বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআরটিএ) রাজশাহী সার্কেল কার্যালয়ে আকস্মিক অভিযান চালিয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। রবিবার সকাল থেকে দুপুর পর্যন্ত এই অফিসে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানের সময় দুদক কর্মকর্তারা এই অফিস থেকে বেশকিছু নথিপত্র জব্দ করেন। এছাড়া দুদক কর্মকর্তারা বিআরটিএর কর্মকর্তা-কর্মচারী ও সেবাপ্রত্যাশীদের সঙ্গে কথা বলেন।
রবিবার বেলা ১১টা থেকে দুপুর দেড়টা পর্যন্ত দুদকের অভিযান চলে। অভিযানে নেতৃত্ব দেন দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপ-সহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসাইন। এ সময় জেলা কার্যালয়ের অন্য কর্মকর্তারাও ছিলেন।
দুদক কর্মকর্তা সাজ্জাদ হোসাইন জানান, তাদের কাছে অভিযোগ ছিল রাজশাহী বিআরটিএ অফিসের কতিপয় কর্মকর্তাকে ঘুষ না দিলে অনেককেই ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয়। এমন অভিযোগের ভিত্তিতে আজ অভিযান চলে।
দুদকের সমন্বিত জেলা কার্যালয়ের উপসহকারী পরিচালক সাজ্জাদ হোসাইন আরও বলেন, দুদক কমিশনেও অভিযোগ গেছে যে, এখানে ঘুষ না দিলে ড্রাইভিং লাইসেন্সের পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয়। কমিশনের নির্দেশনা মোতাবেক এই অভিযান চালানো হয়। এ সময় বেশকিছু ড্রাইভিং লাইসেন্সের আবেদনের নথিপত্রও জব্দ করা হয়। এই লাইসেন্স প্রত্যাশীদের সঙ্গে শিগগিরই যোগাযোগ করে জানতে চাওয়া হবে তারা ঘুষ দিয়েছেন কি না। এর সত্যতা পাওয়া গেলে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনে প্রতিবেদন দেওয়া হবে।
আর প্রথম দিনের অভিযানে তারা যেসব অভিযোগ পেয়েছেন তা দিয়ে কমিশনে আরেকটি প্রতিবেদন পাঠাবেন।
রাজশাহী বিআরটি কর্মকর্তাদের ঘুষ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘যে কোনো সরকারি সেবাদানকারী প্রতিষ্ঠানের যে কারও বিরুদ্ধেই অভিযোগ উঠতে পারে। অভিযোগ পেলে তার সত্যতা খুঁজে দেখবে দুদক। অভিযোগ তদন্তের পর তার সত্যতা পেলে অবশ্যই ব্যবস্থা নেবে, না হলে নয়।’
এদিকে অভিযোগের বিষয়ে বিআরটিএর রাজশাহী সার্কেলের সহকারী পরিচালক (এডি) মোশারফ হোসেন বলেন, ঘুষ না দিলে পরীক্ষায় ফেল করিয়ে দেওয়া হয় এমন অভিযোগ অমূলক। এটা সত্য নয়। প্রতিটা পরীক্ষার সময়ই জেলার অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট ও সিভিল সার্জনের একজন করে প্রতিনিধি থাকেন। তারা তাদের সহযোগিতা করেন। যেটা হয় তা হলো প্রত্যন্ত অঞ্চল থেকে কেউ ড্রাইভিং লাইসেন্স করার জন্য বের হলেই তাকে মধ্যস্বত্ত্বভোগীদের কেউ ধরে ফেলে। তারা এই প্রতিষ্ঠানের কর্মকর্তাদের নাম ভাঙায়। আর অফিসেও কিছু ত্রুটি-বিচ্যুতি থাকতে পারে। তবে তারা বুঝতে পারলেই সঙ্গে সঙ্গে তার বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়ে থাকেন।
