তামিমের রেকর্ডের রাতে মুশি ঝড় আছড়ে পড়ল খুলনায়

আপডেট : ২২ জানুয়ারি ২০২৪, ০৮:২৩ পিএম

রেকর্ডের জন্য ৩৫ রান প্রয়োজন ছিল তামিম ইকবালের। সেটার চেয়ে ৫ রান বেশি করেই ফিরে গেছেন তিনি। তাতে বিপিএলের প্রথম ব্যাটসম্যান হিসেবে তিন হাজার রানের মাইলফলক স্পর্শ করেছেন। তার বিদায়ের পর মুশফিকুর রহিম শুরু করেছেন ঝড়। সঙ্গী হিসেবে পেয়েছিলেন মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে। শেষ পর্যন্ত তার ব্যাটিং ঝড় গিয়ে আছড়ে পড়ল খুলনাতে। ঝড়ো ফিফটিতে ফরচুন বরিশালকে ১৮৭ রানের বিশাল পুঁজি এনে দিয়েছেন এই উইকেটকিপার ব্যাটসম্যান।

ফরচুন বরিশালে খেলা বাংলাদেশ জাতীয় দলের সব ব্যাটারই আজ ছিলেন মারকুটে মেজাজে। তামিম-সৌম্যর পর মুশফিক-মাহমুদউল্লাহ তুলোধুনো করলেন খুলনা টাইগার্সের বোলারদের। মুশফিক যখন দলীয় ইনিংস শেষ করে মাঠ ছাড়েন, তখন তার নামের পাশে ৬৮ রান, ৩৯ বলে। ৫ চার ও ৪ ছক্কায় এমন অতিমানবীয় ইনিংসটা মিরপুরের দর্শকদের উপহার দেন অভিজ্ঞ মুশফিক।

টস হেরে ব্যাট করতে নেমে শুরুতে নাহিদুল ইসলামের স্পিন ঘূর্ণি সামলাতে বেশ কষ্টই পেতে হয় তামিম ইকবাল, ইব্রাহিম জাদরানকে। ইনিংসের প্রথম ওভারে কেবল ১ রান খরচ করেন আগের ম্যাচের ম্যাচসেরা নাহিদুল। ওশানে থমাস দ্বিতীয় ওভারে এসে দেন ৫ রান। নাহিদুল নিজের দ্বিতীয় ওভার করতে এসে ৭ রান দিলেও সাফল্য ধরতে পারছেন না।

তবে খুলনা টাইগার্স ব্রেকথ্রু পায় ওশানে থমাসের হাতে। লাফিয়ে ওঠা বাউন্সারে ব্যাট ছুঁয়ে যায় উইকেটকিপারের গ্লাভসে। ব্যক্তিগত ১১ রানে ইব্রাহিম ফিরলে ভাঙে ১৪ রানের উদ্বোধনী জুটি। তিনে নামা সৌম্য সরকার এদিন দেখালেন তাণ্ডব, কনকনে শীতের রাতে যেন মিরপুরে চার, ছক্কার ঝড়।

নিজের চেনা ছন্দে থাকা সৌম্য যেন অতি সুন্দর। নিজের মোকাবিলা করা দ্বিতীয় বলেই আপার কাটে পেলেন ছয়। আগের দুই ওভারে মাত্র ৮ রান দেওয়া নাহিদুল তৃতীয় ওভারে এসে খরচা করেন ১৩ রান। তামিম মারেন জোড়া বাউন্ডারি, সৌম্যর ব্যাট থেকে এই ওভারে আসে ১ চার। পাওয়ার প্লের শেষ ওভারে ফাহিম আশরাফকে ১১ রান নিয়ে বরিশালের স্কোরবোর্ডে মোট ৪৪ রান।

তবে মিরপুরে এই শীতের রাতে সৌম্য ঝড় থাকেনি বেশিক্ষণ। দুর্ভাগ্যজনকভাবে সৌম্য হয়েছেন রান আউট। থামে তার ১০ বলে খেলা ২২ রানের ইনিংস। সৌম্যকে ফেরাতে ডিরেক্ট থ্রোতে বাজিমাত করেন খুলনার ফিল্ডার হাবিবুর রহমান সোহান। দলীয় ৬০ রানে সৌম্য ফেরার পর ফরচুন বরিশালের ইনিংস হয়ে যায় কিছুটা ধীরগতির।

নিজের প্রথম ওভারের মতো শেষ ওভারেও নাহিদুল করলেও চোখ ধাঁধানো বোলিং। প্রথম ৪ ডেলিভারি ডট বানিয়ে শেষ দুই বলে দেন দুই সিঙ্গেল। ৪ ওভারে মোট ২৩ রান খরচ করেও এদিন তাকে থাকতে হয় উইকেটশূন্য।

নাসুম আহমেদ অ্যাকশনে এসেই খরচ করেন ১৫ রান, ওভারে দেন জোড়া ওয়াইড। দারুণ সব স্ট্রোক্সে তামিমের রান যখন ৪০, আগের ম্যাচের মতোই করলেন ভুল। স্লগসুইপ করতে গিয়ে হয়েছেন টপ এজে ক্যাচ। ৩৩ বলে ৫ চারে এই ইনিংস সাজিয়ে যান বরিশালের ক্যাপ্টেন। ভাঙে মুশফিকের সাথে গড়া ৫৭ রানের জুটি।

এরপর মাহমুদউল্লাহ রিয়াদকে সাথে নিয়ে দলের সংগ্রহ বড় করতে থাকেন মুশফিক। এই জুটিতে বরিশালের স্কোরবোর্ডে যোগ হয় আরও ৫৪ রান, যা আসে কেবল ৩২ বলে। মুশফিক ৩২ বলে পঞ্চাশ ছুঁয়ে ইনিংসের শেষ পর্যন্ত অপরাজিত থাকেন ৬৮ রানে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত