রাজরোষে মতপ্রকাশ!

আপডেট : ২০ জানুয়ারি ২০২৪, ১২:৫৬ এএম

থাইল্যান্ডের সাংবিধানিক রাজতন্ত্রের বিরুদ্ধে সমালোচনামূলক বক্তব্য দেওয়ার কারণে একটি আদালত মঙ্গকোল থিরাকোট নামের এক ব্যক্তিকে ৫০ বছরের কারাদন্ডাদেশ দিয়েছে। বর্তমান রাজা মাহা ভাজরালংকর্ন এবং রাজতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রতি বিদ্বেষপূর্ণ মন্তব্যের দায়ে প্রায়ই সাজা দেওয়ার ঘটনা দেখা যায়। গত বুধবার এক আইনজীবীকে একই আইনে কারাদন্ড দেওয়া হয়। থাইল্যান্ডে মতপ্রকাশ, অধিকতর গণতন্ত্র ও সামরিক রক্ষণশীলতার বিরুদ্ধে উঠে আসা কণ্ঠস্বর দমনের হাতিয়ার হিসেবে রাজদ্রোহিতার আইনের ব্যবহার হচ্ছে যথেচ্ছা।

গতকাল শুক্রবার আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলো জানায়, তিন বছর আগে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টের কারণে ৩০ বছর বয়সী মঙ্গকোল থিরাকোটকে প্রথমে আদালত ২৮ বছরের কারাদন্ড দেয়। পরে এর বিরুদ্ধে তিনি আপিল  করলে আদালত সাজা আরও ২২ বছর বাড়িয়ে দেয়। গত বুধবার থাইল্যান্ডের আদালত ২০২১ সালে দেওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পোস্টে রাজতন্ত্রকে অপমান করার দায়ে অ্যারনন নাম্পা নামের ৩৯ বছর বয়সী আইনজীবীকে চার বছরের কারাদন্ড দেয়। ২০২০ সালের পোস্টের কারণে একই আইনে তিনি এরই মধ্যে চার বছরের সাজা ভোগ করছেন। অ্যারননকে কারাদন্ড দেওয়ার পর থাইল্যান্ডের মানবাধিকারসংক্রান্ত আইনজীবীদের সংগঠন জানায়, ২০২০ সালের পর রাজদ্রোহিতার বিতর্কিত আইনে প্রায় ২৬২ জনকে সাজা দেওয়া হয়েছে।

থাইল্যান্ডের গণতান্ত্রিক অভিযাত্রার পথে বারবার প্রতিবন্ধকতা তৈরি করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী। বিশ্লেষকরা বলে আসছেন, থাই রাজনীতিতে সামরিক শাসক এবং রক্ষণশীলরা সব সময় রাজতন্ত্রের প্রতি আবেগকে অবলম্বন করে স্বার্থ হাসিল করেছে। আবার রাজতন্ত্রও অস্তিত্ব রক্ষার্থে রক্ষণশীল গোষ্ঠী ও সামরিক বাহিনীকে অবলম্বন করেছে।

গত বছরের মাঝামাঝি সাধারণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে ১০ বছরের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সামরিক শাসনের বিদায় হয়। এতে মুভ ফরোয়ার্ড পার্টি (এমএফপি) এই ‘কালো আইন’ সংস্কারের পক্ষে প্রচার চালিয়ে সর্বাধিক আসন লাভ করলেও সেনানিয়ন্ত্রিত আইনসভার সমর্থনের অভাবে সরকার গঠন করতে পারেনি দলটি। এখন শোনা যাচ্ছে, রাজদ্রোহিতার বিধান সংস্কারের দাবি থেকে না সরলে দলটিকে নিষিদ্ধ করা হতে পারে। মূলত থাই রাজনীতিতে সংস্কারপন্থিদের উৎখাত করতে বারবারই রাজনৈতিক দল নিষিদ্ধের হাতিয়ার ব্যবহার করা হয়েছে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত