খিচুড়ি নয়, ডিম-দুধ-রুটি পাবে প্রাথমিকের শিক্ষার্থীরা

আপডেট : ২৩ জানুয়ারি ২০২৪, ০৩:২৯ পিএম

প্রাথমিক বিদ্যালয়ে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবারে (মিড–ডে মিল) খিচুড়ির পরিবর্তে এবার দুধ, ডিম, রুটি দেওয়ার প্রস্তাব করেছে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। পরীক্ষামূলকভাবে দেশের ১৫০ উপজেলার ১৯ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে বৈচিত্র্যময় খাবার দিতে এই পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে।

নতুন প্রকল্প প্রস্তাবে সপ্তাহে পাঁচ দিন শিক্ষার্থীদের মিড-ডে মিল দেওয়ার কথা বলা হয়েছে। তাতে দুই দিন ডিম-পাউরুটি, এক দিন দুধ-পাউরুটি, এক দিন শুধু বিস্কুট ও এক দিন মৌসুমি ফলের সঙ্গে অন্য খাবার দেওয়া হবে। এই প্রকল্প সফল হলে সারা দেশে এ কর্মসূচি চালু করা হবে।

প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর এর আগে ‘প্রাইমারি স্কুল মিল’ নামের বিতর্কিত আরেকটি প্রকল্প পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছিল। প্রকল্পটিতে শিক্ষার্থীদের দুপুরের খাবার খাওয়ানোর বিপরীতে কর্মকর্তাদের ব্যয়ই ছিল মুখ্য বিষয়। সে প্রকল্পের অধীনে ‘খিচুড়ি রান্না’ শিখতে বিদেশ যেতে চেয়েছিলেন বেশ কিছু কর্মকর্তা। পরে গণমাধ্যমে খবর প্রকাশিত হলে নানা সমালোচনার পর জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির সভায় (একনেক) সেটি বাদ দেওয়া হয়।

পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, নতুন প্রকল্পের ব্যয়ে প্রায় ৮৮ শতাংশই ব্যয় হবে শিক্ষার্থীদের খাবার খাওয়ানোর কর্মসূচিতে। ৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকার মধ্যে গোডাউন, খাবার বিতরণ, পরিবহন, সার্ভিস চার্জ ও প্যাকেজিং ফি ব্যবস্থাপনায় ব্যয় হবে ২৮২ কোটি ৬০ লাখ টাকা, যা প্রকল্প ব্যয়ের ৫ দশমিক ৯৪ শতাংশ।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে পরিকল্পনা কমিশনের সংশ্লিষ্ট একজন কর্মকর্তা দেশ রূপান্তরকে জানান, প্রকল্প প্রস্তাবে (ডিপিপি) প্রকল্পের আওতায় ১৫০টি বিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীদের সুনির্দিষ্ট কোনো সংখ্যা উল্লেখ করা হয়নি। পিইসি সভায় এর ব্যাখ্যা চাইবে কমিশন।

তিনি জানান, এই ডিপিপিতে ১টি জিপ ১ কোটি ৪৫ লাখ, তিনটি মাইক্রোবাস ১ কোটি ৫৬ লাখ ও ১৫০টি মোটরসাইকেল বাবদ ২ কোটি ১০ লাখ টাকা ব্যয় ধরা হয়েছে। এ ব্যয়ে আপত্তি জানাবে কমিশন। কমিশনের যুক্তির আগে শেষ হওয়া ‘দারিদ্র্যপীড়িত স্কুল ফিডিং কর্মসূচি’ শীর্ষক প্রকল্পে দুটি যানবাহন ও অন্যান্য অফিস সরঞ্জাম অন্তর্ভুক্ত ছিল। সেসব যানবাহন ও সরঞ্জামের বর্তমান অবস্থা কী, সেগুলো এ প্রকল্পের অধীনে রাখা হয়েছে কি না, বর্তমান যানবাহনগুলোর ব্যয়ের ভিত্তি কী, সেসব বিষয়ে জানতেই চাইবে পরিকল্পনা কমিশন।

এ প্রকল্পে ব্যয় প্রাক্কলন করা হয়েছে ৪ হাজার ৭৫৯ কোটি টাকা, এর মধ্যে মাত্র ৬৪ কোটি টাকা অনুদান দেবে ওয়ার্ল্ড ফুড প্রোগ্রাম (ডব্লিউএফপি)। বাকি ৪ হাজার ৯৯৫ কোটি টাকা সরকারের অর্থায়ন। প্রকল্পটি অনুমোদন পেলে ২০২৬ সালের জুনে শেষ হবে। তিন বছরে ৩৫ লাখ শিক্ষার্থীকে খাদ্য কর্মসূচির আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট অধিদপ্তর।

প্রকল্পের নথিপত্র থেকে দেখা যায়, এ প্রকল্পের আওতায় খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটায় ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকা, যা মোট প্রকল্পের প্রায় ৮৮ ভাগ। এ ছাড়া ঠিকাদার নিয়োগ, গুদাম, পরিবহন, সার্ভিস চার্জ, খাদ্য বিতরণ ও প্যাকেট করার খরচ ধরা হয়েছে ২৮৩ কোটি টাকা। এ কর্মসূচি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকবেন ২১ হাজার কর্মী। তাঁদের সম্মানী ভাতা বাবদ ৪০ কোটি টাকা প্রস্তাব করা হয়েছে। এ ছাড়া অ্যাপ্রোন ও রুমাল কেনাকাটায় খরচ ধরা হয়েছে ৩০ কোটি টাকা।

তবে কিসের ভিত্তিতে খাদ্যসামগ্রী কেনাকাটায় ৪ হাজার ১৮১ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হলো এবং কিসের ভিত্তিতে ১৫০ উপজেলার প্রাথমিক বিদ্যালয় নির্ধারণ করা হলো, তা নিয়ে প্রশ্ন আছে পরিকল্পনা কমিশনের।

স্কুলে শিক্ষার্থীদের বিকল্প খাবার কী দেওয়া যায়, তা নিয়ে একটি সমীক্ষা করে প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তর। তাতে শিক্ষার্থীরা দুধ, পাউরুটি, ডিমের ওপর জোর দেয়। প্রস্তাবিত প্রকল্পের প্রথম পর্যায়ের মেয়াদ তিন বছর। পরে মেয়াদ বাড়ানো হবে।

×
সর্বশেষ সর্বাধিক পঠিত