওয়ার্ল্ড গোল্ড কাউন্সিল (ডব্লিউজিসি) সম্প্রতি জানিয়েছে, বিশ্বে সোনা মজুদের ক্ষেত্রে সবার চেয়ে এগিয়ে আছে যুক্তরাষ্ট্র। ডব্লিউজিসির হিসাব মতে, দেশটির কেন্দ্রীয় ব্যাংকে ৮ হাজার ১৩৩ দশমিক ৪৬ টন বা ৭ কোটি ৩৭ লাখ ৮ হাজার ৫৫৩ কেজি সোনা মজুদ আছে। দ্বিতীয় স্থানে থাকা জার্মানির হাতে এর অর্ধেক সোনাও নেই।
ডব্লিউজিসির তথ্য অনুযায়ী, যুক্তরাষ্ট্রের পরে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ সোনা মজুদ আছে ইউরোপের দেশ জার্মানির কাছে। দেশটির মজুদ প্রায় ৩ হাজার ৩৫৩ টন। জার্মানির পর তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে ইউরোপের আরেক দেশ ইতালি। দেশটির রয়েছে প্রায় ২ হাজার ৪৫২ টন সোনা। এর কাছাকাছি অবস্থা ফ্রান্সের। এই দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে আছে ২ হাজার ৪৩৭ টন সোনা। এরপর বেশি সোনা আছে রাশিয়ার কেন্দ্রীয় ব্যাংকে। রুশ কেন্দ্রীয় ব্যাংকের হাতে আছে ২ হাজার ৩৩৩ টন সোনা। তালিকায় পরের দেশ হলো চীন। চীনের কাছে আছে ২ হাজার ১৯২ টনের বেশি সোনা। এরপর ১ হাজার টনের বেশি সোনা আছে সুইজারল্যান্ডে।
ডব্লিউজিসির এই তালিকায় অষ্টম, নবম ও দশম অবস্থানে যথাক্রমে জাপান, ভারত ও নেদারল্যান্ডসের নাম রয়েছে। জাপানের আছে ৮৪৬, ভারতের আছে প্রায় ৮০১ আর নেদারল্যান্ডসের আছে ৬১২ টনের মতো।
অর্থনীতিবিদরা মনে করেন, একটি দেশের অর্থনীতি স্থিতিশীল অবস্থায় রয়েছে, নাকি কোনো বিপদের মুখোমুখি হতে যাচ্ছে, তা নির্ধারণে সোনার মজুদ বিশেষ ভূমিকা রাখে। বিশেষত অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তার সময় তা আরও গুরুত্বপূর্ণ হয়ে ওঠে। ১৮ শতকের শেষের দিকে ও পরবর্তী শতকের উল্লেখযোগ্য সময় জুড়ে বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সরকার রিজার্ভ বহুমুখীকরণের জন্য সোনা মজুদ রাখে। তবে গত শতকের সত্তরের দশকে এই ব্যবস্থা আনুষ্ঠানিকভাবে বাদ দেওয়া হয়। এরপরও অনেক দেশ এখনো সোনার মজুদ করে চলেছে।
